বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা করার নিয়ম — সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা সম্পত্তি, চুক্তি, ক্ষতিপূরণ ও পারিবারিক বিষয়ে করা হয়। সঠিক আদালতে সঠিক কাগজপত্র দিয়ে মামলা না করলে খারিজ হয়ে যেতে পারে।
দেওয়ানি মামলা কী ও কত প্রকার
দেওয়ানি মামলা হলো দুই পক্ষের মধ্যে অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে বিরোধের মামলা যেখানে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ বা নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাওয়া হয়।
- সম্পত্তি মামলা: জমি, বাড়ি বা সম্পদের মালিকানা নিয়ে
- চুক্তি মামলা: চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ
- পারিবারিক মামলা: তালাক, ভরণপোষণ, হেফাজত
- ক্ষতিপূরণ মামলা: আঘাত বা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ
- নিষেধাজ্ঞা মামলা: কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখতে
কোন আদালতে মামলা করবেন
দেওয়ানি মামলা কোন আদালতে করবেন তা নির্ভর করে:
- সহকারী জজ আদালত: নির্ধারিত আর্থিক সীমার মামলা
- যুগ্ম জেলা জজ আদালত: মাঝারি মূল্যের মামলা
- জেলা জজ আদালত: বড় মামলা ও আপিল
- পারিবারিক আদালত: তালাক, নাফাকা, হেফাজত
জমির মামলা জমি যে জেলায়, সেই জেলার আদালতে করুন।
আরজি তৈরি ও দাখিলের নিয়ম
আরজি (Plaint) হলো মামলার মূল দাবিনামা। এতে থাকতে হবে:
- বাদী (মামলাকারী) ও বিবাদীর পূর্ণ নাম ও ঠিকানা
- মামলার বিষয়বস্তু ও ঘটনার বিবরণ
- বাদীর দাবি ও ত্রাণের প্রার্থনা
- মামলার কারণ উদ্ভবের তারিখ
- আদালতের এখতিয়ার থাকার কারণ
আরজি লেখার জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
দেওয়ানি মামলায় সাধারণত লাগে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- সংশ্লিষ্ট দলিল, চুক্তি বা চিঠিপত্রের কপি
- খতিয়ান ও নামজারির কপি (সম্পত্তি মামলায়)
- সাক্ষীদের তথ্য ও যোগাযোগ
- কোর্ট ফি পরিশোধের রসিদ
কোর্ট ফি ও খরচ
দেওয়ানি মামলায় খরচের হিসাব:
- কোর্ট ফি: সম্পত্তির মূল্য বা দাবির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত
- আইনজীবী ফি: মামলার জটিলতা অনুযায়ী
- ডকুমেন্ট খরচ: সার্টিফাইড কপি, পর্চা ইত্যাদি
মামলার আগে আইনজীবীর সাথে সব খরচের বিষয়ে পরিষ্কার আলোচনা করুন।
মামলার ধাপ ও সময়কাল
দেওয়ানি মামলার ধাপগুলো:
- আরজি দাখিল
- সমন জারি — বিবাদীকে আদালতে আসার নোটিশ
- লিখিত জবাব — বিবাদীর পক্ষে
- ইস্যু গঠন — বিচার্য বিষয় নির্ধারণ
- সাক্ষ্য গ্রহণ — উভয় পক্ষের সাক্ষী
- যুক্তিতর্ক ও রায়
সাধারণত ২-৭ বছর সময় লাগে। অভিজ্ঞ আইনজীবী থাকলে দ্রুত হয়।