থানায় অভিযোগ দায়ের ও অনলাইনে জিডি করার সঠিক নিয়ম ২০২৬ — আইনি প্রতিকার ও এফআইআর গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06 · ১৩ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>দৈনন্দিন জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ফোনে হুমকি, চাঁদাবাজি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার হয়রানির শিকার হলে থানায় অভিযোগ বা জিডি করা আমাদের প্রথম আইনি পদক্ষেপ। তবে অনেকেই জানেন না জিডি ও এজাহারের মধ্যে পার্থক্য কী কিংবা ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে অনলাইন জিডি করা যায়। আবার থানা যদি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে তবে সরাসরি কোর্টে মামলা করার বিকল্প পথও রয়েছে। সম্পূর্ণ গাইড পেতে পড়ুন। আইনি সহায়তায়: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · ফৌজদারি ও থানা-পুলিশ বিষয়ক আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
অফিসিয়াল আবেদন পোর্টালpcc.police.gov.bd (বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল)
সরকারি চালান ফি৫০০ টাকা (সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি চালান কোড: ১-২২০১-০০০১-২৬৮১ বা অনলাইন পেমেন্ট)
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রপাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি (মেয়াদ ন্যূনতম ৩ মাস) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
ভেরিফিকেশন ও ডেলিভারি সময়সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস (থানা ভেরিফিকেশন ও SP/DC কাউন্টার সাইনসহ)
অনলাইন স্ট্যাটাস চেকpcc.police.gov.bd পোর্টালে পাসপোর্ট বা রেফারেন্স নম্বর দিয়ে চেক
⚡ থানায় অভিযোগ ও অনলাইন জিডি — তাৎক্ষণিক সমাধান
  • সাধারণ ডায়েরি (GD) হলো কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কার কথা বা জিনিস হারানোর ঘটনা পুলিশকে আইনত অবহিত করা।
  • আমলযোগ্য গুরুতর অপরাধে (যেমন মারামারি, ডাকাতি, ধর্ষণ) সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হয়।
  • মোবাইল প্লে স্টোর থেকে "Online GD" অ্যাপ ইনস্টল করে এনআইডি ও ছবি ভেরিফাই করে ঘরে বসেই জিডি করা সম্ভব।
  • থানা যদি মামলা নিতে গড়িমসি করে, তবে সরাসরি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর (CR) মামলা দায়ের করা যায়।
  • জিডি নম্বর ও রসিদ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতের যে কোনো আইনি সুরক্ষায় অকাট্য দালিলিক প্রমাণ।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কী এবং কখন এটি জরুরি?
  2. ২. সাধারণ ডায়েরি (GD) ও এফআইআর (FIR)-এর মৌলিক পার্থক্য
  3. ৩. অনলাইনে জিডি (Online GD) করার ধাপে ধাপে নিয়ম
  4. ৪. থানায় গিয়ে অফলাইনে লিখিত অভিযোগ খসড়ার নমুনা ও কাঠামো
  5. ৫. জীবননাশের হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর আইনি অভিযোগ
  6. ৬. থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করলে করণীয় কী?
  7. ৭. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি সিআর (CR) নালিশি মামলা
  8. ৮. বিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ
  9. দলিলের মূল কপি হারানোর জিডি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নিয়ম
  10. সাইবার বুলিং ও অনলাইনে ব্লাকমেইলিংয়ে জরুরি হেল্পলাইন ও আইনি প্রতিকার
  11. মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো জিডি করার ভয়াবহ আইনি পরিণতি
  12. বিভিন্ন প্রকার জিডি লেখার স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট ও উদাহরণ

১. জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কী এবং কখন এটি জরুরি?

পুলিশ আইনের ৪৪ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪/১৫৫ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি থানায় একটি সাধারণ রেজিস্টার বা বালাম বই সংরক্ষণ করা হয়, যাকে জেনারেল ডায়েরি বা জিডি (General Diary) বলা হয়।

জিডি সাধারণত দুই ধরনের ক্ষেত্রে করা হয়:

  • হারানো সংক্রান্ত জিডি: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট, চেকবই, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জমির মূল দলিল, সার্টিফিকেটের মূল কপি ইত্যাদি হারিয়ে গেলে ডুপ্লিকেট কপি তোলার জন্য জিডি বাধ্যতামূলক।
  • নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির জিডি: কেউ যদি ফোনে বা সরাসরি জীবননাশের হুমকি দেয়, চাঁদা দাবি করে, বা ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিক থানায় জিডি করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিগোচর করা হয়।

২. সাধারণ ডায়েরি (GD) ও এফআইআর (FIR)-এর মৌলিক পার্থক্য

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই জিডি ও এফআইআর বা এজাহার নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দুটি কখনোই এক নয়।

বিষয় সাধারণ ডায়েরি (GD) এজাহার বা এফআইআর (FIR)
অপরাধের ধরনআমল-অযোগ্য (Non-Cognizable) অপরাধ বা আশঙ্কাআমলযোগ্য (Cognizable) অপরাধ যেমন খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ
গ্রেফতারের ক্ষমতাআদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে নাওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে পারে
তদন্তের অনুমতিম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতিরেকে তদন্ত করা যায় নাপুলিশ স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে
চার্জশিটনন-এফআইআর রিপোর্ট বা সাধারণ প্রতিবেদন দেওয়া হয়পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়

৩. অনলাইনে জিডি (Online GD) করার ধাপে ধাপে নিয়ম

বাংলাদেশ পুলিশ এখন নাগরিকদের সুবিধার জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল অনলাইন জিডি সেবা চালু করেছে। বিশেষ করে হারানো ও প্রাপ্তি সংক্রান্ত জিডি মুহূর্তের মধ্যেই ঘরে বসে করা যায়।

📱 অনলাইন জিডি করার প্রক্রিয়া

  1. অ্যাপ ইনস্টলেশন: Google Play Store বা Apple App Store থেকে "Online GD" অ্যাপটি ডাউনলোড করুন অথবা gd.police.gov.bd পোর্টালে যান।
  2. রেজিস্ট্রেশন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করে ফেস ভেরিফিকেশন (লাইভ ছবি স্ক্যান) ও মোবাইল নম্বরে প্রাপ্ত ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  3. আবেদনের ধরন নির্বাচন: 'হারানো' বা 'অন্যান্য অভিযোগ' নির্বাচন করুন।
  4. বিবরণ প্রদান: যে থানাধীন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে তা সিলেক্ট করে হারানোর তারিখ, সময়, স্থান এবং বিস্তারিত বিবরণ লিখুন।
  5. ডিজিটাল কপি ডাউনলোড: আবেদন সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট থানা থেকে অনুমোদন পেলে কিউআর কোডযুক্ত একটি ডিজিটাল জিডি সার্টিফিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নেওয়া যায়।

৪. থানায় গিয়ে অফলাইনে লিখিত অভিযোগ খসড়ার নমুনা ও কাঠামো

যদি সরাসরি থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে হয়, তবে একটি সাদা কাগজে স্পষ্টাক্ষরে আবেদন লিখতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্রে নিচের বিষয়গুলো থাকা জরুরি:

  • বরাবর: অফিসার ইনচার্জ (OC), [সংশ্লিষ্ট থানার নাম, জেলা]।
  • বিষয়: সাধারণ ডায়েরি (GD) করার জন্য আবেদন / আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের আবেদন।
  • বাদীর পরিচয়: নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর।
  • বিবাদীর বিবরণ: বিবাদী বা সন্দেহভাজনদের নাম-ঠিকানা (জানা থাকলে) উল্লেখ করা।
  • ঘটনার বিবরণ: ঘটনার সঠিক তারিখ, সময় ও স্থান (PO)। হুমকি দিলে কী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হুবহু উদ্ধৃত করা।
  • স্বাক্ষর ও রিসিভ কপি: অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থানার পক্ষ থেকে সিল ও ডায়েরি নম্বরসহ বাদীর জন্য একটি অনুলিপি (রিসিভ কপি) স্বাক্ষরসহ গ্রহণ করা।

৫. জীবননাশের হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর আইনি অভিযোগ

বর্তমানে জমি বিরোধ, পারিবারিক কলহ কিংবা ব্যবসায়িক পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ফোনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি ও অশ্লীল বার্তা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।

এক্ষেত্রে সাধারণ অভিযোগ করলে পুলিশ অনেক সময় গুরুত্ব দেয় না। কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত প্রমাণাদি অভিযোগের সাথে সংযুক্ত করুন:

  • অডিও কল রেকর্ডিং: হুমকির সুস্পষ্ট অডিও রেকর্ড সিডিতে বা পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে দরখাস্তে তা উল্লেখ করুন।
  • স্ক্রিনশট ও ইউআরএল (URL): ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দিলে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের লিংক ও স্ক্রিনশটের রঙিন প্রিন্ট কপি যুক্ত করুন।
  • সাইবার ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়: সাইবার নিরাপত্তা আইন বা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে থানাকে সরাসরি মামলা নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিন।

৬. থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করলে করণীয় কী?

অনেক সময় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে বা জমি সংক্রান্ত বিরোধকে দেওয়ানি বিরোধ আখ্যা দিয়ে থানা পুলিশ এজাহার নিতে অনীহা প্রকাশ করে। এমতাবস্থায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সামনে একাধিক কার্যকর আইনি বিকল্প রয়েছে:

🚨 পুলিশ মামলা না নিলে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ

  1. সার্কেল এসপি বা ডিসি বরাবর আবেদন: জেলার পুলিশ সুপার (SP) বা মেট্রোপলিটন এলাকার ডেপুটি কমিশনার (DC) বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অভিযোগ প্রেরণ করুন।
  2. সরাসরি আদালতে সিআর মামলা: থানাকে পুরোপুরি এড়িয়ে আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে নালিশ পেশ করুন। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি পথ।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৭. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি সিআর (CR) নালিশি মামলা

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ও ২০০ ধারা অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তি সরাসরি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে নালিশি মামলা বা সিআর (Complaint Register) মামলা দায়ের করতে পারেন।

আদালতে আইনজীবী মারফত আরজি পেশ করার পর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ম্যাজিস্ট্রেট নিচের যেকোনো একটি আদেশ প্রদান করতে পারেন:

  • ১৫৬(৩) ধারা মতে থানাকে এফআইআরের নির্দেশ: ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগপত্রটি থানায় পাঠিয়ে সরাসরি নিয়মিত মামলা (FIR) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
  • আদালতের সরাসরি সমন বা ওয়ারেন্ট: আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকলে সরাসরি সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
  • বিচার বিভাগীয় বা পিবিআই (PBI) তদন্ত: নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) বা সিআইডি-কে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়।

৮. বিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

আইনি সুরক্ষায় অভিজ্ঞ আইনজীবীর শরণাপন্ন হোন

থানায় অভিযোগ ড্রাফটিং, হুমকির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি নিরাপত্তা এবং আদালতে শক্তিশালী সিআর মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলমের সরাসরি আইনি দিকনির্দেশনা গ্রহণ করুন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

৯. দলিলের মূল কপি হারানোর জিডি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নিয়ম

জমির মূল রেজিস্ট্রি দলিল, বায়া দলিল, পর্চা বা সিকিউরিটি পেপার হারিয়ে গেলে কেবল জিডি করাই যথেষ্ট নয়। ডুপ্লিকেট সার্টিফাইড কপি উত্তোলন এবং ব্যাংকে বন্ধক রাখা থেকে রক্ষা করতে আইনি প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

📄 হারানো দলিলের পরবর্তী ৩টি আইনি ধাপ

  1. থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD): দলিলের নম্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, দাতার নাম, গ্রহীতার নাম এবং দাগ-খতিয়ানসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে জিডি করুন।
  2. জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি (Public Notice): একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় বাংলা দৈনিকে জিডি নম্বর উল্লেখ করে সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করুন যাতে কেউ উক্ত দলিল দিয়ে জালিয়াতি করতে না পারে।
  3. সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নকল উত্তোলন: জিডির মূল কপি ও পত্রিকার কাটিং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দিয়ে তল্লাশ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে দলিলের সার্টিফাইড কপি (নকল) উত্তোলন করুন।

১০. সাইবার বুলিং ও অনলাইনে ব্লাকমেইলিংয়ে জরুরি হেল্পলাইন ও আইনি প্রতিকার

অনলাইনে ছবি বিকৃত করা, ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে হয়রানি করা বা হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করলে কখনোই কালক্ষেপণ করবেন না।

বাংলাদেশ পুলিশের Cyber Police Centre (CPC) এবং Police Cyber Support for Women (PCSW) হটলাইনে (01320-000888) অথবা জাতীয় জরুরি সেবা 999-এ কল করে তাৎক্ষণিক আইনি সুরক্ষা নেওয়া যায়। জিডি করার সময় লিঙ্ক এবং স্ক্রিনশটের মেটাডাটা সংরক্ষণ করে দিলে সাইবার অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

১১. মিথ্যা অভিযোগ বা সাজানো জিডি করার ভয়াবহ আইনি পরিণতি

পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ প্রতিবেশীকে হয়রানি করতে মিথ্যা জিডি বা বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ।

⚖️ মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির কঠোর ধারা

  • দণ্ডবিধি ধারা ১৮২ (ভুয়া তথ্য প্রদান): সরকারি কর্মচারীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
  • দণ্ডবিধি ধারা ২১১ (ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা): কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড হতে পারে; আর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনযোগ্য অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
  • মানহানির মোকদ্দমা (Penal Code 499/500): মিথ্যা অভিযোগের ফলে সমাজে মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে মানহানির ফৌজদারি মামলা ও ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি মোকদ্দমা করতে পারেন।

১২. বিভিন্ন প্রকার জিডি লেখার স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট ও উদাহরণ

থানায় আবেদনের সুবিধার্থে নিচে একটি আদর্শ অভিযোগপত্রের নমুনা তুলে ধরা হলো:

📝 জিডির লিখিত কাঠামো

বরাবর: অফিসার ইনচার্জ, উত্তরা পূর্ব থানা, ঢাকা।
বিষয়: জীবননাশের হুমকির প্রেক্ষিতে সাধারণ ডায়েরি (GD) করার আবেদন।
জনাব, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী [আপনার নাম, বয়স, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা] এই মর্মে জানাচ্ছি যে, বিগত [তারিখ] আনুমানিক [সময়] ঘটিকায় বিবাদী [নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর] আমাকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এই বলে হুমকি দেয় যে... [ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ]। এমতাবস্থায় আমি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি থানায় জিডিভুক্ত করার প্রার্থনা করছি।
বিনীত নিবেদক: [স্বাক্ষর, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বর]

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

অনলাইনে জিডি করতে কি কোনো টাকা লাগে?

না। বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

জিডি করলে কি পুলিশ তাৎক্ষণিক আসামিকে গ্রেফতার করতে পারে?

না। সাধারণ ডায়েরি আমল-অযোগ্য ক্ষেত্রে হয়, তাই আদালতের অনুমতি বা ওয়ারেন্ট ব্যতীত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে না।

থানা মামলা না নিলে কি আদালতে মামলা করা যায়?

হ্যাঁ। সরাসরি সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে সিআর (CR) মামলা দায়ের করা যায়।

জিডি করার কতদিন পর পর্যন্ত এর কার্যকারিতা থাকে?

জিডি কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বাতিল হয় না; এটি পুলিশ রেকর্ডে স্থায়ী তথ্য ও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।

হুমকির জিডি করার নিয়ম কী?

হুমকিদাতার মোবাইল নম্বর, কলের সময় এবং অডিও রেকর্ডিং বা স্ক্রিনশটসহ ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ জমা দিতে হয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০