সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের নিয়ম ২০২৬ — সড়ক পরিবহন ট্রাস্টি বোর্ড ও মামলা
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৫ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>বেপরোয়া বাস, ট্রাক বা গাড়ির ধাক্কায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছেন অথবা দুর্ঘটনায় সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন? <strong>সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং আর্থিক সহায়তা তহবিল বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ এবং দেওয়ানি আদালতে গাড়ি মালিকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।</strong> ক্ষতিপূরণ ও মোটরযান আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
সড়ক পরিবহন আইনের ৫৩ ধারা অনুসারে গঠিত ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ থেকে নিহত ব্যক্তির পরিবার পায় নগদ ৫ লাখ টাকা
গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বা অঙ্গহানি ঘটলে আহত ব্যক্তি পান নগদ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা
দুর্ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে বিআরটিএ (BRTA) চেয়ারম্যান নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্টি বোর্ড বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি গাড়ি মালিক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ (Fatal Accidents Act) মামলা করা যায়
চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪-খ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় ফৌজদারি মামলা পরিচালনা নিশ্চিত করুন
১. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮: নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের সংবিধিবদ্ধ অধিকার
পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো ক্ষতিপূরণ পেতে দেখা যেত না। ২০১৮ সালের নতুন সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের বিধিমালা এটিকে একটি বাধ্যতামূলক আইনি অধিকারে পরিণত করেছে:
ক্ষতির ধরন
সরকারি নির্ধারিত এককালীন ক্ষতিপূরণ
প্রদানের উৎস
দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে
এককালীন নূন্যতম ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা
সড়ক পরিবহন ট্রাস্টি বোর্ড আর্থিক সহায়তা তহবিল
গুরুতর আহত হয়ে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্ব
এককালীন নূন্যতম ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা
আর্থিক সহায়তা তহবিল
চিকিৎসাযোগ্য অন্যান্য আঘাত
এককালীন নূন্যতম ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা
আর্থিক সহায়তা তহবিল
২. সরকারি ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া
সহায়তা তহবিল থেকে টাকা পাওয়ার জন্য নিচের প্রশাসনিক ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
আবেদনের সময়সীমা: দুর্ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে ফরম ‘ক’ মোতাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান (চেয়ারম্যান, বিআরটিএ) বরাবর আবেদন দাখিল। যুক্তিসঙ্গত কারণে বিলম্ব হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর হতে পারে।
অনুসন্ধান কমিটি: সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) বা গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা ও ওয়ারিশদের সত্যতা যাচাই করে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণ: ট্রাস্টি বোর্ড রিপোর্ট অনুমোদনের পর সরাসরি নিহত ব্যক্তির বৈধ ওয়ারিশদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অ্যাকাউন্টে চেক বা ইএফটি (EFT) মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা জমা প্রদান করে।
৩. আবেদনের সাথে যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক
আবেদনপত্রের সাথে যেসব সরকারি নথি পেশ করতে হয়:
থানার এফআইআর (FIR) বা সাধারণ ডায়েরির সার্টিফাইড কপি।
সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report) ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন (Autopsy Report)।
হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট বা আহতের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের ডিস্যাবিলিটি সার্টিফিকেট।
সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশান সনদ ও ভোটার আইডি কার্ড।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
৪. গাড়ির মালিক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ মামলা (Fatal Accidents Act)
সরকারি ৫ লাখ টাকা কেবল প্রাথমিক সাহায্য। একজন মানুষের সারা জীবনের আয়ের ক্ষতির তুলনায় এটি কিছুই নয়। তাই এর পাশাপাশি ১৮৫৫ সালের ফেটাল অ্যাক্সিডেন্টস অ্যাক্ট (Fatal Accidents Act 1855) অনুসারে দেওয়ানি আদালতে গাড়ি মালিক, পরিবহন কোম্পানি ও বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা যায় (যেমন তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ক্ষতিপূরণের ঐতিহাসিক নজির)।
৫. বেপরোয়া চালকের ফৌজদারি শাস্তি: ১০৫ ধারা (সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড)
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ১০৫ ধারা অনুসারে বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে বা অঙ্গহানি করলে চালকের সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হয়। চালককে কোনোভাবেই ছাড় না দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত চার্জশিট নিশ্চিত করতে হয়।
৬. সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ ক্ষতিপূরণ ও ট্রমা আইনজীবীর সহায়তা
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আইনি লড়াই
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে ট্রাস্টি বোর্ডের সরকারি তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ প্রাপ্তি ও আদালতে ক্ষতিপূরণ মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।
গাড়ি যদি অজ্ঞাত থাকে বা পালিয়ে যায় (Hit and Run), তবুও কি ক্ষতিপূরণ মিলবে?
হ্যাঁ, গাড়ি শনাক্ত না হলেও যদি থানার এজাহার বা জিডিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রমাণ থাকে, তবে ট্রাস্টি বোর্ড সরকারি তহবিল থেকে নির্ধারিত সম্পূর্ণ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বাধ্য।
সরকারি ৫ লাখ টাকা পেলে কি মালিকের বিরুদ্ধে আর মামলা করা যাবে না?
অবশ্যই যাবে। ট্রাস্টি বোর্ডের টাকা হলো তাৎক্ষণিক মানবিক অনুদান। গাড়ি মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে পৃথক দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনার অধিকার আইনত অক্ষুণ্ণ থাকে।
ট্রাস্টি বোর্ডের টাকা পেতে কতদিন সময় লাগে?
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হওয়ার পর সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ ছাড় করে।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০