লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-05-21
যখন একাধিক সহ-মালিক বা পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তি ভাগাভাগি করেন কিন্তু বিভাজন নিয়ে একমত হতে পারেন না, তখন বিভাজন মামলা (পার্টিশন স্যুট) বাংলাদেশের আইনে পাওয়া একমাত্র আইনি প্রতিকার। পূর্বপুরুষের জমি, উত্তরাধিকার সম্পত্তি বা যৌথভাবে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে যাই হোক না কেন, দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ অনুযায়ী বিভাজন প্রক্রিয়া বোঝা আপনার ন্যায্য অংশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
বিভাজন মামলা হলো একটি সহ-মালিক বা সহ-শরিক কর্তৃক দায়ের করা দেওয়ানি মামলা যেখানে যৌথভাবে ধারণ করা সম্পত্তির ভৌত বিভাজন বা মালিকানা স্বার্থের পৃথকীকরণের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। বাংলাদেশে বিভাজন মামলা মূলত নিম্নলিখিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়:
উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা সহ-মালিকানার মাধ্যমে সম্পত্তিতে অবিভক্ত অংশ থাকা যেকোনো ব্যক্তি বিভাজনের দাবি করার পরম অধিকার রাখেন। সহ-শরিক সম্পত্তি ভাগে অসুবিধা হলে ঢাকায় জমি ও সম্পত্তি আইনজীবী-র পরামর্শ নিন।
যেকোনো সহ-মালিক বা সহ-শরিক বিভাজন মামলা দায়ের করতে পারেন, যার মধ্যে রয়েছেন:
মামলা অবশ্যই সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত সেই এখতিয়ারের দেওয়ানি আদালতে দায়ের করতহবে। সকল অন্য সহ-মালিক/সহ-শরিককে বিভাজন মামলায় বিবাদী হিসেবে নামকরণ করতে হবে।
বিভাজন মামলার জন্য সীমাবদ্ধতার মেয়াদ রয়েছে। সীমাবদ্ধতা আইন ১৯০৮ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির বিভাজনের মামলা সাধারণত অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে। নাবালক সহ-শরিকের স্বার্থ আদালত মনোনীত অভিভাবকের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়। জটিল পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধে সম্পত্তি আইনজীবী-র সাহায্য নিন।
বাংলাদেশে বিভাজন মামলা দায়েরের পদক্ষেপগুলো:
বিতর্কিত বিভাজন মামলায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে আদালত প্রায়ই পক্ষদের আপোষে বিভাজনের জন্য উৎসাহিত করে, যা অনেক দ্রুত। একজন অভিজ্ঞ জমি আইনজীবী সৌহার্দ্যপূর্ণ বিভাজন আলোচনায় সাহায্য করতে পারেন।
বিভাজন মামলায় দুই-পর্যায়ের ডিক্রি পদ্ধতি বাংলাদেশের আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য:
প্রাথমিক ডিক্রি (অর্ডার ২০ নিয়ম ১৮ সিপিসি অনুযায়ী) পক্ষগুলির অধিকার ঘোষণা করে — বিশেষত সম্পত্তিতে প্রতিটি পক্ষের ভগ্নাংশ অংশ। এটি এখনো কিছু ভৌতভাবে বিভক্ত করে না।
প্রাথমিক ডিক্রির পর, আদালত মনোনীত একজন কমিশনার (আমিন) সম্পত্তি জরিপ করেন এবং প্রতিটি সহ-শরিকের ঘোষিত অংশ অনুযায়ী পৃথক ভূখণ্ড বরাদ্দ করে বিভাজনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। কমিশনারের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়, আপত্তি শোনা হয় এবং তারপর আদালত চূড়ান্ত ডিক্রি প্রদান করে।
যদি ভৌত বিভাজন অব্যবহারিক হয় (যেমন একটি একক কক্ষের ভবন বা অত্যন্ত ছোট জমি), আদালত নিলামে সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারেন এবং আয় আনুপাতিকভাবে বিতরণ করা হয়। একজন সহ-শরিক আদালত-নির্ধারিত মূল্যে অন্যদের অংশও কিনতে পারেন।
চূড়ান্ত ডিক্রি পাস হওয়ার পর, প্রতিটি পক্ষ তাদের পৃথকভাবে বরাদ্দকৃত অংশ নিবন্ধন করতে এবং স্বতন্ত্র নামে নামজারির আবেদন করতে পারেন। অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর কাছ থেকে বিভাজন কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ নির্দেশিকা পান।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ বিভাজন বিরোধ মুসলিম পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে। বেশ কিছু বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য:
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (কুরআন ও হাদিসের উপর ভিত্তি করে এবং বাংলাদেশে ব্যক্তিগত আইনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়) প্রতিটি ওয়ারিশের জন্য নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ:
বিভাজন মামলা দায়েরের আগে পারিবারিক আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ বা উত্তরাধিকারীত্ব ঘোষণা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এই দলিল আইনি উত্তরাধিকারীদের এবং তাদের অংশ প্রমাণ করে।
মুসলিম আইনে বাংলাদেশে যৌথ পারিবারিক সম্পদের কোনো ধারণা নেই (যেমন হিন্দু আইনে আছে)। প্রতিটি মুসলিম তার সম্পত্তির স্বতন্ত্র মালিক, এবং মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ারিশদের মধ্যে নির্ধারিত ভগ্নাংশে বিভাজন হয় — সহ-মালিকানার পরিস্থিতি তৈরি করে।
একজন মুসলিম জীবদ্দশায় একজন বা একাধিক উত্তরাধিকারীকে সম্পত্তির হেবা (দান) করতে পারেন। এই দান, যদি সঠিকভাবে করা হয় এবং হস্তান্তর করা হয়, তাহলে বিভাজনের জন্য উপলব্ধ সম্পদ কমিয়ে দেয়। একজন অভিজ্ঞ সম্পত্তি আইনজীবী এই ধরনের দানকে চ্যালেঞ্জ বা রক্ষার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন।
প্রি-এম্পশন বাংলাদেশের সম্পত্তি আইনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যা বিভাজন কার্যক্রমের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ধারা ৯৬ অনুযায়ী, কৃষি জমিতে সহ-শরিকের অধিকার আছে প্রি-এম্পশন — অর্থাৎ অন্য কোনো সহ-শরিক যদি তার অংশ বাইরের (তৃতীয় পক্ষ) কাউকে বিক্রি করেন, তাহলে অন্য সহ-শরিক একই মূল্যে সেই অংশ কিনতে পারেন।
প্রি-এম্পশন অধিকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
কোনো সহ-মালিক আপনার অজ্ঞাতে তৃতীয় পক্ষের কাছে তার অংশ বিক্রি করলে — এখনই পদক্ষেপ নিন। ৪ মাসের সময়সীমা কঠোর। বিলম্ব না করে একজন জমি আইনজীবী-র সাথে যোগাযোগ করুন।
বিভাজন কার্যক্রমে জমি আইন, ব্যক্তিগত আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি এবং নিবন্ধন আইনের জটিল সংমিশ্রণ জড়িত। যারা বিভাজন বিরোধে জড়িত তাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ:
বিভাজন মামলায় দেওয়ানি কার্যবিধি এবং সম্পত্তি আইনে গভীর দক্ষতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে বিভাজন মামলায় পেশাদার আইনি প্রতিনিধিত্বের জন্য অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন — উত্তরা, ঢাকায় অভিজ্ঞ জমি ও সম্পত্তি আইনজীবী।