বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা করার নিয়ম — সম্পূর্ণ গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12 · ৭ মিনিট পড়া

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা সম্পত্তি, চুক্তি, ক্ষতিপূরণ ও পারিবারিক বিষয়ে করা হয়। সঠিক আদালতে সঠিক কাগজপত্র দিয়ে মামলা না করলে খারিজ হয়ে যেতে পারে। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

⚡ দ্রুত উত্তর: দেওয়ানি মামলার মূল তথ্য
  • সম্পত্তি, চুক্তি ও ক্ষতিপূরণ মামলা দেওয়ানি আদালতে হয়
  • সম্পত্তির মূল্য ও মামলার ধরন অনুযায়ী আদালত নির্ধারিত হয়
  • আরজি দাখিল থেকে রায় পর্যন্ত ২-৭ বছর লাগতে পারে
  • কোর্ট ফি সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভরশীল
  • অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবী মামলা জয়ের সম্ভাবনা বাড়ায়
📋 সূচিপত্র
  1. দেওয়ানি মামলা কী ও কত প্রকার
  2. কোন আদালতে মামলা করবেন
  3. আরজি তৈরি ও দাখিলের নিয়ম
  4. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  5. কোর্ট ফি ও খরচ
  6. মামলার ধাপ ও সময়কাল

দেওয়ানি মামলা কী ও কত প্রকার

দেওয়ানি মামলা হলো দুই পক্ষের মধ্যে অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে বিরোধের মামলা যেখানে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ বা নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাওয়া হয়।

  • সম্পত্তি মামলা: জমি, বাড়ি বা সম্পদের মালিকানা নিয়ে
  • চুক্তি মামলা: চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ
  • পারিবারিক মামলা: তালাক, ভরণপোষণ, হেফাজত
  • ক্ষতিপূরণ মামলা: আঘাত বা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ
  • নিষেধাজ্ঞা মামলা: কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখতে

কোন আদালতে মামলা করবেন

দেওয়ানি মামলা কোন আদালতে করবেন তা নির্ভর করে:

  • সহকারী জজ আদালত: নির্ধারিত আর্থিক সীমার মামলা
  • যুগ্ম জেলা জজ আদালত: মাঝারি মূল্যের মামলা
  • জেলা জজ আদালত: বড় মামলা ও আপিল
  • পারিবারিক আদালত: তালাক, নাফাকা, হেফাজত

জমির মামলা জমি যে জেলায়, সেই জেলার আদালতে করুন।

আরজি তৈরি ও দাখিলের নিয়ম

আরজি (Plaint) হলো মামলার মূল দাবিনামা। এতে থাকতে হবে:

  • বাদী (মামলাকারী) ও বিবাদীর পূর্ণ নাম ও ঠিকানা
  • মামলার বিষয়বস্তু ও ঘটনার বিবরণ
  • বাদীর দাবি ও ত্রাণের প্রার্থনা
  • মামলার কারণ উদ্ভবের তারিখ
  • আদালতের এখতিয়ার থাকার কারণ

আরজি লেখার জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দেওয়ানি মামলায় সাধারণত লাগে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • সংশ্লিষ্ট দলিল, চুক্তি বা চিঠিপত্রের কপি
  • খতিয়ান ও নামজারির কপি (সম্পত্তি মামলায়)
  • সাক্ষীদের তথ্য ও যোগাযোগ
  • কোর্ট ফি পরিশোধের রসিদ

কোর্ট ফি ও খরচ

দেওয়ানি মামলায় খরচের হিসাব:

  • কোর্ট ফি: সম্পত্তির মূল্য বা দাবির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত
  • আইনজীবী ফি: মামলার জটিলতা অনুযায়ী
  • ডকুমেন্ট খরচ: সার্টিফাইড কপি, পর্চা ইত্যাদি

মামলার আগে আইনজীবীর সাথে সব খরচের বিষয়ে পরিষ্কার আলোচনা করুন।

মামলার ধাপ ও সময়কাল

দেওয়ানি মামলার ধাপগুলো:

  1. আরজি দাখিল
  2. সমন জারি — বিবাদীকে আদালতে আসার নোটিশ
  3. লিখিত জবাব — বিবাদীর পক্ষে
  4. ইস্যু গঠন — বিচার্য বিষয় নির্ধারণ
  5. সাক্ষ্য গ্রহণ — উভয় পক্ষের সাক্ষী
  6. যুক্তিতর্ক ও রায়

সাধারণত ২-৭ বছর সময় লাগে। অভিজ্ঞ আইনজীবী থাকলে দ্রুত হয়।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পার্থক্য কী?

দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ বা অধিকার আদায় চাওয়া হয়, কারাদণ্ড নয়। ফৌজদারি মামলায় অপরাধের শাস্তি কারাদণ্ড বা জরিমানা।

দেওয়ানি মামলায় সময়সীমা কী?

তামাদি আইন অনুযায়ী বিভিন্ন মামলার সময়সীমা ভিন্ন। সাধারণত ৩-১২ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। দেরি করলে মামলা বাধা পাবে।

দেওয়ানি মামলায় জিতলে টাকা কীভাবে পাবো?

আদালতের রায়ে ডিক্রি হলে ডিক্রি জারির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদায় করা যায়।

মামলার মাঝপথে আপোষ করা যাবে?

হ্যাঁ। দেওয়ানি মামলায় যেকোনো পর্যায়ে আপোষ করা যায়। আপোষ হলে আদালত তা লিপিবদ্ধ করে ডিক্রি দেয়।

প্রথমে কি মধ্যস্থতার চেষ্টা করা উচিত?

অবশ্যই। আদালতে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বা সালিশের চেষ্টা করুন। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই বাঁচে।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০