লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কিংবা অসাবধানতাবশত নিজের সই করা একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক পাতা যদি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তবে যে কারও মাথায় হাত পড়তে পারে। কারণ কোনো অসাধু ব্যক্তি সেই চেকে ইচ্ছেমতো কোটি টাকার অঙ্ক বসিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়ে ১৩৮ ধারার এনআই অ্যাক্টে মামলা ঠুকে দিতে পারে। এই মারাত্মক ঝুঁকি থেকে তাৎক্ষণিক আইনি সুরক্ষার উপায় জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (Negotiable Instruments Act)-এর ১৩৮ ও ১৩৯ ধারা অনুযায়ী—কোনো চেকে সই থাকলে আদালত প্রাথমিকভাবে ধরে নেন যে চেকটি কোনো বৈধ দেনা পরিশোধের জন্যই দেওয়া হয়েছিল (Presumption of consideration)। ফলে কুড়িয়ে পাওয়া বা চুরি হওয়া চেকের অপব্যবহার করে ভুয়া কোটি টাকার মামলা দিয়ে আসল মালিককে মারাত্মক বিপদে ফেলা সম্ভব।
চেক হারানোর বিষয়টি জানার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় গিয়ে ম্যানেজার বরাবর লিখিত ‘Stop Payment Instruction’ জমা দিতে হবে। চিঠিতে হারিয়ে যাওয়া চেকের নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং হারানোর সময় স্পষ্ট উল্লেখ করে ব্যাংকের রিসিভিং সিল ও তারিখসহ রসিদ কপি নিজের কাছে সযতনে রেখে দিতে হবে।
ব্যাংকের পাশাপাশি একই দিনে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। জিডিতে স্পষ্টভাবে লিখতে হবে যে—উক্ত চেকটিতে কেবল স্বাক্ষর ছিল, কোনো টাকার অঙ্ক বা প্রাপকের নাম লেখা ছিল না এবং এটি হারিয়ে গেছে বা খোয়া গেছে। এই জিডি ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণ করবে যে কোনো বৈধ লেনদেনের উদ্দেশ্যে চেকটি হস্তান্তর করা হয়নি।
যদি কোনো ব্যক্তি ওই চেক ব্যাংকে ডিজঅনার করিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আপনাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়, তবে কখনোই তা অগ্রাহ্য করবেন না। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে স্টপ পেমেন্ট ও পূর্বের জিডির কপি সংযুক্ত করে দৃঢ় আইনি জবাব (Reply to Legal Notice) দিন।
মামলা হলেও আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে বাদীর সাথে আপনার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চুক্তিপত্র বা টাকা পাওয়ার বৈধ প্রমাণ (Consideration) নেই। তাছাড়া চেকে ব্যবহৃত কলমের কালি ও লেখার বয়সের ফরেনসিক টেস্টের আবেদন করে প্রমাণ করা যায় যে সই করার অনেক পরে টাকার অঙ্ক ভিন্ন কালিতে বসানো হয়েছিল।