আরএস জরিপ কি? বাংলাদেশে আরএস খতিয়ান অনলাইনে চেক করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12 · ৯ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
আরএস জরিপ (RS Survey) বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি জরিপগুলোর একটি, যা মূলত ব্রিটিশ আমলের পর পরিচালিত হয়েছিল এবং এখনো অনেক জেলায় প্রামাণিক রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন আর অফিসে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না — ঘরে বসেই eporcha.gov.bd ওয়েবসাইটে RS খতিয়ান অনলাইনে চেক করা যায়। এই গাইডে RS জরিপের সংজ্ঞা, খতিয়ান দেখার পদ্ধতি এবং ভুল থাকলে কী করবেন তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: আরএস খতিয়ান চেক
eporcha.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে 'খতিয়ান অনুসন্ধান' বিভাগ নির্বাচন করুন
জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করে জরিপ ধরন 'RS' সিলেক্ট করুন
খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ করুন
ডিজিটাল সার্টিফাইড কপির জন্য ফি পরিশোধ করে ডাউনলোড করুন
কোনো ভুল পেলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করুন বা আইনজীবীর পরামর্শ নিন
আরএস জরিপ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
আরএস জরিপ বা Revisional Survey হলো বাংলাদেশের একটি সংশোধনী ভূমি জরিপ যা মূলত ১৯৪০ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল। CS (Cadastral Survey) বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর যখন ভূমির স্বত্ব পরিবর্তন বা ভুলত্রুটি দেখা দেয়, তখন এই সংশোধনী জরিপ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের অনেক জেলায়, বিশেষত উত্তরাঞ্চলে RS জরিপকে এখনো প্রামাণিক রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। জমি বেচা-কেনা, দান, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি বা বন্ধক দেওয়ার ক্ষেত্রে RS খতিয়ান অপরিহার্য একটি দলিল।
RS জরিপ গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
মালিকানা প্রমাণ: RS খতিয়ান জমির আইনি মালিকানার একটি সরকারি স্বীকৃতি।
দলিল যাচাই: জমি কেনার আগে RS খতিয়ান মিলিয়ে দেখলে জালিয়াতি এড়ানো যায়।
আদালতে সাক্ষ্য: ভূমি মামলায় RS খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আদালতে গৃহীত হয়।
ব্যাংক লোন: বন্ধকি ঋণের জন্য ব্যাংক RS খতিয়ান চায়।
নামজারির ভিত্তি: নামজারি বা মিউটেশনের জন্য RS খতিয়ানের তথ্য লাগে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ভূমি জরিপের পার্থক্য (CS, RS, BS, SA)
বাংলাদেশে চারটি প্রধান ভূমি জরিপ রেকর্ড রয়েছে। এগুলোর পার্থক্য বোঝা জমির মালিকানা বুঝতে সহায়ক:
CS (Cadastral Survey) বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জরিপ: ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত। এটি সবচেয়ে পুরনো এবং মূল রেকর্ড। বাংলাদেশে CS জরিপই প্রথম সরকারি ভূমি রেকর্ড।
RS (Revisional Survey) বা সংশোধনী জরিপ: ১৯৪০-১৯৫৫ সালে CS-এর ভুল সংশোধন করে পরিচালিত। অনেক অঞ্চলে এটি প্রামাণিক রেকর্ড।
SA (State Acquisition Survey): ১৯৫০ সালের জমিদারি প্রথা বিলোপের পর পরিচালিত জরিপ। জমিদারদের কাছ থেকে জমি সরকারের অধীনে আসার পর নতুন মালিকানা রেকর্ড করা হয়।
BS (Bangladesh Survey) বা বাংলাদেশ জরিপ: স্বাধীনতার পর থেকে পরিচালিত সবচেয়ে আধুনিক জরিপ। এটি সব জেলায় এখনো সম্পন্ন হয়নি।
যে জেলায় BS জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে BS খতিয়ান প্রামাণিক। যেখানে হয়নি, সেখানে RS বা SA খতিয়ান ব্যবহৃত হয়।
RS খতিয়ান নম্বর কীভাবে পাবেন
RS খতিয়ান অনলাইনে চেক করতে হলে প্রথমে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো সংগ্রহ করুন:
জেলার নাম: আপনার জমি যে জেলায় অবস্থিত।
উপজেলা/থানার নাম: জমির সঠিক উপজেলা।
মৌজার নাম ও JL নম্বর: মৌজা হলো ভূমি রেকর্ডের সবচেয়ে ছোট একক। পুরনো দলিলে বা পূর্ববর্তী খতিয়ানে মৌজার নাম পাওয়া যাবে।
খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর: পুরনো দলিল, বিক্রয় দলিল বা পূর্ববর্তী মালিকের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।
এই তথ্যগুলো না থাকলে নিম্নোক্ত উপায়ে সংগ্রহ করুন:
স্থানীয় ভূমি অফিস (তহশিল অফিস) থেকে।
পুরনো বিক্রয় দলিল বা ওয়ারিশ সনদে উল্লিখিত তথ্য থেকে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে।
অনুসন্ধান: খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ করুন।
ফলাফল দেখুন: সার্চ রেজাল্টে মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ দেখা যাবে।
বিকল্প পদ্ধতি — নাম দিয়ে অনুসন্ধান: খতিয়ান বা দাগ নম্বর না থাকলে মালিকের নাম দিয়েও অনুসন্ধান করা যায়। তবে একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন, তাই ফলাফল যাচাই করুন।
মোবাইল অ্যাপ: Google Play Store বা App Store থেকে 'ভূমি সেবা' অ্যাপ ডাউনলোড করে স্মার্টফোন থেকেও RS খতিয়ান চেক করা যায়।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
CS (Cadastral Survey) হলো ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৮-১৯৪০ সালে করা মূল জরিপ। RS (Revisional Survey) হলো ১৯৪০-১৯৫৫ সালে CS-এর ভুল সংশোধন করতে গিয়ে করা সংশোধনী জরিপ। অনেক জেলায় RS জরিপের রেকর্ড CS থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য।
RS খতিয়ান অনলাইনে দেখতে কী কী লাগে?
RS খতিয়ান অনলাইনে দেখতে জেলা, উপজেলা, মৌজার নাম বা JL নম্বর এবং খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর লাগে। eporcha.gov.bd তে নামের মাধ্যমেও অনুসন্ধান করা যায়।
RS খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির দাম কত?
eporcha.gov.bd তে RS খতিয়ানের অনলাইন সার্টিফাইড কপির ফি সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ টাকা। সরাসরি অফিস থেকে কপি নিলে আলাদা ফি প্রযোজ্য।
RS খতিয়ানে নাম ভুল থাকলে কত দিনে সংশোধন হয়?
ভূমি অফিসে আবেদনের পর সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সংশোধন হওয়ার কথা। তবে জটিল ক্ষেত্রে আদালতে মামলার প্রয়োজন হলে এটি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর লাগতে পারে।
জমি কেনার আগে RS খতিয়ান যাচাই কেন জরুরি?
জমি কেনার আগে RS খতিয়ান যাচাই না করলে জালিয়াতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। RS খতিয়ানে বিক্রেতার নাম না থাকলে বা জমির পরিমাণে অমিল থাকলে সেই বিক্রয় আইনত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০