বাংলাদেশে সন্তান বা শিশু দত্তক নেওয়ার আইনি নিয়ম ২০২৬ — পারিবারিক আদালতের অনুমতি ও আইনি অভিভাবকত্ব
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>নিঃসন্তান দম্পতি হিসেবে কোনো নবজাতক বা শিশুকে আজীবনের জন্য লালন-পালনের উদ্দেশ্যে দত্তক নিতে চান? <strong>মনে রাখবেন, শুধুমাত্র সাদা কাগজে স্ট্যাম্প চুক্তি করে বাচ্চা নেওয়া বাংলাদেশে আইনত অপরাধ ও শিশু পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে—পারিবারিক আদালত থেকে আইনানুগ অভিভাবকত্ব (Legal Guardianship) সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।</strong> পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
বাংলাদেশে দত্তক সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল। আইনগত ভিত্তিটি পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি:
- মুসলিম শরিয়াহ আইন: ইসলামি বিধানে রক্তসম্পর্কবিহীন সন্তানকে ঔরসজাত বা জন্মদাতা পরিচয়ে দত্তক গ্রহণ বৈধ নয়; ফলে পিতা হিসেবে জন্মদাতার নাম সম্পূর্ণ মুছে ফেলা যায় না।
- ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন (Guardians and Wards Act): এই আইনের আওতায় যে কেউ আদালতের মাধ্যমে কোনো এতিম বা অভিভাবকহীন শিশুর আইনগত অভিভাবক (Legal Guardian) নিযুক্ত হতে পারেন, যা শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের শতভাগ বৈধ উপায়।
- হিন্দু আইন: সনাতন ধর্মে দত্তক আইন (Dattaka) অনুসারে ধর্মীয় রীতি মেনে পূর্ণাঙ্গ দত্তক গ্রহণ করা যায়।
আইনসম্মত অভিভাবকত্ব সনদ লাভের জন্য বিজ্ঞ পারিবারিক আদালতে নিচের নিয়মে আবেদন পেশ করতে হয়:
- এখতিয়ারভুক্ত আদালত: শিশুটি বর্তমানে যে জেলায় বসবাস করছে সেই জেলার বিজ্ঞ সহকারী জজ / পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল।
- বায়োলজিক্যাল পিতামাতার সম্মতি: শিশুর প্রকৃত পিতা-মাতা জীবিত থাকলে তাদের স্বেচ্ছামূলক হলফনামা (No Objection Affidavit) এবং পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হবে। শিশু এতিম বা কুড়িয়ে পাওয়া হলে হাসপাতালের ছাড়পত্র বা থানার সাধারণ ডায়েরি দাখিল করতে হবে।
- আবেদনকারী দম্পতির যোগ্যতা: বিয়ের কাবিননামা, ব্যাংকিং আয়ের সচ্ছলতা সনদ, মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অঙ্গীকারনামা পেশ করা।
আদালত আরজি পাওয়ার পর সাধারণত জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (Social Welfare Officer)-কে সরেজমিনে আবেদনকারীর বাড়ি পরিদর্শন করে একটি গোপন অনুসন্ধান প্রতিবেদন (Social Inquiry Report) দাখিলের নির্দেশ দেন:
প্রতিবেদনে সমাজসেবা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে আবেদনকারী নিঃসন্তান কিনা, তাদের আর্থিক ও মানসিক পরিবেশ শিশুর জন্য নিরাপদ কিনা এবং কোনো প্রকার শিশু পাচার বা আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা নেই। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে আদালত অভিভাবকত্ব ডিক্রি প্রদান করেন।
পারিবারিক আদালতের মূল ডিক্রির সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর:
- আদালতের রায়ের কপি সংযুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে শিশুর নতুন জন্মনিবন্ধন সনদ (Birth Certificate) গ্রহণ করা যায়।
- পাসপোর্ট অধিদপ্তর আদালতের ডিক্রি পর্যবেক্ষণ করে আবেদনকারীকে শিশুর আইনগত অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে।
- ভবিষ্যতে শিশুকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া বা উন্নত স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এই ডিক্রিই চূড়ান্ত রক্ষাকবচ।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Faraiz) অনুসারে দত্তক সন্তান সরাসরি ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে না। তবে অভিভাবক পিতা-মাতা জীবদ্দশাতেই আইনি উপায়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারেন:
সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধ পথসমূহ:
- রেজিস্ট্রিকৃত হেবা বা দানপত্র (Gift Deed): জীবদ্দশাতেই ফ্ল্যাট, জমি বা ব্যাংক ডিপোজিট শিশুর অনুকূলে রেজিস্ট্রি হেবা বা দান করে দলিল সম্পন্ন করা।
- অসিয়তনামা (Will): মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (1/3rd) পর্যন্ত দত্তক সন্তানের নামে অসিয়ত করে যাওয়া যায়।
- ট্রাস্ট বা ব্যাংক সঞ্চয় স্কিম: শিশুর নামে একক ব্যাংক হিসাব বা ট্রাস্ট খুলে তাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
⚖️ শিশু দত্তক ও আইনানুগ অভিভাবকত্ব সুরক্ষায় নির্ভরযোগ্য আইনি পরামর্শ
সাদা কাগজে চুক্তি করে কোনো শিশুর দায়িত্ব নেবেন না। পারিবারিক আদালত থেকে আইনানুগ অভিভাবকত্ব ডিক্রি গ্রহণ এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পত্তি সুরক্ষিত করতে আজই যোগাযোগ করুন।