সোলেনামা দলিল কি? আপস-মীমাংসা ও সোলেনামার মাধ্যমে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৫ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>দেওয়ানি বা বাটোয়ারা মামলা বছরের পর বছর চলতে গিয়ে বহু পরিবারের আর্থিক ও মানসিক শান্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। যুগ যুগ ধরে আদালতে লড়াই করার পর যখন উভয় পক্ষ উপলব্ধি করে যে মামলার দীর্ঘসূত্রতায় কোনো পক্ষেরই প্রকৃত লাভ হচ্ছে না, তখন পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলা শেষ করার সর্বোত্তম আইনি উপায় হলো <strong>সোলেনামা</strong> (Solehnama) বা আপসনামা সম্পাদন করা। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকে—সোলেনামা দলিল আসলে কী? কীভাবে এর মাধ্যমে আদালত থেকে বৈধ আপস ডিক্রি (Compromise Decree) পাওয়া যায়? আর সোলেনামা কি পরবর্তীতে কেউ চাইলে একতরফাভাবে অস্বীকার বা বাতিল করতে পারে?</p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> জমিজমা ও দেওয়ানি বিরোধে পারস্পরিক আপস-মীমাংসা ও নিখুঁত সোলেনামা ড্রাফটিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। পারিবারিক বিরোধ, বাটোয়ারা বা সম্পত্তি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে শেষ করতে আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সোলেনামা দলিলের সংজ্ঞা, আইনি শর্তাবলী এবং আদালতে আপস নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।</p>

⚡ এক নজরে জরুরি তথ্য (Quick Answer)
  • <strong>সোলেনামা কী:</strong> বিচারাধীন মামলার সকল পক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শর্তাবলী লিপিবদ্ধ করে আদালতে যে আপসপত্র দাখিল করে তাকে সোলেনামা বলে।
  • <strong>আইনি ভিত্তি:</strong> দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ (CPC)-এর ২৩ আদেশের ৩ নিয়ম (Order 23, Rule 3) অনুযায়ী আদালত সন্তুষ্ট হলে সোলেনামার ওপর ভিত্তি করে আপস ডিক্রি প্রদান করেন।
  • <strong>চূড়ান্ত কার্যকারিতা:</strong> আদালতের অনুমোদিত সোলেনামা ডিক্রির বিরুদ্ধে সাধারণ নিয়মে কোনো আপিল চলে না (ধারা ৯৬(৩)), তাই এটি চূড়ান্ত ও অবশ্য পালনীয়।
  • <strong>রেজিস্ট্রেশন:</strong> স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আদালতের সোলেনামা ডিক্রি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. সোলেনামা বা আপসনামা কী
  2. ২. দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ আদেশের ৩ নিয়মের আইনি তাৎপর্য
  3. ৩. বাটোয়ারা ও জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সোলেনামার গুরুত্ব
  4. ৪. একটি বৈধ সোলেনামা প্রস্তুত করার মূল শর্তাবলী
  5. ৫. আদালতে সোলেনামা দাখিল ও শুনানি প্রক্রিয়া
  6. ৬. সোলেনামা ডিক্রি কি পরবর্তীতে বাতিল বা চ্যালেঞ্জ করা যায়?
  7. ৭. অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের চেম্বারের আইনি সহায়তা
  8. ৮. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

১. সোলেনামা বা আপসনামা কী

'সোলেহ' একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো শান্তি, সন্ধি বা সমঝোতা। দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় যখন কোনো মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে একটি লিখিত চুক্তিতে উপনীত হয় এবং সেই চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি দিতে দরখাস্ত দেয়, তাকে সোলেনামা (Compromise Petition / Deed) বলা হয়।

এটি মূলত একটি পারস্পরিক লিখিত অঙ্গীকারনামা যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে—কোন পক্ষ জমির কতটুকু অংশ পাবেন, সীমানা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং এই নিষ্পত্তির পর অন্য কোনো দাবি বা মামলা থাকবে না।

২. দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ আদেশের ৩ নিয়মের আইনি তাৎপর্য

আমাদের দেশের দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ (Code of Civil Procedure)-এর অর্ডার ২৩, রুল ৩ অনুযায়ী:

"যেখানে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, একটি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো বৈধ চুক্তি বা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে... আদালত উক্ত চুক্তি বা আপস লিপিবদ্ধ করবেন এবং সেই অনুযায়ী একটি সোলেনামা ডিক্রি (Compromise Decree) জারি করবেন।"

আইনের চোখে সোলেনামা ডিক্রি সাধারণ রায় ও ডিক্রির মতোই সমান কার্যকর ও বাধ্যতামূলক। দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে প্রদত্ত সোলেনামা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে নিয়মিত আপিল করার সুযোগ থাকে না, যা মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে।

৩. বাটোয়ারা ও জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সোলেনামার গুরুত্ব

পারিবারিক সম্পত্তি বাটোয়ারা (Partition Suit) মামলায় সোলেনামার ভূমিকা অপরিসীম। যৌথ পরিবারের জমির মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি ও চূড়ান্ত ডিক্রি হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ, পরিমাপ ও তক্তাবন্দির দীর্ঘ ঝামেলা এড়াতে অংশীদারগণ নিজেরা বসে আপসের মাধ্যমে কে কোন দাগের কোন চৌহদ্দি ভোগ করবেন তা ঠিক করে সোলেনামা দিতে পারেন।

এর ফলে ভাই-বোন, শরিক বা আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যকার দীর্ঘ তিক্ততা দূর হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় ঘটে।

৪. একটি বৈধ সোলেনামা প্রস্তুত করার মূল শর্তাবলী

আইনসম্মত সোলেনামা তৈরি করতে নিচের শর্তগুলো নিখুঁতভাবে পূরণ করা আবশ্যক:

  • সকল পক্ষের সম্মতি ও স্বাক্ষর: মামলার সমস্ত জীবিত বাদী এবং বিবাদীকে সোলেনামায় স্বাক্ষর বা টিপসহি প্রদান করতে হবে। কোনো একজন বৈধ অংশীদারকে বাদ দিলে সেই সোলেনামা ভবিষ্যতে টিকবে না।
  • স্বেচ্ছা প্রণোদিত সমঝোতা: চুক্তিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছায় হতে হবে—কোনো বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, ভীতি প্রদর্শন বা ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
  • সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির তফসিল: সোলেনামার সাথে নির্ধারিত জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, পরিমাণ এবং স্পষ্ট চৌহদ্দি বা নকশা সংযুক্ত থাকতে হবে।
  • আইনজীবীদের প্রত্যয়ন: সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীদের দ্বারা সোলেনামাটি ড্রাফট ও ভেরিফাই করতে হবে।

৫. আদালতে সোলেনামা দাখিল ও শুনানি প্রক্রিয়া

সোলেনামা ড্রাফট সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে দাখিলের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:

  1. আদালতে পেশ: নির্ধারিত শুনানির দিনে আইনজীবীর মাধ্যমে সোলেনামা দরখাস্তটি মূল মামলা নথির সাথে আদালতে দাখিল করা হয়।
  2. পক্ষগণের সশরীরে উপস্থিতি: আদালত বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে এজলাসে সশরীরে ডেকে তাদের নাম-পরিচয় যাচাই করেন এবং তারা স্বেচ্ছায় আপস করেছেন কিনা তা সরাসরি জানতে চান।
  3. রেকর্ড লিপিবদ্ধকরণ ও ডিক্রি: বিচারক নিশ্চিত হলে সোলেনামাটি নথিতে গ্রহণ করেন এবং দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী সোলেনামা ডিক্রি প্রদান করেন।

৬. সোলেনামা ডিক্রি কি পরবর্তীতে বাতিল বা চ্যালেঞ্জ করা যায়?

আইনত সোলেনামা ডিক্রি চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে সাধারণ কোনো আপিল চলে না। তবে যদি কোনো পক্ষ প্রমাণ করতে পারেন যে:

  • তার অজান্তে জালিয়াতির মাধ্যমে জাল স্বাক্ষর বা টিপসহি দিয়ে সোলেনামা নেওয়া হয়েছে,
  • কোনো বৈধ নাবালক অংশীদারের অধিকার বেআইনিভাবে খর্ব করা হয়েছে, অথবা
  • আদালতকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে—

তবে সেই পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারার অন্তর্নিহিত ক্ষমতায় (Inherent Power) অথবা জালিয়াতির অভিযোগে ডিক্রি বাতিলের জন্য পৃথক দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে পারেন। তাই সোলেনামা তৈরির সময় অভিজ্ঞ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ধাপ নিখুঁত রাখা জরুরি।

৭. অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের চেম্বারের আইনি সহায়তা

একটি অসতর্ক সোলেনামা ভবিষ্যতে নতুন করে পারিবারিক বিবাদের জন্ম দিতে পারে। তাই অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিটি দাগ, খতিয়ান ও শর্ত আইনি কাঠামোর ভেতর সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম ও তার দক্ষ লিগ্যাল টিম দেওয়ানি মামলায় আপস নিষ্পত্তির জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

সোলেনামা ড্রাফট, নোটিশ প্রদান বা আদালতের আপস ডিক্রি পেতে সরাসরি যোগাযোগ করুন:

⚖️ সোলেনামা ও দেওয়ানি আপস মীমাংসার জন্য আইনি পরামর্শ নিন

বাটোয়ারা মামলা, জমিজমা বিরোধ বা দেওয়ানি মামলায় দ্রুত সোলেনামা ডিক্রি পেতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন:

💬 WhatsApp-এ মেসেজ দিন 📞 সরাসরি কল করুন: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
📍 চেম্বার ১ (উত্তরা): বাড়ি ৪৬, সড়ক ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা পশ্চিম, ঢাকা-১২৩০
📍 চেম্বার ২ (কোর্ট হাউস স্ট্রিট): আইনজীবী সমিতি ভবন (৪র্থ তলা), ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

সোলেনামা করতে কি উভয় পক্ষের সমস্ত ওয়ারিশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, দেওয়ানি আইনে বাটোয়ারা বা সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় সম্পত্তিতে অংশীদারী থাকা সমস্ত জীবিত ওয়ারিশের লিখিত সম্মতি ও স্বাক্ষর ব্যতীত সোলেনামা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত হয় না।

সোলেনামা ডিক্রি পেতে কত সময় লাগে?

উভয় পক্ষ শর্তাবলীতে একমত হয়ে ড্রাফট প্রস্তুত করার পর আদালতে দাখিল করলে সাধারণত ১ থেকে ২টি শুনানির তারিখের মধ্যেই আদালত সোলেনামা ডিক্রি জারি করতে পারেন।

সোলেনামা ডিক্রির পর কি খারিজ বা নামজারি করা সম্ভব?

অবশ্যই, আদালতের সোলেনামা ডিক্রির সার্টিফাইড কপি ও তক্তাবন্দির নকশা দিয়ে এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে আবেদন করে নিজ নিজ নামে পৃথক জমা খারিজ বা নামজারি করা যায়।

সোলেনামা দেওয়ার পর কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে করণীয় কী?

যেহেতু এটি আদালতের ডিক্রি, তাই কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করলে দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশ অনুযায়ী ডিক্রি জারির (Execution Case) মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে আদালতের সাহায্য নেওয়া যায়।

আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০