পণ্যের নাম বা ট্রেডমার্ক চুরি হলে আইনি প্রতিকার ২০২৬ — কপিরাইট মামলা, ট্রেডমার্ক কোর্ট ও ক্ষতিপূরণ

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>বছরের পর বছর ব্র্যান্ডিং করে পণ্য বাজারে জনপ্রিয় করেছেন, অথচ অসাধু ব্যবসায়ী আপনার পণ্যের নাম, প্যাকেট বা লোগো হুবহু নকল করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে আপনার সুনাম ও কোটি টাকার বাজার নষ্ট করছে? <strong>ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯ এবং কপিরাইট আইন ২০০০ অনুযায়ী জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে নকল পণ্য তাৎক্ষণিক ক্রোক ও লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।</strong> ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

ব্র্যান্ড চুরির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে দুটি প্রধান ধারণার পার্থক্য জানা জরুরি:

মামলার ধরন আইনি ভিত্তি কখন প্রযোজ্য
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন মামলা (Infringement Suit) ট্রেডমার্ক আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা ট্রেডমার্কটি ডিপিডিটি (DPDT) থেকে রেজিস্ট্রিকৃত; কোনো সাদৃশ্যপূর্ণ নাম বা লোগো ব্যবহার করলেই সরাসরি লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়
পাসিং অফ মোকদ্দমা (Passing Off Suit) কমন ল অধিকার ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি করা না থাকলেও পণ্যের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে, যা ব্যবহার করে অন্য কেউ প্রতারণা করছে

অনেকেই ভাবেন ট্রেডমার্ক সার্টিফিকেট হাতে না থাকলে বুঝি কোনো প্রতিকার নেই। এটি সত্য নয়:

পাসিং অফ সুরক্ষা: আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনি বাজারে সবার আগে (Prior User) এই নাম ব্যবহার করে সুনামের সাথে পণ্য বিক্রয় করে আসছেন, তবে প্রতিপক্ষ যদি পরে ট্রেডমার্ক আবেদনও করে থাকে, তাহলেও আদালত নকলকারীকে ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেবেন। তবে সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দ্রুত ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করাই সর্বোত্তম।

ব্র্যান্ড চুরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মুহূর্তের মধ্যে বাজারে থাকা নকল পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করা:

  • বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়েরের সাথে সাথে দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) চাওয়া হয়।
  • আদালত আদালত কমিশনার (Court Commissioner) বা স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেন যেন বিবাদীর কারখানা ও গোডাউনে রেইড দিয়ে নকল প্যাকেজিং, ডাইস ও পণ্য তাৎক্ষণিক সিলগালা করে জব্দ করা হয়।

ট্রেডমার্ক আইনের ৭৩ থেকে ৮০ ধারায় নকলবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি শাস্তির কঠোর বিধান রাখা হয়েছে:

আইনি শাস্তি ও জেল-জরিমানা:

  • অন্যের ট্রেডমার্ক নকল করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা।
  • দ্বিতীয়বার একই অপরাধ সংঘটন করলে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা।
  • দণ্ডবিধির ৪৭৯ থেকে ৪৮৬ ধারায় ভুয়া সম্পত্তি চিহ্নের (Property Mark) অভিযোগে থানায় বা আদালতে সরাসরি সিআর মামলা করা যায়।

নকল পণ্য বিক্রির কারণে আপনার কোম্পানির বিক্রিতে যে ধস নেমেছে, আদালত বিবাদীকে তার সমস্ত বিক্রয় খাতা (Accounts of Profits) আদালতে দাখিল করতে বাধ্য করতে পারেন। নকল পণ্য বিক্রি করে বিবাদী যে মুনাফা অর্জন করেছে, আদালত সেই সম্পূর্ণ অর্থ বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের ডিক্রি দিতে পারেন।

⚖️ আপনার ব্র্যান্ড ও মেধাসম্পদের শতভাগ আইনি পাহারা

আপনার কষ্টের তৈরি ব্র্যান্ড অন্য কাউকে চুরি করতে দেবেন না। লিগ্যাল নোটিশ, নকল গোডাউনে পুলিশ রেইড এবং জেলা জজ আদালতে ইনজাংশন মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ