শ্রম আইন অনুযায়ী বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতি, ছাঁটাই ও গ্র্যাচুইটি আদায়ের নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো শ্রমিক বা কর্মচারীকে হঠাৎ করে বিনা নোটিশে বা বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস বা কর্পোরেট অফিসে অনেক সময় আইন না মেনে নোটিশ পে বা সার্ভিস বেনিফিট না দিয়ে কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। <strong>বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩ ও ২০১৮)</strong> অনুযায়ী চাকরিচ্যুতির সঠিক নিয়ম, লে-অফ/ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ, গ্র্যাচুইটি আদায় এবং শ্রম আদালতে মামলা দায়েরের আইনি নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

শ্রম আইনে চাকরিচ্যুতির প্রধান ৩টি শ্রেণিবিভাগ

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী কোনো স্থায়ী শ্রমিককে মালিক পক্ষ নোটিশ দিয়ে বা নোটিশের পরিবর্তে বেতন দিয়ে যেকোনো সময় চাকরি অবসান (Termination) করতে পারেন। তবে তার জন্য সমস্ত পাওনা শোধ করতে হবে।

বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করলে নোটিশ পে (Notice Pay) পাওয়ার নিয়ম

মালিক পক্ষ যদি আগে থেকে নোটিশ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করতে চান, তবে তাকে আইনের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী অগ্রিম নোটিশের সময়ের বেতন দিতে হবে:

  • স্থায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে: ১২০ দিনের (৪ মাসের) লিখিত নোটিশ অথবা ১২০ দিনের মূল বেতন।
  • অস্থায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে: ৩০ দিনের লিখিত নোটিশ অথবা ৩০ দিনের মূল বেতন।

গ্র্যাচুইটি (Gratuity) হিসাবের সরকারি সূত্র ও আইনি অধিকার

কোনো শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে টানা ৬ বছর বা তার বেশি সময় চাকরি করার পর চাকরি অবসান হলে তিনি গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকারী হবেন।

গ্র্যাচুইটির হিসাব সূত্র:

  • প্রতি সম্পন্ন চাকরির বছরের জন্য ৩০ দিনের মূল বেতন (Basic Salary)।
  • ১০ বছরের বেশি টানা চাকরি করলে প্রতি বছরের জন্য ৪৫ দিনের মূল বেতন।

মালিক পক্ষ পাওনা না দিলে শ্রম আদালতে (Labour Court) মামলা দায়ের

মালিক পক্ষ যদি সার্ভিস বেনিফিট বা গ্র্যাচুইটি না দেয়, তবে শ্রমিক প্রথমে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE) এ লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। পরবর্তীতে ঘটনার ১ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার শ্রম আদালতে (Labour Court) মামলা দায়ের করতে পারেন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।