স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে স্বামীর করণীয় ২০২৬ (আইনি নোটিশ ও জিডি করার নিয়ম)

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-26 · ১৪ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বৈবাহিক জীবনে তুচ্ছ কারণে বা পরিবারের প্ররোচনায় অনেক সময় স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাবার বাড়ি চলে যান এবং দীর্ঘকাল স্বামীর সংসারে ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী যদি আইনের সঠিক আশ্রয় না নেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর পক্ষ থেকে যৌতুক বা নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। <strong>পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ (Family Courts Act 2023) অনুযায়ী স্বামী পারিবারিক আদালতে “দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মোকদ্দমা” (Suit for Restitution of Conjugal Rights)</strong> দায়ের করে স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রতিকার পেতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র পারিবারিক আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সাথে সরাসরি কথা বলতে কল করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a> নাম্বারে।

⚡ স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে স্বামীর ধারাবাহিক পদক্ষেপ
  • ১. থানায় অবহিতকরণ জিডি: স্ত্রী স্বেচ্ছায় বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করে রাখা।
  • ২. লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ: আইনজীবীর মাধ্যমে স্ত্রীকে সম্মানজনকভাবে সংসারে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো।
  • ৩. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা: পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ডিক্রি প্রার্থনা করা।
  • ৪. খোরপোষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি: কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্ত্রী স্বামীর সাথে বসবাস না করলে তিনি ওই সময়ের জন্য ভরণপোষণ বা খোরপোষ দাবি করতে পারেন না।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. বিনা অনুমতিতে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে প্রাথমিক করণীয়
  2. ২. থানায় জিডি (General Diary) করে রাখার গুরুত্ব ও সুরক্ষাকবচ
  3. ৩. সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর নিয়ম
  4. ৪. পারিবারিক আদালতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মোকদ্দমা দায়েরের ধাপসমূহ
  5. ৫. স্ত্রী ফিরে না এলে দেনমোহর ও খোরপোষের আইনি অবস্থান
  6. ৬. যৌতুক বা নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ
  7. ৭. চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পারিবারিক আইনি সমাধান

১. বিনা অনুমতিতে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে প্রাথমিক করণীয়

স্ত্রী রাগের মাথায় বাবার বাড়ি চলে গেলে প্রথমে উভয় পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে আলোচনার চেষ্টা করুন। কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ বা মোবাইলে আপত্তিকর মেসেজ পাঠাবেন না, কারণ এগুলো আদালতে নেতিবাচক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

২. থানায় জিডি (General Diary) করে রাখার গুরুত্ব ও সুরক্ষাকবচ

স্ত্রী যদি সকল স্বর্ণালঙ্কার ও জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের এলাকার থানায় একটি জিডি করে রাখুন। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে স্ত্রী স্বেচ্ছায় বাড়ি ত্যাগ করেছেন এবং স্বামী তাকে বারবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এই জিডি ভবিষ্যতে স্ত্রীর পরিবারের সম্ভাব্য মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

৩. সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর নিয়ম

অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে স্ত্রীর ঠিকানায় একটি বিধিসম্মত লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাতে হবে।

৪. পারিবারিক আদালতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মোকদ্দমা দায়েরের ধাপসমূহ

পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩-এর ৫ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ সহকারী জজ / পারিবারিক আদালতে মাত্র ৫০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে এই মামলা দায়ের করা যায়। আদালত উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং সমঝোতা ব্যর্থ হলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দাম্পত্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ডিক্রি প্রদান করেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৫. স্ত্রী ফিরে না এলে দেনমোহর ও খোরপোষের আইনি অবস্থান

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী যদি কোনো বৈধ কারণ ছাড়া স্বামীর সাথে বসবাস করতে অস্বীকৃতি জানান (নাশেজাহ বা অবাধ্য স্ত্রী), তবে স্বামী যতদিন তিনি আলাদা থাকবেন ততদিন তাকে খোরপোষ বা ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য নন। তবে দেনমোহর যেহেতু বিয়ের চুক্তি অনুযায়ী স্ত্রীর প্রাপ্য, তাই তা অপরিশোধিত থাকলে পরিশোধযোগ্য থাকে।

৬. যৌতুক বা নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ

যদি স্ত্রী বা তার পরিবার প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে, তবে পূর্বের জিডি ও লিগ্যাল নোটিশ প্রদর্শন করে হাইকোর্ট থেকে তাৎক্ষণিক আগাম জামিন ও মামলা বাতিলের (Quashment under Section 561A CrPC) আবেদন করা যায়।

৭. চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পারিবারিক আইনি সমাধান

পারিবারিক সঙ্কট ও দাম্পত্য অধিকার মামলায় অভিজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন। ফোন: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০