লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13
প্রথম স্ত্রীকে যথাযথ নিয়মে তালাক না দিয়ে কিংবা আইনানুগ ৯০ দিন সময় অতিবাহিত না হতেই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডবিধির দৃষ্টিতে মারাত্মক অপরাধ (Bigamy)। এমন প্রতারণামূলক বিয়ের ফলে শুধু স্বামীই নন, সহযোগিতা করা ভুয়া কাজী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ পরামর্শে <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সহায়তা নিন।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী—প্রথম স্ত্রী বলবৎ থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ যদি আরেকটি বিয়ে করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই স্থানীয় সালিসি পরিষদ (Arbitration Council)-এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করে পূর্বানুমতি নিতে হবে। সালিসি পরিষদ যদি বর্তমান স্ত্রীর কোনো যুক্তিসঙ্গত অপারগতা বা শারীরিক অসমর্থতা বিবেচনায় সন্তুষ্ট হয়, তবেই অনুমতি দিতে পারে। এই আইন অমান্য করে বিয়ে করলে ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
অনেকে মনে করেন প্রথম স্ত্রীকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তালাকের একটি চিঠি পাঠালেই বুঝি তালাক হয়ে গেল এবং তিনি মুক্ত! এটি একটি মারাত্মক ভুল। ১৯৬১ সালের আইনের ৭ ধারা মতে, চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর নিকট তালাকের নোটিশ পৌঁছানোর পর পূর্ণ ৯০ দিন অতিবাহিত হতে হবে। এই ৯০ দিনের মধ্যে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে। এই ৯০ দিন পার হওয়ার আগে যদি স্বামী বা স্ত্রী কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে আইনে তা সরাসরি অবৈধ ও দণ্ডনীয় ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হয়।
পূর্বের বিবাহ বহাল থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি জেনেশুনে আরেকটি বিয়েতে আবদ্ধ হন, তিনি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধী। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—আদালত দোষী সাব্যস্ত হলে স্বামীকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। এটি একটি অ-আমলযোগ্য হলেও জামিন-অযোগ্য এবং মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ।
যেসব কাজী জেনেশুনে প্রথম স্ত্রীর অমতে বা পূর্বের বিয়ের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ভুয়া হলফনামা তৈরি করে বিয়ে পড়ান, তারা মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্টার বরাবর লাইসেন্স বাতিলের অভিযোগ এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ও ৪২০ ধারায় সহায়তাকারী হিসেবে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়।
প্রথম স্ত্রী সরাসরি চিফ জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৮ ধারায় এবং ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৬(৫) ধারায় নালিশি মামলা (C.R. Case) দায়ের করতে পারেন। আদালতে কাবিননামা ও দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ উপস্থাপন করলেই আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant) জারি করেন।
দ্বিতীয় বিয়ে করার সাথে সাথে প্রথম স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহর (তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত উভয় অংশ) তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য হয়ে যায়। স্বামী তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা ডিক্রি জারি করে দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে আদায় করা যায়।