লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-01 · ১০ মিনিট পড়ুন
বাংলাদেশে অনেক পরিবারেই এমন দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি দেখা যায় যেখানে স্বামী জীবিকার তাগিদে বা অন্য কোনো কারণে বিদেশে গিয়ে দীর্ঘ বছর যাবৎ নিরুদ্দেশ, স্ত্রীর সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেন না এবং ভরণপোষণও প্রদান করেন না। এমন অবস্থায় স্ত্রী সমাজে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটান। প্রশ্ন জাগে — আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া কি স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন? স্বামী নিখোঁজ থাকলে আইনগতভাবে তালাক নেওয়ার সঠিক নিয়ম কী? <strong>মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯</strong> এবং <strong>মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১</strong> অনুযায়ী স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার ও নিয়মাবলী নিচে বিশদ আলোচনা করা হলো। যে কোনো পারিবারিক আইনি জটিলতায় সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:700;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পরামর্শ নিন।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন | মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ধারা ৭ ও ৮) ও পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ |
| স্ত্রীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা | কাবিননামার ১৮ নং কলামে ক্ষমতা থাকলে "তালাক-ই-তৌফিজ" অথবা পারিবারিক আদালতে/খোলা তালাক |
| তালাক কার্যকর হওয়ার সময় | ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান / সিটি মেয়র বরাবর নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন |
| দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন খোরপোষ | তালাক-ই-তৌফিজেও স্ত্রী সম্পূর্ণ বকেয়া দেনমোহর ও ৯০ দিনের ইদ্দত খোরপোষ পাবেন |
| নিবন্ধন ও সনদ | ৯০ দিন পূর্ণ হলে কাজী অফিসে তালাক রেজিস্ট্রেশন ও তালাক সনদ গ্রহণ |
অনেকেই মনে করেন স্বামী দীর্ঘদিন খোঁজ না রাখলে বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং আইনত বিপজ্জনক।
মুসলিম আইন বা বাংলাদেশের দেওয়ানি আইন অনুযায়ী কোনো বিবাহ নিজে নিজে বাতিল হয় না। আইনসম্মত বিচ্ছেদ ছাড়া স্ত্রী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে পূর্বের স্বামী ফিরে এসে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা (দ্বিবিবাহ / Bigamy) মোতাবেক মামলা করতে পারে, যাতে স্ত্রীর ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় বিবাহটি অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।
যদি আপনার কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্বামীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) শর্তহীনভাবে দেওয়া থাকে, তবে আপনি খুব সহজেই বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে পারবেন:
যদি কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে ক্ষমতা না থাকে এবং স্বামী দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকেন, তবে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ (The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939) এর ধারা ২(১) অনুযায়ী স্ত্রীর আদালতে যাওয়ার অধিকার রয়েছে:
"স্বামী চার বছর যাবৎ কোথায় আছেন তা অজ্ঞাত থাকলে বা খোঁজ না পাওয়া গেলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন।"
১৯৩৯ সালের আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী স্বামী যদি কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়াই একটানা দুই বছর স্ত্রীকে খোরপোশ বা ভরণপোষণ প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি লাভের অধিকারী হন।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
আদালতের মাধ্যমে ডিক্রি নেওয়ার ধাপসমূহ:
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্থানীয় তদন্তের ভিত্তিতে বিজ্ঞ পারিবারিক আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের একতরফা ডিক্রি (Ex-parte Decree) মঞ্জুর করেন।
আদালতের ডিক্রির একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করা হয়। ডিক্রির পর স্ত্রী প্রয়োজনীয় ইদ্দতকাল (সাধারণত ৯০ দিন) সম্পন্ন করার পর সম্পূর্ণ বৈধভাবে যেকোনো পাত্রের সাথে পুনর্বিবাহ করতে পারবেন।
বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও স্ত্রী তার কাবিননামায় প্রতিশ্রুত দেনমোহর (Dower) এবং বিগত দিনের ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। নিখোঁজ স্বামীর দেশে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থাকলে আদালত তা ক্রোক করে দেনমোহরের অর্থ পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন।
আপনার মামলা বা আইনি সংকট নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত প্র্যাকটিসিং আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আপনার নথিপত্র পর্যালোচনা করিয়ে নিন।
📍 চেম্বার ১: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ | চেম্বার ২: সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি ভবন, ঢাকা।
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ (Evidence Act) এর ১০৮ ধারা অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে যাদের স্বাভাবিকভাবে জানার কথা তারা টানা ৭ বছর কোনো খোঁজ না পান, তবে আদালত তাকে আইনত মৃত বলে গণ্য করতে পারেন।
না। নোটারি পাবলিক কোনো আদালত বা কাজী নন। নোটারি এফিডেভিট দিয়ে তালাক দেওয়া আইনসম্মত নয়; চেয়ারম্যানের নিকট ১৯৬১ সালের আইনের নোটিশ ও কাজী অফিসের রেজিস্ট্রেশন বা পারিবারিক আদালতের ডিক্রি বাধ্যতামূলক।
জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি ও একতরফা শুনানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে সাধারণত ৪ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে।