লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৯ মিনিট
প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বিনা অপরাধে নাগরিকের জমি দখল বা বাড়ি উচ্ছেদ, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র আটকে রাখা, বেআইনি গ্রেপ্তার অথবা সরকারি সিদ্ধান্তে অবিচারের শিকার হলে সাধারণ আদালত যখন দ্রুত কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারে না, তখন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে 'রিট পিটিশন' (Writ Petition) দায়ের করাই একমাত্র চূড়ান্ত সাংবিধানিক হাতিয়ার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় রিটের প্রকারভেদ, রিট দায়েরের আইনি শর্ত ও খরচের বাস্তবতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর বিস্তারিত দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো। সুপ্রিম কোর্ট রিট মামলার আইনি পরামর্শে যোগাযোগ করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২-৬৫৫৫৪৬</a>।
ইংরেজি 'Writ' শব্দের বাংলা অর্থ হলো লিখিত আদেশ বা ফরমান। যখন কোনো সরকারি বা আধা-সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আদালত তাদের আইনগত সীমার বাইরে গিয়ে কোনো বেআইনি কাজ করে অথবা আইনগত দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে, তখন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ (Article 102 of Bangladesh Constitution)-এর ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করে যে আবেদন করেন, তাকেই রিট পিটিশন (Writ Petition) বলা হয়।
রিট মামলার বিবাদী সাধারণত কোনো ব্যক্তি নন, বরং রাষ্ট্র, মন্ত্রণালয়, পুলিশ, ওয়াসা, তিতাস, রাজউক বা সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন।
বাস্তব জীবনে যেসব কারণে নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি রিট ফাইল করে থাকেন:
| রিটের নাম | আক্ষরিক অর্থ | কখন প্রযোজ্য? |
|---|---|---|
| ১. Habeas Corpus | বন্দিকে হাজির করো | কাউকে অবৈধভাবে পুলিশ বা কোনো সংস্থা আটক রাখলে আদালতে হাজির করার আদেশ। |
| ২. Mandamus | পরমাদেশ বা আদেশ দেওয়া | কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন না করলে তা করার নির্দেশ। |
| ৩. Prohibition | নিষেধাজ্ঞা | কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে বিচার শুরু করলে তা বন্ধের নির্দেশ। |
| ৪. Certiorari | উৎপ্রেষণ বা বাতিল | কোনো কর্তৃপক্ষের বেআইনি বা এখতিয়ারহীন আদেশ সরাসরি বাতিল ঘোষণা। |
| ৫. Quo-Warranto | কোন কর্তৃত্বে বা অধিকারে | কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে কোনো সরকারি পদে বসে থাকলে তার বৈধতা যাচাই। |
হাইকোর্টে রিট ফাইল করলেই আদালত তা গ্রহণ করবেন না। রিট টিকিয়ে রাখতে ৩টি শর্ত প্রমাণ করতে হয়:
হাইকোর্টে রিটের প্রক্রিয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুতগতির:
সরকারি কোর্ট ফি খুব সামান্য (পিটিশন প্রতি নির্দিষ্ট ফি ২০ বা ১০০ টাকার স্ট্যাম্প)। তবে হাইকোর্টে রিট ফাইলিং, এফিডেভিট, বুকলেট প্রিন্টিং, প্রসেস ফি এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের শুনানির ফি বিষয়ের গুরুত্ব ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
রিটের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মোশন শুনানির প্রথম দিনেই আদালত থেকে স্টে অর্ডার (Stay Order) বা স্থিতাবস্থা পাওয়া যায়। যেমন—আপনার জমিতে সরকারি বুলডোজার আসা সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়, অথবা চাকরিচ্যুতির আদেশ স্থগিত থাকে। এর ফলে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপনার অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
প্রশাসনিক অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রিট একটি অব্যর্থ হাতিয়ার। রিট ড্রাফটিংয়ে সামান্য অসাবধানতায় মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে। আমাদের চেম্বার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে রিট পিটিশন অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। আপনার সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
সাধারণত না। রিট পিটিশন দায়ের করতে হয় রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (যেমন রাজউক, সিটি কর্পোরেশন) বা পাবলিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে ব্যক্তিগত বিষয়ে যদি রাষ্ট্রের যোগসাজশ বা বেআইনি আদেশ জড়িত থাকে, তবে তাদের বিবাদী করে রিট করা যায়।
হ্যাঁ। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে (Appellate Division) সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (CP) দায়ের করতে পারেন।
না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রিট পিটিশন গ্রহণ ও আদেশের একক এখতিয়ার কেবল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের। জেলা পর্যায়ের কোনো জজ আদালতের রিটের এখতিয়ার নেই।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও যদি কোনো কর্তৃপক্ষ তা অমান্য করে, তবে সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে 'আদালত অবমাননা' (Contempt of Court Petition under Article 108) মামলা করা যায়, যার শাস্তি জেল ও চাকরিচ্যুতি।