লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-28
মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ অনুযায়ী স্ত্রী যদি স্বামীকে তালাক দিতে চান, তবে নিকাহনামার (কাবিননামা) ১৮ নম্বর ঘরের ক্ষমতা অনুযায়ী আইনিভাবে তালাক সম্পাদন করতে পারেন। দেনমোহর ও খোরপোষের অধিকার বজায় রেখে স্ত্রী কীভাবে স্বামীকে তালাক দেবেন সেই প্রক্রিয়া এই আর্টিকেলে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেকোনো পারিবারিক প্রয়োজনে পরামর্শ নিন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী নিকাহনামার ১৮ নম্বর ঘরে যদি স্বামীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা স্ত্রীকে অর্পণ করা থাকে, তবে তাকে তালাক-ই-তফউইজ (Talaq-e-Tawfeez) বলা হয়। এই ক্ষমতা থাকলে স্ত্রী কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বা যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে স্বামীকে তালাক প্রদান করতে পারেন।
আমাদের ডিভোর্স ও পারিবারিক আইন সেবা সেকশনে অন্যান্য আইনি নিয়ম পেতে পারেন।
১. কাজী অফিসে তালাক নামা সম্পাদন: স্ত্রীকে সরকারি কাজী অফিসে উপস্থিত হয়ে তালাকের কারণ বা সিদ্ধান্ত রেজিস্ট্রি খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে।
২. চেয়ারম্যান ও স্বামীকে নোটিশ প্রেরণ: তালাক সম্পাদনের পরপরই কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে স্বামীর বর্তমান ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে।
৩. ৯০ দিনের সময়সীমা (Iddat Period): নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন পর তালাক চূড়ান্ত কার্যকর হবে। এই ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী চাইলে আপোস মিমাংসা করতে পারেন।
অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ত্রী তালাক দিলে দেনমোহর পাওয়া যায় না। কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী, স্ত্রী তালাক দিলেও তার সম্পূর্ণ দেনমোহর (Mahr) এবং ইদ্দতকালীন খোরপোষের টাকা প্রাপ্তির অধিকার সম্পূর্ণ বহাল থাকে। স্বামী দেনমোহর না দিলে পারিবারিক আদালতে (Family Court) দেনমোহর আদায়ের মামলা করা যায়।
যদি ১৮ নম্বর ঘর খালি থাকে বা ক্ষমতা না দেওয়া থাকে, তবে স্ত্রী খুল তালাক (Khula Divorce) বা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে Dissolution of Muslim Marriages Act 1939 এর অধীনে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি লাভ করতে পারেন।
ডিভোর্স নোটিশ তৈরি, দেনমোহর আদায় বা সন্তানের কাস্টডি সংক্রান্ত যেকোনো বিবাদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ এডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সাথে কথা বলুন: