স্ত্রী হঠাৎ তালাক নোটিশ পাঠিয়ে পুরো দেনমোহর দাবি করলে স্বামীর আইনি করণীয় ও সুরক্ষা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

দাম্পত্য জীবনে বিরোধ চরমে পৌঁছালে স্ত্রী অনেক সময় নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামের ক্ষমতাবলে (তালাক-ই-তৌফিজ) স্বামীকে একতরফা ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে দেন এবং একই সাথে পারিবারিক আদালতে বিপুল অঙ্কের দেনমোহর ও ভরণপোষণের মোকদ্দমা ঠুকে দেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর আইনসঙ্গত অধিকার কী এবং দেনমোহরের হিসাব কীভাবে আদালতে নিষ্পত্তি করতে হয়, তা নিয়ে বাস্তব আইনি পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

তালাক-ই-তৌফিজ বনাম খুলা তালাক: দেনমোহর পাওয়ার আইনি বিধান

মুসলিম আইনে স্ত্রীর তালাকের দুটি মূল রূপ রয়েছে:

  • তালাক-ই-তৌফিজ (Talaq-e-Tawfeez): কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকলে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রী তার নির্ধারিত সম্পূর্ণ দেনমোহর দাবি করার আইনগত অধিকার রাখেন।
  • খুলা তালাক (Khula Divorce): স্ত্রী যদি দেনমোহর বা কোনো আর্থিক দাবিত্যাগ করে স্বামীর সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান, তবে তিনি আর কোনো দেনমোহর দাবি করতে পারেন না।

ডিভোর্স নোটিশ পাওয়ার পর স্বামীর প্রথম ৩০ দিনের জরুরি পদক্ষেপ

নোটিশ হাতে পাওয়ার পর রাগ বা ক্ষোভে নোটিশ ছিঁড়ে ফেলা বা এড়িয়ে যাওয়া চরম ভুল। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুযায়ী নোটিশের একটি কপি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নিকট যায়। স্বামীকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মেয়রের কার্যালয়ে লিখিতভাবে প্রাপ্তিস্বীকার বা তার অবস্থান জানিয়ে জবাব দিতে হবে।

সালিসি পরিষদ (Arbitration Council)-এ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা

মেয়র বা চেয়ারম্যান কার্যালয় থেকে নোটিশ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে অন্তত ৩ বার সালিসি বৈঠকে ডাকা হয়। স্বামীকে অবশ্যই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধি পাঠাতে হবে। স্বামী যদি সংসার টিকিয়ে রাখতে চান, তবে সালিসি নোটে তা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

স্ত্রী যদি বিয়ের গহনা বা ক্যাশ টাকা আগেই নিয়ে থাকেন: প্রমাণের কৌশল

দেনমোহরের একটি বড় অংশ সাধারণত বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও উপহারসামগ্রীর মাধ্যমে উসুল (পরিশোধিত) দেখানো হয়। স্ত্রী যদি তালাকের পর দাবি করেন তিনি কিছুই পাননি, তবে বিয়ের সময়ের ফটো, ক্যাশ রসিদ এবং কাবিননামার উসুল কলামের তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে হবে। আদালতে প্রমাণিত হলে উসুলের অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি অংশের হিসাব হবে।

পারিবারিক আদালতে দেনমোহর মামলায় লিখিত জবাব (W.S.) দাখিল

স্ত্রী যদি পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন খোরপোশের মামলা করেন, তবে সমন পাওয়ার পর আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত জবাব (Written Statement) দাখিল করতে হবে। সেখানে স্বামীর প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য, পূর্বের পরিশোধিত অর্থ এবং কোনো অসদুপায় থাকলে তা তুলে ধরতে হবে।

আদালতে কিস্তিতে দেনমোহর পরিশোধের সুযোগ ও আপস নিষ্পত্তি

দেনমোহর স্ত্রীর চূড়ান্ত হক, তবে স্বামী যদি এককালীন বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধে অসমর্থ হন, তবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে সহজ মাসিক কিস্তিতে দেনমোহর পরিশোধের আবেদন পেশ করা যায়। পারিবারিক আদালত অধিকাংশ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কিস্তির সুবিধা মঞ্জুর করেন।

স্বামীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা ঠেকানোর আগাম প্রস্তুতি

তালাক কার্যকর হওয়ার সময় অনেক সময় চাপ সৃষ্টির জন্য স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক বা নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমন শঙ্কা থাকলে তালাকের নোটিশ ও সালিসি কার্যক্রমের সার্টিফায়েড কপি সাথে রেখে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আগাম জামিন (Anticipatory Bail) বা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রাখা অত্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা দেয়।