উত্তরাধিকার সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম – ব্যাংকের টাকা ও সঞ্চয়পত্র তোলার আইনি প্রক্রিয়া

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পরিবারের কোনো উপার্জনক্ষম সদস্য বা পিতা-মাতার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা ডিপিএস তোলার ক্ষেত্রে স্বজনরা বড় বিপাকে পড়েন। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি স্বজনদের হাতে টাকা তুলে দেয় না; এর জন্য ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার 'ওয়ারিশান সনদ' এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের <strong>'সাকসেশন সার্টিফিকেট' (Succession Certificate)</strong> জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের আইনি নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশান সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, খরচ ও দ্রুত টাকা তোলার উপায় এই গাইডে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

ওয়ারিশান সনদ বনাম আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট (পার্থক্য)

অনেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেওয়া ওয়ারিশ সনদ এবং আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটকে একই মনে করেন। কিন্তু এদের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে:

  • ওয়ারিশান সনদ (Warishan Certificate): স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত সনদ। এতে মৃত ব্যক্তির প্রকৃত বৈধ ওয়ারিশদের নামের তালিকা থাকে। এটি জমি নামজারি ও সাধারণ আইনি কাজে লাগে।
  • সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate): Succession Act, 1925 অনুযায়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত (যুগ্ম জেলা জজ) কর্তৃক জারিকৃত অফিসিয়াল আইনি ডিক্রি। মৃত ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্ট, ডিপিএস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্রের নির্দিষ্ট অর্থ উত্তোলনের জন্য এই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।

কখন ব্যাংকের টাকা তুলতে সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী:

  • মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমা টাকার পরিমাণ যদি কম হয় (সাধারণত ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার নিচে) এবং ব্যাংকে বৈধ নমিনি (Nominee) দেওয়া থাকে, তবে কেবল চেয়ারম্যানের ওয়ারিশান সনদ ও নমিনির এনআইডি দিয়ে ব্যাংক টাকা দিয়ে দেয়।
  • জমা টাকার পরিমাণ যদি বেশি হয় (২ লাখ টাকার উপরে) অথবা নমিনি নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, তবে ব্যাংক কতৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে আদালতের Succession Certificate দাবি করে।

ধাপ ১: ইউপি/পৌরসভা থেকে ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ

প্রথমে মৃত ব্যক্তির এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ডিজিটাল মৃত্যু সনদ ও ছবি জমা দিয়ে ওয়ারিশান সনদ নিতে হবে। এতে সকল ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী ও জীবিত পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে থাকতে হবে।

ধাপ ২: জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা (Succession Case) দায়ের

অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (যুগ্ম জেলা জজ) সাকসেশন পিটিশন ফাইল করতে হয়। পিটিশনে মৃত ব্যক্তির ব্যাংকের বিবরণ, হিসাব নম্বর এবং জমা টাকার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করতে হবে।

সাকসেশন মামলার আইনি ধাপসমূহ:

  1. পিটিশন জমা দেওয়ার পর আদালত পত্রিকায় (জাতীয় দৈনিকে) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন যেন অন্য কোনো গোপন ওয়ারিশ থাকলে তিনি আপত্তি জানাতে পারেন।
  2. বিজ্ঞপ্তির পর নির্ধারিত দিনে আদালতে আবেদনকারী ওয়ারিশদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
  3. কোনো আপত্তি না থাকলে আদালত আবেদনের পক্ষে সাকসেশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ডিক্রি প্রদান করেন।

আদালতের সাকসেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি ২০২৬ (Court Fee Calculation)

আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটের সরকারি ফি উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের ওপর শতাংশ হারে হিসাব করা হয় (Court Fees Act):

ব্যাংক জমা টাকার পরিমাণসরকারি সাকসেশন কোর্ট ফি (Court Fee)
২০,০০০ টাকা পর্যন্তসম্পূর্ণ ফি মুক্ত (No Fee)
২০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত১% (এক শতাংশ)
১,০০,০০০ টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে২% (দুই শতাংশ)

মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) থাকা সত্ত্বেও কি ওয়ারিশরা টাকা পাবে?

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী: নমিনি (Nominee) ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের কেবল ট্রাস্টি বা মাধ্যম মাত্র, তিনি টাকার একাচ্ছত্র মালিক নন।

নমিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুললেও মৃত ব্যক্তির ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সমস্ত বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে সেই টাকা ভাগ করে দিতে আইনিভাবে বাধ্য। নমিনি নিজে সব টাকা আত্মসাৎ করলে অন্য ওয়ারিশরা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারবেন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।