বাংলাদেশে সন্তান বা শিশু দত্তক নেওয়ার আইনি নিয়ম ২০২৬ — পারিবারিক আদালতের অনুমতি ও আইনি অভিভাবকত্ব

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৫ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>নিঃসন্তান দম্পতি হিসেবে কোনো নবজাতক বা শিশুকে আজীবনের জন্য লালন-পালনের উদ্দেশ্যে দত্তক নিতে চান? <strong>মনে রাখবেন, শুধুমাত্র সাদা কাগজে স্ট্যাম্প চুক্তি করে বাচ্চা নেওয়া বাংলাদেশে আইনত অপরাধ ও শিশু পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে—পারিবারিক আদালত থেকে আইনানুগ অভিভাবকত্ব (Legal Guardianship) সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।</strong> পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · তালাক ও পারিবারিক আদালত আইনজীবী ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ শিশু দত্তক ও আইনানুগ অভিভাবকত্বে ৫টি মূল বিষয়
  • মুসলিম পারিবারিক আইনে আনুষ্ঠানিক দত্তক (Adoption) নিষিদ্ধ হলেও ১৮৯০ সালের আইনে ‘আইনগত অভিভাবকত্ব’ (Legal Guardianship) সম্পূর্ণ বৈধ
  • পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ ও অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০-এর ১০ ধারা অনুসারে সহকারী জজ আদালতে পিটিশন দায়ের করতে হয়
  • আদালত আবেদনকারী দম্পতির আর্থিক সক্ষমতা, চরিত্র, স্বাস্থ্য এবং সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করেন
  • আদালতের ডিক্রির পর শিশুর পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও স্কুলে আইনি অভিভাবক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়
  • দত্তক সন্তান পৈতৃক সম্পত্তিতে স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকার না পেলেও হেবা (দান) বা অসিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়
📋 সূচিপত্র
  1. ১. মুসলিম আইন বনাম প্রচলিত আইনে শিশু দত্তক (Adoption vs Guardianship)
  2. ২. পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্ব পিটিশন (Guardianship Petition) দায়েরের নিয়ম
  3. ৩. পারিবারিক আদালতের অনুসন্ধান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের রিপোর্ট
  4. ৪. দত্তক সন্তানের পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র হালনাগাদ
  5. ৫. দত্তক সন্তানের সম্পত্তির অধিকার: ফারায়েজ বনাম দানপত্র (Hebr-Bil-Ewaz)
  6. ৬. সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ

১. মুসলিম আইন বনাম প্রচলিত আইনে শিশু দত্তক (Adoption vs Guardianship)

বাংলাদেশে দত্তক সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল। আইনগত ভিত্তিটি পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি:

  • মুসলিম শরিয়াহ আইন: ইসলামি বিধানে রক্তসম্পর্কবিহীন সন্তানকে ঔরসজাত বা জন্মদাতা পরিচয়ে দত্তক গ্রহণ বৈধ নয়; ফলে পিতা হিসেবে জন্মদাতার নাম সম্পূর্ণ মুছে ফেলা যায় না।
  • ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন (Guardians and Wards Act): এই আইনের আওতায় যে কেউ আদালতের মাধ্যমে কোনো এতিম বা অভিভাবকহীন শিশুর আইনগত অভিভাবক (Legal Guardian) নিযুক্ত হতে পারেন, যা শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের শতভাগ বৈধ উপায়।
  • হিন্দু আইন: সনাতন ধর্মে দত্তক আইন (Dattaka) অনুসারে ধর্মীয় রীতি মেনে পূর্ণাঙ্গ দত্তক গ্রহণ করা যায়।

২. পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্ব পিটিশন (Guardianship Petition) দায়েরের নিয়ম

আইনসম্মত অভিভাবকত্ব সনদ লাভের জন্য বিজ্ঞ পারিবারিক আদালতে নিচের নিয়মে আবেদন পেশ করতে হয়:

  1. এখতিয়ারভুক্ত আদালত: শিশুটি বর্তমানে যে জেলায় বসবাস করছে সেই জেলার বিজ্ঞ সহকারী জজ / পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল।
  2. বায়োলজিক্যাল পিতামাতার সম্মতি: শিশুর প্রকৃত পিতা-মাতা জীবিত থাকলে তাদের স্বেচ্ছামূলক হলফনামা (No Objection Affidavit) এবং পরিচয়পত্র সংযুক্ত করতে হবে। শিশু এতিম বা কুড়িয়ে পাওয়া হলে হাসপাতালের ছাড়পত্র বা থানার সাধারণ ডায়েরি দাখিল করতে হবে।
  3. আবেদনকারী দম্পতির যোগ্যতা: বিয়ের কাবিননামা, ব্যাংকিং আয়ের সচ্ছলতা সনদ, মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অঙ্গীকারনামা পেশ করা।

৩. পারিবারিক আদালতের অনুসন্ধান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের রিপোর্ট

আদালত আরজি পাওয়ার পর সাধারণত জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (Social Welfare Officer)-কে সরেজমিনে আবেদনকারীর বাড়ি পরিদর্শন করে একটি গোপন অনুসন্ধান প্রতিবেদন (Social Inquiry Report) দাখিলের নির্দেশ দেন:

প্রতিবেদনে সমাজসেবা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে আবেদনকারী নিঃসন্তান কিনা, তাদের আর্থিক ও মানসিক পরিবেশ শিশুর জন্য নিরাপদ কিনা এবং কোনো প্রকার শিশু পাচার বা আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা নেই। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে আদালত অভিভাবকত্ব ডিক্রি প্রদান করেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৪. দত্তক সন্তানের পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র হালনাগাদ

পারিবারিক আদালতের মূল ডিক্রির সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর:

  • আদালতের রায়ের কপি সংযুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে শিশুর নতুন জন্মনিবন্ধন সনদ (Birth Certificate) গ্রহণ করা যায়।
  • পাসপোর্ট অধিদপ্তর আদালতের ডিক্রি পর্যবেক্ষণ করে আবেদনকারীকে শিশুর আইনগত অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে।
  • ভবিষ্যতে শিশুকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া বা উন্নত স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এই ডিক্রিই চূড়ান্ত রক্ষাকবচ।

৫. দত্তক সন্তানের সম্পত্তির অধিকার: ফারায়েজ বনাম দানপত্র (Hebr-Bil-Ewaz)

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Faraiz) অনুসারে দত্তক সন্তান সরাসরি ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে না। তবে অভিভাবক পিতা-মাতা জীবদ্দশাতেই আইনি উপায়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারেন:

সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধ পথসমূহ:

  • রেজিস্ট্রিকৃত হেবা বা দানপত্র (Gift Deed): জীবদ্দশাতেই ফ্ল্যাট, জমি বা ব্যাংক ডিপোজিট শিশুর অনুকূলে রেজিস্ট্রি হেবা বা দান করে দলিল সম্পন্ন করা।
  • অসিয়তনামা (Will): মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (1/3rd) পর্যন্ত দত্তক সন্তানের নামে অসিয়ত করে যাওয়া যায়।
  • ট্রাস্ট বা ব্যাংক সঞ্চয় স্কিম: শিশুর নামে একক ব্যাংক হিসাব বা ট্রাস্ট খুলে তাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

৬. সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

শিশু দত্তক ও আইনানুগ অভিভাবকত্ব সুরক্ষায় নির্ভরযোগ্য আইনি পরামর্শ

সাদা কাগজে চুক্তি করে কোনো শিশুর দায়িত্ব নেবেন না। পারিবারিক আদালত থেকে আইনানুগ অভিভাবকত্ব ডিক্রি গ্রহণ এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পত্তি সুরক্ষিত করতে আজই যোগাযোগ করুন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

স্ট্যাম্পে দত্তকনামা লিখলে কি তা আদালতে গ্রহণযোগ্য?

না, ১০০ বা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা তথাকথিত 'দত্তকনামা' বা নোটারি এফিডেভিটের কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই। আদালতের ডিক্রি ছাড়া সন্তান গ্রহণ শিশু পাচার আইনের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ।

বিদেশি বা প্রবাসী দম্পতি কি বাংলাদেশ থেকে শিশু দত্তক নিতে পারেন?

হ্যাঁ, তবে এর জন্য পারিবারিক আদালতের ডিক্রির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (NOC) এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন অনুমতি প্রয়োজন হয়।

অভিভাবকত্ব ডিক্রি পেতে আদালতে কতদিন সময় লাগে?

সাধারণত কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন দ্রুত আসলে ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে আদালত চূড়ান্ত আদেশ দেন।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০