লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-05
মোবাইল হারিয়ে গেছে। কেউ হুমকি দিয়েছে। সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ হয়েছে। যাই ঘটুক না কেন — থানায় জিডি (জেনারেল ডায়েরি) প্রায়ই প্রথম সরকারি রেকর্ড যা আপনার তৈরি করা উচিত। তবু বেশিরভাগ মানুষ জানেন না — জিডি ও এফআইআরের পার্থক্য কী, কীভাবে লিখতে হয়।
জিডি বা সাধারণ ডায়েরি হলো বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় রক্ষিত একটি সরকারি নিবন্ধ। এতে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা সকল ঘটনা, অভিযোগ ও বিষয় লিপিবদ্ধ হয় যা তাৎক্ষণিক ফৌজদারি তদন্তের মাত্রায় পড়ে না। বেঙ্গল পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ (PRB) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রতিটি থানার তত্ত্বাবধানে এই ডায়েরি বাধ্যতামূলক।
একটি জিডি এন্ট্রি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক তারিখ-সিলমোহরযুক্ত রেকর্ড তৈরি করে। এটি এফআইআরের মতো ফৌজদারি অভিযোগ নয়, কিন্তু আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য আইনি দলিল। ঢাকার ফৌজদারি আইনজীবী পরামর্শ দিতে পারবেন আপনার পরিস্থিতিতে জিডি নাকি শক্তিশালী কিছু দরকার।
অনেকে জিডি ও এফআইআর (এজাহার/প্রথম তথ্য বিবৃতি) গুলিয়ে ফেলেন। এরা মৌলিকভাবে আলাদা:
বাস্তবে পুলিশ প্রায়ই এফআইআর না করে জিডি তৈরি করে — কখনো বৈধভাবে (অ-আমলযোগ্য অপরাধে), কখনো তদন্তের দায়িত্ব এড়াতে। আমলযোগ্য অপরাধ ঘটলে পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করলে CrPC-এর ১৯০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরাসরি আবেদন করা যায়।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে জিডি করুন:
বাংলাদেশে জিডি করা সাধারণত সহজ:
ডিউটি অফিসার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (OC) সাথে কথা বলুন। তারপরও না হলে কর্মকর্তার নাম ও ব্যাজ নম্বর নোট করে ঢাকা বা উত্তরার আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
একটি সঠিক জিডি আবেদনে থাকা উচিত:
ভাষা তথ্যনির্ভর ও আবেগমুক্ত রাখুন। স্পষ্ট, তারিখযুক্ত, তথ্যভিত্তিক বিবরণ আদালতে সবচেয়ে কার্যকর।
জিডি দাখিলের পর সত্যায়িত কপি নেওয়ার অধিকার আপনার আছে। এই কপিতে থানার সিল, জিডি সিরিয়াল নম্বর ও ডিউটি অফিসারের স্বাক্ষর থাকে। এটি ব্যবহার করা যায়:
কপি নিতে থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদন করুন। সরকারি ফি বিধি অনুযায়ী সামান্য ফি লাগতে পারে। থানা কপি দিতে অস্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
এফআইআরের মতো জিডি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করে না। তবে:
জিডি থানার সরকারি ডায়েরির অংশ এবং মুছে বা পরিবর্তন করা যায় না। এই স্থায়িত্বই এর সবচেয়ে বড় সাক্ষ্যগত মূল্য।
রহিমা বেগম উত্তরায় একটি প্লটের মালিক। পাশের একজন ডেভেলপার তার জমি দখল করার চেষ্টা করছেন। একদিন ডেভেলপারের শ্রমিকরা এসে পরিবারকে জমি ছেড়ে দিতে মৌখিক হুমকি দেয়। কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি, কিন্তু হুমকি গুরুতর।
রহিমা স্থানীয় থানায় গিয়ে ডেভেলপার ও তার শ্রমিকদের নাম উল্লেখ করে জিডি দাখিল করেন। লিখিত আবেদন জমা দেন, হোয়াটসঅ্যাপ হুমকির স্ক্রিনশট সংযুক্ত করেন এবং জিডি নম্বর ও সত্যায়িত কপি নেন।
তিন সপ্তাহ পরে শ্রমিকরা শারীরিকভাবে দখলের চেষ্টা করলে তিনি এফআইআর দায়ের করেন। পূর্ববর্তী জিডি একটি হয়রানির ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে এবং তার বক্তব্যকে শক্তিশালী করে। উত্তরার সম্পত্তি আইনজীবী নিষেধাজ্ঞার আবেদন ও এফআইআর উভয়ে এই জিডি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন।