সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক এফডিআরের উৎসে কর (AIT): আয়কর রিটার্নে রিফান্ড ও কর সমন্বয়ের নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পেনশনার, গৃহিণী কিংবা জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা যখন তাদের আজীবন সঞ্চয় ব্যাংকে এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন, তখন মুনাফা উত্তোলনের সময়ই ৫% থেকে ১০% উৎসে কর (AIT) কেটে রাখা হয়। কিন্তু অনেকেরই মোট বাৎসরিক আয় সাধারণ করমুক্ত সীমার (৩ লক্ষ ৫০ হাজার বা ৪ লক্ষ টাকা) নিচে হওয়া সত্ত্বেও কাটা যাওয়া এই টাকা সরকারের কোষাগারেই জমা থেকে যায়। সঠিক নিয়মে রিটার্ন দাখিল করলে এই অর্থ রিফান্ড পাওয়া বা পরবর্তী বছরে সমন্বয় করা সম্ভব। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের কর ও কোম্পানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

উৎসে কর (AIT) কী এবং ব্যাংক বা সঞ্চয় অধিদপ্তর কেন কর কাটে?

Advance Income Tax (AIT) হলো সরকার কর্তৃক আয়ের উৎস থেকেই কেটে রাখা অগ্রিম কর। সঞ্চয়পত্র বিধিমালা এবং ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা এবং ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট বা ডিপিএস-এর লভ্যাংশ প্রদানের সময় যথাক্রমে ৫% বা ১০% হারে উৎসে কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

করমুক্ত সীমার নিচে আয় হলে কি উৎসে কর ফেরত পাওয়া যায়?

যদি কোনো ব্যক্তি করদাতার মোট বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে হয় (পুরুষদের জন্য ৩,৫০,০০০ টাকা এবং নারী ও ৬৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণদের জন্য ৪,০০,০০০ টাকা), তবে তার ওপর কোনো নিয়মিত কর ধার্য হয় না। ফলে ব্যাংক যে কর কেটে নিয়েছে তা মূলত অতিরিক্ত পরিশোধ (Advance/Excess Tax), যা আইনগতভাবে রিফান্ডযোগ্য বা সমন্বয়যোগ্য।

আয়কর আইন ২০২৩: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও চূড়ান্ত করদায় (Final Settlement)

আয়কর আইন ২০২৩-এর বিশেষ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু সঞ্চয়পত্রে কাটা করকে চূড়ান্ত করদায় (Final Discharge of Tax Liability) হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে সঞ্চয়পত্রের মূলধন ও অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকিং উৎসের ক্ষেত্রে নিয়মিত রিটার্নে সঠিক খাতে আয় প্রদর্শন করলে উৎসে করের সমন্বয় বা কর দায় শূন্য দেখিয়ে অতিরিক্ত কেটে নেওয়া অংশ ফেরত পাওয়ার আইনি দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যাংক ট্যাক্স ডিডাকশন সার্টিফিকেট (Tax Certificate) সংগ্রহের নিয়ম

কর সমন্বয় বা রিফান্ড পেতে মূল প্রমাণ হলো ট্যাক্স সার্টিফিকেট। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা বা জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে প্রতি অর্থবছর শেষে (১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের লেনদেনের ওপর) সই ও সিলযুক্ত ‘Certificate of Deduction of Tax at Source’ সংগ্রহ করতে হবে। এতে মোট মুনাফার পরিমাণ এবং মোট কাটা করের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব থাকে।

ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) কর রিফান্ড ও সমন্বয়ের পদ্ধতি

অনলাইন ই-রিটার্ন দাখিলের সময় ‘Tax Payment’ অংশে গিয়ে ‘Advance Tax / AIT’ অপশনে ব্যাংকের নাম, চালানের তথ্য এবং কাটা করের পরিমাণ ইনপুট দিতে হবে। যদি হিসাব শেষে করদায় শুন্য আসে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোর্টাল দেখাবে ‘Refund Claimable’।

উপ-কর কমিশনার (DCT) বরাবর রিফান্ড ক্লেইম ও ব্যাংক হিসাবে টাকা প্রাপ্তি

অনলাইনে বা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দাখিলের পর রিটার্নের সার্টিফায়েড কপি এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes - DCT) বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক রিফান্ড ভাউচার বা সমন্বয়ের আবেদন জমা দিতে হয়। যাচাই শেষে এনবিআর করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT)-এর মাধ্যমে রিফান্ডের টাকা পাঠিয়ে দেয়।

সঞ্চয়পত্র করদাতাদের জন্য জরুরি চেকলিস্ট

  1. প্রতিটি সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক হিসাবের জন্য উৎসে কর প্রত্যয়নপত্র আগেই তুলে রাখুন।
  2. রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) নিয়মিতভাবে ব্যাংকে জমা দিন, অন্যথায় করের হার ১০% থেকে বেড়ে ১৫% হতে পারে।
  3. পরবর্তী বছরের প্রত্যাশিত করের সাথে সমন্বয়ের অপশন বেছে নিলে ঝামেলার পরিমাণ অনেক কমে যায়।