সরকারি খাস জমি চেনার উপায় ও বন্দোবস্ত পাওয়ার আইনি নিয়মাবলী
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৬ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>জমি ক্রয় বা লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা হলো সরকারি খাস জমি। অসাধু দালাল ও ভূমিদস্যুরা অনেক সময় সরকারের মালিকানাধীন খাস জমি, নদীভরাট বা পরিত্যক্ত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে সাধারণ নিরীহ ক্রেতাদের কাছে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে যখন জেলা প্রশাসন বা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি/AC Land) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, তখন ক্রেতা নিঃস্ব হয়ে যান। অন্যদিকে, সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি কৃষি খাস জমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত (Lease/Allocation) দেওয়ার আইনগত বিধান রয়েছে। কিন্তু তথ্যের অভাবে সাধারণ মানুষ জানে না কীভাবে খাস জমি শনাক্ত করতে হয় এবং কীভাবে বৈধ উপায়ে তা বন্দোবস্ত পাওয়া যায়।</p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> ভূমি আইন, রেকর্ড যাচাইকরণ এবং খাস জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মক্কেলদের আইনানুগ পরামর্শ ও সুরক্ষা দিয়ে আসছেন। যেকোনো জমি ক্রয়ের পূর্বে তার রেকর্ড যাচাই বা সরকারি খাস জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব খাস জমি চেনার সহজ উপায়, ১ নম্বর খতিয়ানের তাৎপর্য এবং সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি সম্পর্কে।</p>
⚡ এক নজরে জরুরি তথ্য (Quick Answer)
<strong>খাস জমি কী:</strong> যেসব স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা কোনো ব্যক্তির নয়, বরং সরাসরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের (DC) নামে সংরক্ষিত থাকে তাকে খাস জমি বলে।
<strong>চেনার মূল উপায়:</strong> খতিয়ানের মালিকের ঘরে '১ নং খতিয়ান' বা 'বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক' লেখা থাকা এবং স্থানীয় ভূমি অফিসে তফশিল খাস খতিয়ানভুক্ত থাকা।
<strong>বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্যতা:</strong> কৃষি খাস জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান ভূমিহীন কৃষক, বিধবা, নদীভাঙা পরিবার এবং শহীদ বা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
<strong>আবেদন প্রক্রিয়া:</strong> উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব (এসি ল্যান্ড) বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।
১. খাস জমি কী এবং এর শ্রেণিবিভাগ (কৃষি ও অকৃষি)
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট (State Acquisition and Tenancy Act, 1950) অনুযায়ী জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর যেসব জমি সরাসরি সরকারের খাস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, সেগুলোকে খাস জমি বলা হয়। পরবর্তীতে সিলিং বহির্ভূত উদ্বৃত্ত জমি, নদীভাঙন শেষে পুনর্জাগরিত চর, এবং লা-ওয়ারিশ সম্পত্তিও খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
সরকারি খাস জমি প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
কৃষি খাস জমি: যা চাষাবাদ বা কৃষিকাজের উপযোগী এবং যা মূলত ভূমিহীন কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অকৃষি খাস জমি: শহর বা বাণিজ্যিক এলাকার জমি, যা সাধারণত সরকারি অফিস, শিল্প কারখানা, স্কুল-কলেজ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী লিজ প্রদান করা হয়।
২. ১ নম্বর খতিয়ান কী এবং খাস জমি চেনার নির্ভুল উপায়
যেকোনো জমি সরকারি খাস কিনা তা যাচাই করার জন্য নিচের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা অপরিহার্য:
১ নম্বর খতিয়ান (Khatian No. 1): প্রতিটি মৌজার খতিয়ান রেজিস্টারে ১ নম্বর খতিয়ানটি সবসময় 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক'-এর নামে সংরক্ষিত থাকে। কোনো দাগ যদি ১ নম্বর খতিয়ানের আওতাভুক্ত থাকে, তবে সেটি শতভাগ সরকারি জমি।
মালিকের কলামে সরকারের নাম: সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস রেকর্ডের মালিকের ঘরে যদি 'কালেক্টর', 'জেলা প্রশাসক' বা 'বাংলাদেশ সরকার' লেখা থাকে।
মৌজা ম্যাপে প্রতীক চিহ্ন: সরকারি রাস্তা, খাল, নদী, রেললাইন বা গোপাট সাধারণত খাস খতিয়ানভুক্ত থাকে এবং মৌজা নকশায় তা চিহ্নিত করা থাকে।
ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহসিল অফিস): স্থানীয় তহসিল অফিসে রক্ষিত 'রেজিস্টার-২' (Register II) যাচাই করলে নির্দিষ্ট দাগের জমিটি সরকারি খাস তালিকায় আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
খাস জমি বরাদ্দের জন্য সরকারি নিয়মাবলী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল:
আবেদনপত্র দাখিল: উপজেলা কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা - UNO) এবং সদস্য-সচিব (সহকারী কমিশনার ভূমি - AC Land) বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।
তহসিলদারের মাঠ তদন্ত: আবেদনকারীর প্রকৃত অবস্থা, তার জমি আছে কিনা এবং তিনি প্রকৃত ভূমিহীন কিনা তা স্থানীয় তহসিলদার সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেন।
উপজেলা কমিটির অনুমোদন ও ডিসি অফিসে প্রেরণ: উপজেলা কমিটি আবেদনটি যাচাই করে উপযুক্ত মনে করলে তা জেলা কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের (DC) অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন।
কবুলিয়ত ও দলিল সম্পাদন: ডিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মাত্র ১ টাকা সেলামিতে সরকার ও সুবিধাভোগীর মধ্যে রেজিস্ট্রি কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন করা হয় এবং খতিয়ান খুলে দেওয়া হয়।
৬. বন্দোবস্তকৃত খাস জমির শর্তাবলী ও হস্তান্তর সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা
সরকার থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া জমি কিন্তু সাধারণ জমির মতো বাজারে বিক্রি করা যায় না:
বন্দোবস্তকৃত জমি হস্তান্তরযোগ্য নয় (Non-transferable); এটি কেবল বংশানুক্রমে ওয়ারিশদের মধ্যে হস্তান্তর হতে পারে।
যদি কোনো সুবিধাভোগী জমি বিক্রি করার চেষ্টা করেন বা নিজে চাষ না করে ফেলে রাখেন, তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বন্দোবস্ত বাতিল করে জমি খাস দখলে ফেরত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
৭. অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের চেম্বারের আইনি পরামর্শ
জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে সামান্য ভুলের কারণে খাস জমি কিনে ফেঁসে গেলে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও আদালতের জটিল মামলার মুখে পড়তে হতে পারে। জমি ক্রয়ের আগে সার্চিং ও টাইটেল যাচাই (Title Search) করা জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম ও তার অভিজ্ঞ টিম যেকোনো স্থাবর সম্পত্তির দালিলিক ধারাবাহিকতা ও ১ নম্বর খতিয়ান যাচাইয়ে নিখুঁত আইনি সেবা প্রদান করে থাকেন।
জমি যাচাই বা খাস জমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনি সহায়তার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন:
⚖️ জমি যাচাই ও ভূমি আইনের পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন
সরকারি খাস জমি যাচাই, টাইটেল সার্চ বা ভুয়া দলিলের হাত থেকে জমি সুরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর সাথে কথা বলুন:
সরকারি খাস জমি কি সাধারণ মানুষের মতো ক্রয়-বিক্রয় করা যায়?
না, সরকারি খাস জমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রয় বা বিক্রয় করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ; এটি কেবল সরকারি নীতিমালার অধীনে যোগ্য ভূমিহীনদের লিজ বা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।
১ নম্বর খতিয়ান বলতে কী বোঝায়?
প্রতিটি মৌজায় বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন যাবতীয় রাস্তা, নদী, খাল ও খাস জমি যে সরকারি খতিয়ানে নথিভুক্ত থাকে তাকে ১ নম্বর খতিয়ান বলা হয়।
খাস জমি বন্দোবস্ত পেতে কত টাকা সরকারি ফি দিতে হয়?
কৃষি খাস জমি বণ্টনের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ভূমিহীনদের জন্য মাত্র প্রতীকী ১ টাকা সেলামি মূল্যে জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়।
ভুলবশত খাস জমি ব্যক্তি নামে রেকর্ড হলে সরকার কীভাবে তা ফেরত নেয়?
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা অথবা সরকারি দেওয়ানি স্বত্ব মামলার মাধ্যমে সরকার ব্যক্তি রেকর্ড বাতিল করে পুনরায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানে জমি ফেরত আনে।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০