পণ্যের নাম বা ট্রেডমার্ক চুরি হলে আইনি প্রতিকার ২০২৬ — কপিরাইট মামলা, ট্রেডমার্ক কোর্ট ও ক্ষতিপূরণ

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-10 · ১৫ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>বছরের পর বছর ব্র্যান্ডিং করে পণ্য বাজারে জনপ্রিয় করেছেন, অথচ অসাধু ব্যবসায়ী আপনার পণ্যের নাম, প্যাকেট বা লোগো হুবহু নকল করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে আপনার সুনাম ও কোটি টাকার বাজার নষ্ট করছে? <strong>ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯ এবং কপিরাইট আইন ২০০০ অনুযায়ী জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে নকল পণ্য তাৎক্ষণিক ক্রোক ও লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।</strong> ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইন বিশেষজ্ঞ: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট জামিন আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ ট্রেডমার্ক ও ব্র্যান্ড চুরির প্রতিকারে ৫টি পদক্ষেপ
  • ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কস (DPDT) থেকে আপনার ট্রেডমার্কের রেজিস্ট্রেশন সনদ সংগ্রহ করুন
  • নকল পণ্যের নমুনা, বিক্রির পাকা রসিদ ও গোডাউনের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা সংগ্রহ করুন
  • বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে নকল উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধের জন্য ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার লিগ্যাল নোটিশ পাঠান
  • বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা (Infringement Suit) এবং পাসিং অফ (Passing Off) মামলা দায়ের করুন
  • আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং রেইড দিয়ে নকল পণ্য জব্দের সার্চ ওয়ারেন্ট (Search Warrant) নিন
📋 সূচিপত্র
  1. ১. ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯: ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন (Infringement) বনাম পাসিং অফ (Passing Off)
  2. ২. ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি না থাকলে কি মামলা করা যায়?
  3. ৩. জেলা জজ আদালতে ইনজাংশন ও পুলিশ রেইড (Search & Seizure)
  4. ৪. ফৌজদারি প্রতিকার: জাল সিল ও নকল পণ্য প্রস্তুতের কঠোর শাস্তি
  5. ৫. দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ ও হিসাবের মামলা (Damages & Account of Profits)
  6. ৬. সুপ্রিম কোর্টের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইনজীবীর পরামর্শ

১. ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯: ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন (Infringement) বনাম পাসিং অফ (Passing Off)

ব্র্যান্ড চুরির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে দুটি প্রধান ধারণার পার্থক্য জানা জরুরি:

মামলার ধরন আইনি ভিত্তি কখন প্রযোজ্য
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন মামলা (Infringement Suit) ট্রেডমার্ক আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা ট্রেডমার্কটি ডিপিডিটি (DPDT) থেকে রেজিস্ট্রিকৃত; কোনো সাদৃশ্যপূর্ণ নাম বা লোগো ব্যবহার করলেই সরাসরি লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়
পাসিং অফ মোকদ্দমা (Passing Off Suit) কমন ল অধিকার ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি করা না থাকলেও পণ্যের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে, যা ব্যবহার করে অন্য কেউ প্রতারণা করছে

২. ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি না থাকলে কি মামলা করা যায়?

অনেকেই ভাবেন ট্রেডমার্ক সার্টিফিকেট হাতে না থাকলে বুঝি কোনো প্রতিকার নেই। এটি সত্য নয়:

পাসিং অফ সুরক্ষা: আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনি বাজারে সবার আগে (Prior User) এই নাম ব্যবহার করে সুনামের সাথে পণ্য বিক্রয় করে আসছেন, তবে প্রতিপক্ষ যদি পরে ট্রেডমার্ক আবেদনও করে থাকে, তাহলেও আদালত নকলকারীকে ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেবেন। তবে সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দ্রুত ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করাই সর্বোত্তম।

৩. জেলা জজ আদালতে ইনজাংশন ও পুলিশ রেইড (Search & Seizure)

ব্র্যান্ড চুরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মুহূর্তের মধ্যে বাজারে থাকা নকল পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করা:

  • বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়েরের সাথে সাথে দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) চাওয়া হয়।
  • আদালত আদালত কমিশনার (Court Commissioner) বা স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেন যেন বিবাদীর কারখানা ও গোডাউনে রেইড দিয়ে নকল প্যাকেজিং, ডাইস ও পণ্য তাৎক্ষণিক সিলগালা করে জব্দ করা হয়।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৪. ফৌজদারি প্রতিকার: জাল সিল ও নকল পণ্য প্রস্তুতের কঠোর শাস্তি

ট্রেডমার্ক আইনের ৭৩ থেকে ৮০ ধারায় নকলবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি শাস্তির কঠোর বিধান রাখা হয়েছে:

আইনি শাস্তি ও জেল-জরিমানা:

  • অন্যের ট্রেডমার্ক নকল করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা।
  • দ্বিতীয়বার একই অপরাধ সংঘটন করলে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা।
  • দণ্ডবিধির ৪৭৯ থেকে ৪৮৬ ধারায় ভুয়া সম্পত্তি চিহ্নের (Property Mark) অভিযোগে থানায় বা আদালতে সরাসরি সিআর মামলা করা যায়।

৫. দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ ও হিসাবের মামলা (Damages & Account of Profits)

নকল পণ্য বিক্রির কারণে আপনার কোম্পানির বিক্রিতে যে ধস নেমেছে, আদালত বিবাদীকে তার সমস্ত বিক্রয় খাতা (Accounts of Profits) আদালতে দাখিল করতে বাধ্য করতে পারেন। নকল পণ্য বিক্রি করে বিবাদী যে মুনাফা অর্জন করেছে, আদালত সেই সম্পূর্ণ অর্থ বাদীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের ডিক্রি দিতে পারেন।

৬. সুপ্রিম কোর্টের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইনজীবীর পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

আপনার ব্র্যান্ড ও মেধাসম্পদের শতভাগ আইনি পাহারা

আপনার কষ্টের তৈরি ব্র্যান্ড অন্য কাউকে চুরি করতে দেবেন না। লিগ্যাল নোটিশ, নকল গোডাউনে পুলিশ রেইড এবং জেলা জজ আদালতে ইনজাংশন মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

ট্রেডমার্কের মামলা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?

ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯ অনুসারে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন ও ক্ষতিপূরণের মামলা সংশ্লিষ্ট জেলার বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে (District Judge Court) দায়ের করতে হয়।

ট্রেডমার্ক আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় কি নকলবাজদের ঠেকানো যায়?

হ্যাঁ, আবেদন দাখিলের স্লিপ এবং বাজারে পূর্ব ব্যবহারের (Prior User) শক্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন করে দেওয়ানি আদালতে পাসিং অফ আইনে তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ নেওয়া যায়।

অনলাইন পেজে নাম নকলের ক্ষেত্রে কি সাইবার মামলা করা যায়?

হ্যাঁ, ফেসবুকে অন্যের ট্রেডমার্ক বা লোগো ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং মেটার ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রিমুভাল সিস্টেমে আইডি বন্ধ করানো যায়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০