আরএস ও বিএস খতিয়ানে নাম ভুল হলে সংশোধনের নিয়ম ও দেওয়ানি মামলা ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06 · ১৬ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>জমিজমার ক্ষেত্রে খতিয়ান বা রেকর্ড অব রাইটস (Record of Rights - ROR) হলো মালিকানার সবচেয়ে জীবন্ত ও শক্তিশালী দলিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে জরিপ চলাকালীন সার্ভেয়ারদের অসততা, স্থানীয় দালালের কারসাজি কিংবা রেকর্ডিং কর্মীদের চরম অবহেলার কারণে আমাদের দেশে হাজার হাজার বৈধ মালিকের জমি অন্যের নামে বিএস (BS) বা আরএস (RS) খতিয়ানে রেকর্ড হয়ে যায়। বাবার কেনা জমি হঠাৎ দেখা যায় প্রতিবেশীর নামে রেকর্ড হয়ে গেছে, কিংবা নিজের নামের বানানে এমন বিকৃতি এসেছে যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি করতে গেলে ফাইল বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। জমির মালিকের মনে তখন চরম আতঙ্ক ভর করে—<em>"খতিয়ানে নাম ভুল আসলে কীভাবে সংশোধন করব? আমি কি এসি ল্যান্ড অফিসে আবেদন করব, নাকি দেওয়ানি আদালতে মামলা করব? এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত হওয়ার পর এখন কোন আদালতে যেতে হবে?"</em> রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ (SAT Act)-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এসি ল্যান্ডের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন এবং দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও রেকর্ড সংশোধনের সম্পূর্ণ নির্ভুল আইনি রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো। বিশেষ আইনি সহযোগিতায়: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · ভূমি ও নামজারি আইনজীবী উত্তরা ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টালmutation.land.gov.bd, land.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd
মোট সরকারি নামজারি ফি১,১৭০ টাকা (কোর্ট ফি ২০ + নোটিশ ৫০ + রেকর্ড সংশোধন ১,০০০ + খতিয়ান ১০০ টাকা)
নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সাধারণত ২৮ কার্যদিবস (প্রবাসীদের জন্য দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ ব্যবস্থা)
ভূমি সেবা হটলাইন১৬১২২ (কল সেন্টার) — ২৪ ঘণ্টা সরকারি ভূমি তথ্য ও অভিযোগ
অনলাইন খতিয়ান ও ডিসিআরঅনলাইন পেমেন্টের পর কিউআর কোডযুক্ত ই-খতিয়ান ও DCR ডাউনলোড
⚡ খতিয়ান সংশোধন — একনজরে মূল আইনি তথ্য
  • খতিয়ানে কেবল নামের বানান বা সামান্য করণিক ভুল (Clerical Mistake) থাকলে এসি ল্যান্ড অফিসে ১৪৪খ ধারায় মিস কেস (Misc Case) করে সহজেই সংশোধন করা যায়।
  • অন্যের নামে খতিয়ান রেকর্ড হয়ে গেলে এবং মূল স্বত্ব বা মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি স্বত্ব ঘোষণা ও খতিয়ান সংশোধনের মোকদ্দমা করতে হবে।
  • ২০২৩ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ঐতিহাসিক সংশোধনী অনুযায়ী পূর্বে অকার্যকর থাকা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সমস্ত ক্ষমতা এখন সাধারণ দেওয়ানি আদালতের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
  • দেওয়ানি আদালতের রায় ও ডিক্রির সার্টিফাইড কপি দাখিল করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বের ভুল খতিয়ান বাতিল করে বাদীর নামে নতুন সংশোধিত রেকর্ড খতিয়ান সৃজন করতে বাধ্য।
  • জমি যার দখলে আছে এবং যার দলিল বৈধ, কেবল খতিয়ানে অন্যের নাম থাকার কারণে তার মালিকানা কখনো নষ্ট হয় না।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. খতিয়ান কী এবং আরএস ও বিএস খতিয়ানে সাধারণত কী কী ভুল হয়?
  2. ২. জরিপের বিভিন্ন ধাপ: খসড়া চলাকালে ৩০ ও ৩১ ধারায় আপত্তি নিষ্পত্তির সুযোগ
  3. ৩. চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন: এসি ল্যান্ডের ক্ষমতা (ধারা ১৪৪খ)
  4. ৪. অন্যের নামে সম্পূর্ণ জমি রেকর্ড হয়ে গেলে কি এসি ল্যান্ড সংশোধন করতে পারেন?
  5. ৫. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) বিলুপ্তি ও নতুন আইন ২০২৩: দেওয়ানি আদালতের পূর্ণ এখতিয়ার
  6. ৬. বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে খতিয়ান সংশোধন ও স্বত্ব ঘোষণার মামলা পদ্ধতি
  7. ৭. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা ও দেওয়ানি ডিক্রির কার্যকারিতা
  8. ৮. দেওয়ানি মামলায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দলিলের ধারাবাহিক লিংক (Chain of Title)
  9. ৯. আদালতের ডিক্রি পাওয়ার পর এসি ল্যান্ড অফিসে রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়া
  10. ১০. সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের যুগান্তকারী নজির (DLR Reference)
  11. ১১. খতিয়ান সংশোধন মামলার জন্য জমির মালিকের চূড়ান্ত চেকলিস্ট
  12. ১২. অভিজ্ঞ দেওয়ানি ও ভূমি রেকর্ড বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

১. খতিয়ান কী এবং আরএস ও বিএস খতিয়ানে সাধারণত কী কী ভুল হয়?

খতিয়ান হলো সরকারের ভূমি জরিপ বিভাগ কর্তৃক সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রস্তুতকৃত একটি সরকারি মালিকানা তালিকা। এতে জমির মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, হিস্যা বা অংশ, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি এবং রাজস্বের পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকে।

জরিপ কর্মীদের গাফিলতি বা প্রতিপক্ষের যোগসাজশে সাধারণত দুই ধরনের মারাত্মক ভুল হয়:

  • ১. করণিক বা মুদ্রণজনিত ভুল (Clerical / Typographical Error): মূল মালিক ঠিক আছেন কিন্তু নামের বানানে ভুল, পিতার নামে ভুল, বা দাগ নম্বরের ডিজিটে ভুল উঠেছে।
  • ২. মূল স্বত্ব বা স্বত্বাধিকারের ভুল (Substantive Error of Title): আসল মালিককে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে অন্য কোনো জালিয়াত বা প্রতিবেশীর নামে খতিয়ান তৈরি হয়ে গেছে।

২. জরিপের বিভিন্ন ধাপ: খসড়া চলাকালে ৩০ ও ৩১ ধারায় আপত্তি নিষ্পত্তির সুযোগ

জরিপ চলাকালীন ভুল ধরা পড়লে সবচেয়ে সহজে সংশোধন করা যায়। ভূমি জরিপ চলাকালে তসদিক (Attestation) শেষে যখন খসড়া খতিয়ান প্রকাশিত হয়, তখন প্রজাস্বত্ব বিধিমালার ৩০ ধারা অনুযায়ী তসদিক অফিসারের নিকট আপত্তি (Objection) দাখিল করা যায়। ৩০ ধারার আদেশে ক্ষুব্ধ হলে ৩১ ধারা অনুযায়ী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আপিল করা যায়। এই ধাপে সংশোধন করা গেলে পরবর্তীতে আর কোনো আদালতের ঝামেলা থাকে না। কিন্তু গেজেট প্রকাশিত হয়ে গেলে তখন আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়।

৩. চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন: এসি ল্যান্ডের ক্ষমতা (ধারা ১৪৪খ)

গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত বিএস বা আরএস খতিয়ানে যদি কেবল মুদ্রণজনিত, করণিক বা গাণিতিক ভুল থাকে, তবে স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০-এর ১৪৪খ ধারা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসি ল্যান্ডের নিকট মিস কেস (Misc Case) দায়ের করতে হয়।

এসি ল্যান্ড পূর্ববর্তী সিএস ও আরএস রেকর্ড, মূল সাফ-কবলা দলিল এবং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেখে আদেশের মাধ্যমে খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন করে শুদ্ধ খতিয়ান ইস্যু করার নির্দেশ দেন।

৪. অন্যের নামে সম্পূর্ণ জমি রেকর্ড হয়ে গেলে কি এসি ল্যান্ড সংশোধন করতে পারেন?

অনেকেই এই মারাত্মক ভুলটি করেন। অন্যের নামে রেকর্ড হওয়া জমি সংশোধনের জন্য এসি ল্যান্ড অফিসে বছরের পর বছর ঘুরে সময় নষ্ট করেন।

🚫 এসি ল্যান্ডের বিচারিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে স্বত্ব (Title) বা জমির মূল মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং এক পক্ষের জমি সম্পূর্ণ অন্য পক্ষের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে, সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র কোনো ক্ষমতা নেই পূর্বে প্রকাশিত সরকারি খতিয়ান বাতিল করার। এসি ল্যান্ড কেবল করণিক ভুল ঠিক করতে পারেন। মূল মালিকানা নির্ধারণের একক আইনগত এখতিয়ার কেবল দেশের উপযুক্ত সিভিল কোর্ট বা দেওয়ানি আদালতের হাতে ন্যস্ত।

৫. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) বিলুপ্তি ও নতুন আইন ২০২৩: দেওয়ানি আদালতের পূর্ণ এখতিয়ার

অতীতে খতিয়ান সংশোধনের জন্য প্রতিটি জেলায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) ছিল। কিন্তু বিচারক সংকট এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকার কারণে লক্ষ লক্ষ মামলা বছরের পর বছর অচল হয়ে পড়েছিল।

এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 প্রণয়ন করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সমস্ত মামলা ও এখতিয়ার সরাসরি স্থানীয় সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে অর্পণ করেছে। এর ফলে এখন সাধারণ মানুষ নিজ উপজেলা ও জেলার নিয়মিত দেওয়ানি আদালতেই খতিয়ান সংশোধনের দ্রুত ও কার্যকর বিচার পাচ্ছেন।

৬. বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে খতিয়ান সংশোধন ও স্বত্ব ঘোষণার মামলা পদ্ধতি

যদি আপনার জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে থাকে, তবে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি স্বত্ব মামলা দায়ের করতে হয়।

মামলা দায়েরের নিয়মাবলী:

  • আরজি ড্রাফট: আরজিতে সিএস থেকে শুরু করে আরএস পর্যন্ত মালিকানার বৈধ ধারাবাহিকতা এবং বিএস জরিপে কীভাবে ভুলবশত বিবাদীর নাম উঠেছে তা নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে হবে।
  • বিবাদী পক্ষকরণ: যার নামে ভুল খতিয়ান হয়েছে তাকে মূল বিবাদী করতে হবে এবং জেলা প্রশাসক (DC) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সরকারি পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • আদালতের প্রার্থনা: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারায় বাদীর স্বত্ব ঘোষণা এবং বিএস খতিয়ানটি অবৈধ, অকার্যকর ও সংশোধনযোগ্য মর্মে ডিক্রির প্রার্থনা করতে হবে।

৭. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা ও দেওয়ানি ডিক্রির কার্যকারিতা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত যখন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মূল দলিলের ভিত্তিতে বাদীর অনুকূলে স্বত্বের ডিক্রি প্রদান করেন, তখন সেই ডিক্রি সমস্ত সরকারি রেকর্ডের ওপর প্রাধান্য পায়। আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে বিবাদীর নামে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানটি বেআইনি ও বাতিল এবং উক্ত খতিয়ানে বাদীর নাম প্রতিস্থাপন করার জন্য সরকারকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৮. দেওয়ানি মামলায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দলিলের ধারাবাহিক লিংক (Chain of Title)

খতিয়ান সংশোধনের মামলায় জয়ী হতে হলে আপনাকে দলিলের অকাট্য চেইন (Chain of Title) প্রমাণ করতে হবে:

  1. সিএস (CS), এসএ (SA) এবং আরএস (RS) খতিয়ানের মূল বা সার্টিফাইড কপি।
  2. সিএস মালিক থেকে শুরু করে আপনার কেনা পর্যন্ত সমস্ত বায়া দলিলের স্পষ্ট কপি।
  3. আপনার নিজের মূল রেজিস্ট্রার্ড ক্রয় দলিল বা হেবা দলিল।
  4. জমি যে আপনার বাস্তব দখলে রয়েছে তার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল, সীমানা প্রাচীর বা ফসল চাষের ছবি)।
  5. হাল সনের ভূমি উন্নয়ন করের (খাজনা) দাখিলা।

৯. আদালতের ডিক্রি পাওয়ার পর এসি ল্যান্ড অফিসে রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়া

দেওয়ানি আদালত থেকে ডিক্রি পাওয়ার পর বাদীর আইনজীবী ডিক্রির একটি সার্টিফাইড কপি উত্তোলন করবেন। এরপর ডিক্রি ও আদেশের কপি সহ সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। এসি ল্যান্ড আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি ভলিউমে পূর্বের ভুল রেকর্ডটি কেটে বাদীর নামে একটি নতুন ও ত্রুটিমুক্ত সংশোধিত খতিয়ান সৃজন করে দেবেন।

১০. সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের যুগান্তকারী নজির (DLR Reference)

খতিয়ান বনাম স্বত্ব সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের প্রতিষ্ঠিত নীতিসমূহ:

১. সিরাজুল ইসলাম বনাম আব্দুল বারেক (45 DLR): সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার রায় দেন যে, খতিয়ান বা রেকর্ড অব রাইটস কোনো স্বত্ব তৈরি করে না (Record does not create title); এটি কেবল দখলের একটি প্রাথমিক প্রমাণ। যদি দলিলের মাধ্যমে স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ভুল খতিয়ান টিকবে না।

২. মফিজউদ্দিন বনাম জেলা প্রশাসক (50 DLR AD): আপিল বিভাগ রায় দেন যে, জরিপকর্মীর ভুলের কারণে প্রকৃত মালিকের স্বত্ব কখনো নষ্ট হয় না; দেওয়ানি আদালত সেই রেকর্ড সংশোধন করে প্রকৃত মালিককে স্বীকৃতি দিতে আইনত বাধ্য।

১১. খতিয়ান সংশোধন মামলার জন্য জমির মালিকের চূড়ান্ত চেকলিস্ট

আদালতে যাওয়ার আগে আপনার ফাইলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন:

  • ১. ভুল খতিয়ানটির সরকারি ডিসি অফিসের রেকর্ড রুম থেকে তোলা সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন।
  • ২. আপনার জমির পূর্ববর্তী আরএস ও এসএ খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহে রাখুন।
  • ৩. জমির বাস্তব দখল যাতে প্রতিপক্ষ কেড়ে না নিতে পারে, সে জন্য মামলায় শুরুতেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করুন।
  • ৪. একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি ও ভূমি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আরজি ড্রাফট করিয়ে মামলা পরিচালনা করুন।

১২. অভিজ্ঞ দেওয়ানি ও ভূমি রেকর্ড বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

খতিয়ানে অন্যের নাম উঠে আসলে কালক্ষেপণ করা চরম বোকামি। কারণ যার নামে রেকর্ড হয়েছে সে যেকোনো মুহূর্তে তৃতীয় কোনো ক্রেতার কাছে জমি বিক্রি করে দিতে পারে, যা মামলাকে আরও জটিল করে তুলবে। ভুল জানার সাথে সাথেই একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও রেকর্ড সংশোধনের মোকদ্দমা দায়ের করুন। আপনার দলিল ও দখল সঠিক থাকলে আদালত আপনার অনুকূলেই রায় দেবেন এবং আপনার জমির রেকর্ড চিরতরে নিষ্কণ্টক হবে।

১৩. সরকারি খাস খতিয়ান বা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ভুল রেকর্ড হলে সংশোধনের বিশেষ আইনি পথ

অনেক ক্ষেত্রে জরিপকালে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি ভুলবশত বাংলাদেশ সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অথবা অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়ে যায়। এমনটি হলে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে পড়েন যে সরকার হয়তো তাদের জমি দখল করে নেবে। আইনগত সত্য হলো: সরকারের নামে ভুল রেকর্ড হলেও মূল মালিকের স্বত্ব নষ্ট হয় না। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০১৩)-এর আওতায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (যুগ্ম জেলা জজ আদালত) আবেদন করে সরকারি গেজেট ও তালিকা থেকে জমি অবমুক্ত করা যায়। একইভাবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে জেলা প্রশাসককে বিবাদী করে স্বত্ব ঘোষণার দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করা যায়। সিএস থেকে শুরু করে আরএস পর্যন্ত সমস্ত খাজনা দাখিলা ও দলিলের চেইন আদালতে প্রমাণ করলে সরকার পক্ষকে বাদীর অনুকূলে জমি অবমুক্ত করে নতুন খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

খতিয়ানে নাম ভুল হলে কি জমি হাতছাড়া হয়ে যায়?

না, খতিয়ান কোনো চূড়ান্ত স্বত্ব তৈরি করে না। মূল দলিল ও দখল আপনার থাকলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে ভুল খতিয়ান সহজেই সংশোধন করা যায়।

খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন করতে কোথায় যেতে হয়?

বানান বা দাগের করণিক ভুল সংশোধন করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসি ল্যান্ড অফিসে ১৪৪খ ধারায় মিস কেস করতে হয়।

অন্যের নামে বিএস খতিয়ান হয়ে গেলে কোন আদালতে মামলা করতে হয়?

২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী স্থানীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও রেকর্ড সংশোধনের দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হয়।

খতিয়ান সংশোধনের মামলা নিষ্পত্তি হতে কতদিন লাগে?

বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে নিয়মিত সাক্ষী ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করলে সাধারণত ১ থেকে আড়াই বছরের মধ্যে চূড়ান্ত ডিক্রি সম্পন্ন হয়।

আদালতের ডিক্রি দিয়ে কি সরাসরি জমির নামজারি করা যায়?

হ্যাঁ, দেওয়ানি আদালতের ডিক্রির সার্টিফাইড কপি জমা দিলে এসি ল্যান্ড অফিস কোনো অতিরিক্ত দলিল ছাড়াই আবেদনকারীর নামে সংশোধিত নামজারি খতিয়ান তৈরি করে দেয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০