স্বামী দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকলে তালাকের নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বিদেশে চাকরি নিয়ে গিয়ে স্বামী হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে কিংবা দেশে কোনো পুরুষ বছরের পর বছর নিখোঁজ থাকলে তার স্ত্রী এক অনিশ্চিত ও মানবিক সংকটে পড়েন। স্বামী জীবিত না মৃত তা না জানায় স্ত্রী না পারছেন সংসার করতে, না পারছেন নতুন জীবন শুরু করতে। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে নিখোঁজ স্বামীর ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ ও আইনসম্মত পুনর্বিবাহের স্পষ্ট পথ রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২(১) ধারার সুনির্দিষ্ট বিধান

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন (Dissolution of Muslim Marriages Act 1939)-এর ২(১) ধারা অনুযায়ী—যদি কোনো স্বামীর কোনো সন্ধান বা অবস্থান টানা ৪ (চার) বছর যাবত তার স্ত্রী বা পরিবারের কারও জানা না থাকে, তবে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনত ছিন্ন করার পূর্ণ অধিকারী হন।

স্বামী কত বছর নিখোঁজ থাকলে পারিবারিক আদালতে মামলা করা যায়?

আইন অনুযায়ী ৪ বছর স্বামীর কোনো খোঁজ না মিললে পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মোকদ্দমা দায়ের করা যায়। তাছাড়া স্বামী যদি টানা ২ বছর যাবত স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অবহেলা করে থাকেন (ধারা ২-ii), তবে সেটিকেও মামলার অতিরিক্ত শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মামলা চলাকালীন জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও সমন জারি প্রক্রিয়া

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালত স্বামীর শেষ জানা ঠিকানায় সমন পাঠান। তিনি উপস্থিত না হলে বহুল প্রচারিত দুটি জাতীয় দৈনিকে সরকারি খরচে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও ৬ মাসের মধ্যে স্বামী হাজির না হলে বা তার অস্তিত্ব প্রমাণ না হলে আদালত স্ত্রীর অনুকূলে একতরফা বিবাহ বিচ্ছেদের চূড়ান্ত ডিক্রি (Decree) প্রদান করেন।

আদালতের ডিক্রি হওয়ার পর পুনর্বিবাহের সময়সীমা ও ইদ্দত

আদালতের ডিক্রি পাওয়ার পর স্ত্রীকে সাধারণ নিয়মানুযায়ী ৯০ দিনের ইদ্দত পালন করতে হয়। ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর স্ত্রী সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বৈধভাবে যে কোনো পাত্রের সাথে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন; আইনগতভাবে এতে কোনো বাধা থাকে না।

দেনমোহর ও নিখোঁজ স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর অধিকার

বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও স্ত্রীর পাওনা দেনমোহর (Dower) বাতিল হয় না। নিখোঁজ স্বামীর কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা ব্যাংক ব্যালেন্স থাকলে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে তা থেকে নিজের দেনমোহর এবং সন্তানদের ভরণপোষণ বাবদ অর্থ আদায়ের অধিকার সংরক্ষণ করেন।

নিখোঁজ স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি চেকলিস্ট

  1. স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সময় থানায় করা পূর্বের সাধারণ ডায়েরি (GD) সংগ্রহ করুন।
  2. বিয়ের মূল কাবিননামা ও কাজীর সত্যায়িত নকল সংগ্রহ করুন।
  3. স্থানীয় চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে স্বামী নিখোঁজের প্রত্যয়নপত্র নিন।
  4. বিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবীর মাধ্যমে পারিবারিক আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করুন।