বাংলাদেশে শিশু দত্তক ও অভিভাবকত্ব আইন: আসল সত্যটা জানুন

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-19

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

অনেক দম্পতি শিশু দত্তক নিতে চান, কিন্তু বাংলাদেশে মুসলিম আইনে পশ্চিমা দেশের মতো আনুষ্ঠানিক দত্তক বৈধ নয়। তবে আইন বিকল্প পথ রেখেছে — অভিভাবকত্ব — যা অনেক ক্ষেত্রে একই সুরক্ষা দেয়।

বাংলাদেশে কি শিশু দত্তক নেওয়া যায়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: মুসলিমদের জন্য না। বাংলাদেশে মুসলিমদের ক্ষেত্রে ইসলামি আইনে আনুষ্ঠানিক দত্তক স্বীকৃত নয়। মুসলিম আইনে দত্তক নেওয়া শিশু জৈবিক সন্তানের মর্যাদা পায় না এবং উত্তরাধিকার সত্ত্বও পায় না।

তবে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০-এর অধীনে আদালতের মাধ্যমে আইনি অভিভাবকত্ব নেওয়া সম্ভব — যা বাস্তবে দত্তকের অনেক সুবিধাই দেয়। আপনার পরিস্থিতিতে কী প্রযোজ্য তা জানতে একজন পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

কাফালা: ইসলামিক বিকল্প

কাফালা (كفالة) হল ইসলামি আইনে স্বীকৃত শিশুর লালন-পালনের ব্যবস্থা। কাফিল (অভিভাবক) শিশুকে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন করেন, কিন্তু শিশু তার নিজ পরিচয় ও বংশনাম বজায় রাখে। কাফালার মূল বৈশিষ্ট্য:

  • শিশু নিজের জন্ম পরিচয় ও পদবি বজায় রাখে।
  • কাফিল শিশুর ভরণপোষণ, শিক্ষা ও সুরক্ষার দায়িত্ব নেন।
  • স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশু কাফিলের উত্তরাধিকার পায় না — তবে কাফিল ওসিয়তে সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত শিশুর জন্য রাখতে পারেন।

অভিভাবকত্বের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া

পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্বের আবেদনের ধাপ:

  1. শিশুর বাসস্থানের জেলার পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্বের আবেদন দাখিল করুন।
  2. আবেদনে অভিভাবকত্বের কারণ উল্লেখ করুন।
  3. আদালত শিশুর কল্যাণ তদন্তের জন্য একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারেন।
  4. জীবিত জৈবিক পিতা-মাতাকে নোটিশ দিতে হবে।
  5. আদালত সন্তুষ্ট হলে অভিভাবকত্বের আদেশ প্রদান করবেন।

পুরো প্রক্রিয়ায় ৩ থেকে ৬ মাস লাগতে পারে। একজন পারিবারিক আইনজীবী আবেদন পরিচালনা করবেন।