লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-26
বৈবাহিক জীবনে তুচ্ছ কারণে বা পরিবারের প্ররোচনায় অনেক সময় স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাবার বাড়ি চলে যান এবং দীর্ঘকাল স্বামীর সংসারে ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী যদি আইনের সঠিক আশ্রয় না নেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর পক্ষ থেকে যৌতুক বা নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। <strong>পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ (Family Courts Act 2023) অনুযায়ী স্বামী পারিবারিক আদালতে “দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মোকদ্দমা” (Suit for Restitution of Conjugal Rights)</strong> দায়ের করে স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রতিকার পেতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র পারিবারিক আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সাথে সরাসরি কথা বলতে কল করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a> নাম্বারে।
স্ত্রী রাগের মাথায় বাবার বাড়ি চলে গেলে প্রথমে উভয় পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে আলোচনার চেষ্টা করুন। কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ বা মোবাইলে আপত্তিকর মেসেজ পাঠাবেন না, কারণ এগুলো আদালতে নেতিবাচক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
স্ত্রী যদি সকল স্বর্ণালঙ্কার ও জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের এলাকার থানায় একটি জিডি করে রাখুন। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে স্ত্রী স্বেচ্ছায় বাড়ি ত্যাগ করেছেন এবং স্বামী তাকে বারবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এই জিডি ভবিষ্যতে স্ত্রীর পরিবারের সম্ভাব্য মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে স্ত্রীর ঠিকানায় একটি বিধিসম্মত লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাতে হবে।
পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এর ৫ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ সহকারী জজ / পারিবারিক আদালতে মাত্র ৫০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে এই মামলা দায়ের করা যায়। আদালত উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং সমঝোতা ব্যর্থ হলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দাম্পত্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ডিক্রি প্রদান করেন।
মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী যদি কোনো বৈধ কারণ ছাড়া স্বামীর সাথে বসবাস করতে অস্বীকৃতি জানান (নাশেজাহ বা অবাধ্য স্ত্রী), তবে স্বামী যতদিন তিনি আলাদা থাকবেন ততদিন তাকে খোরপোষ বা ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য নন। তবে দেনমোহর যেহেতু বিয়ের চুক্তি অনুযায়ী স্ত্রীর প্রাপ্য, তাই তা অপরিশোধিত থাকলে পরিশোধযোগ্য থাকে।
যদি স্ত্রী বা তার পরিবার প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে, তবে পূর্বের জিডি ও লিগ্যাল নোটিশ প্রদর্শন করে হাইকোর্ট থেকে তাৎক্ষণিক আগাম জামিন ও মামলা বাতিলের (Quashment under Section 561A CrPC) আবেদন করা যায়।
পারিবারিক সঙ্কট ও দাম্পত্য অধিকার মামলায় অভিজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন। ফোন: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।