লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৫ মিনিট
<p>দেওয়ানি বা বাটোয়ারা মামলা বছরের পর বছর চলতে গিয়ে বহু পরিবারের আর্থিক ও মানসিক শান্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। যুগ যুগ ধরে আদালতে লড়াই করার পর যখন উভয় পক্ষ উপলব্ধি করে যে মামলার দীর্ঘসূত্রতায় কোনো পক্ষেরই প্রকৃত লাভ হচ্ছে না, তখন পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলা শেষ করার সর্বোত্তম আইনি উপায় হলো <strong>সোলেনামা</strong> (Solehnama) বা আপসনামা সম্পাদন করা। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকে—সোলেনামা দলিল আসলে কী? কীভাবে এর মাধ্যমে আদালত থেকে বৈধ আপস ডিক্রি (Compromise Decree) পাওয়া যায়? আর সোলেনামা কি পরবর্তীতে কেউ চাইলে একতরফাভাবে অস্বীকার বা বাতিল করতে পারে?</p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> জমিজমা ও দেওয়ানি বিরোধে পারস্পরিক আপস-মীমাংসা ও নিখুঁত সোলেনামা ড্রাফটিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। পারিবারিক বিরোধ, বাটোয়ারা বা সম্পত্তি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে শেষ করতে আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সোলেনামা দলিলের সংজ্ঞা, আইনি শর্তাবলী এবং আদালতে আপস নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।</p>
'সোলেহ' একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো শান্তি, সন্ধি বা সমঝোতা। দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় যখন কোনো মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে একটি লিখিত চুক্তিতে উপনীত হয় এবং সেই চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি দিতে দরখাস্ত দেয়, তাকে সোলেনামা (Compromise Petition / Deed) বলা হয়।
এটি মূলত একটি পারস্পরিক লিখিত অঙ্গীকারনামা যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে—কোন পক্ষ জমির কতটুকু অংশ পাবেন, সীমানা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং এই নিষ্পত্তির পর অন্য কোনো দাবি বা মামলা থাকবে না।
আমাদের দেশের দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ (Code of Civil Procedure)-এর অর্ডার ২৩, রুল ৩ অনুযায়ী:
"যেখানে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, একটি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো বৈধ চুক্তি বা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে... আদালত উক্ত চুক্তি বা আপস লিপিবদ্ধ করবেন এবং সেই অনুযায়ী একটি সোলেনামা ডিক্রি (Compromise Decree) জারি করবেন।"
আইনের চোখে সোলেনামা ডিক্রি সাধারণ রায় ও ডিক্রির মতোই সমান কার্যকর ও বাধ্যতামূলক। দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে প্রদত্ত সোলেনামা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে নিয়মিত আপিল করার সুযোগ থাকে না, যা মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে।
পারিবারিক সম্পত্তি বাটোয়ারা (Partition Suit) মামলায় সোলেনামার ভূমিকা অপরিসীম। যৌথ পরিবারের জমির মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি ও চূড়ান্ত ডিক্রি হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ, পরিমাপ ও তক্তাবন্দির দীর্ঘ ঝামেলা এড়াতে অংশীদারগণ নিজেরা বসে আপসের মাধ্যমে কে কোন দাগের কোন চৌহদ্দি ভোগ করবেন তা ঠিক করে সোলেনামা দিতে পারেন।
এর ফলে ভাই-বোন, শরিক বা আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যকার দীর্ঘ তিক্ততা দূর হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় ঘটে।
আইনসম্মত সোলেনামা তৈরি করতে নিচের শর্তগুলো নিখুঁতভাবে পূরণ করা আবশ্যক:
সোলেনামা ড্রাফট সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে দাখিলের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:
আইনত সোলেনামা ডিক্রি চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে সাধারণ কোনো আপিল চলে না। তবে যদি কোনো পক্ষ প্রমাণ করতে পারেন যে:
তবে সেই পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারার অন্তর্নিহিত ক্ষমতায় (Inherent Power) অথবা জালিয়াতির অভিযোগে ডিক্রি বাতিলের জন্য পৃথক দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে পারেন। তাই সোলেনামা তৈরির সময় অভিজ্ঞ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপ নিখুঁত রাখা জরুরি।
একটি অসতর্ক সোলেনামা ভবিষ্যতে নতুন করে পারিবারিক বিবাদের জন্ম দিতে পারে। তাই অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিটি দাগ, খতিয়ান ও শর্ত আইনি কাঠামোর ভেতর সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম ও তার দক্ষ লিগ্যাল টিম দেওয়ানি মামলায় আপস নিষ্পত্তির জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
সোলেনামা ড্রাফট, নোটিশ প্রদান বা আদালতের আপস ডিক্রি পেতে সরাসরি যোগাযোগ করুন:
বাটোয়ারা মামলা, জমিজমা বিরোধ বা দেওয়ানি মামলায় দ্রুত সোলেনামা ডিক্রি পেতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন:
হ্যাঁ, দেওয়ানি আইনে বাটোয়ারা বা সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় সম্পত্তিতে অংশীদারী থাকা সমস্ত জীবিত ওয়ারিশের লিখিত সম্মতি ও স্বাক্ষর ব্যতীত সোলেনামা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত হয় না।
উভয় পক্ষ শর্তাবলীতে একমত হয়ে ড্রাফট প্রস্তুত করার পর আদালতে দাখিল করলে সাধারণত ১ থেকে ২টি শুনানির তারিখের মধ্যেই আদালত সোলেনামা ডিক্রি জারি করতে পারেন।
অবশ্যই, আদালতের সোলেনামা ডিক্রির সার্টিফাইড কপি ও তক্তাবন্দির নকশা দিয়ে এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে আবেদন করে নিজ নিজ নামে পৃথক জমা খারিজ বা নামজারি করা যায়।
যেহেতু এটি আদালতের ডিক্রি, তাই কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করলে দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশ অনুযায়ী ডিক্রি জারির (Execution Case) মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে আদালতের সাহায্য নেওয়া যায়।