লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
পরিবারের কোনো উপার্জনক্ষম সদস্য বা পিতা-মাতার আকস্মিক মৃত্যুর পর তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা ডিপিএস তোলার ক্ষেত্রে স্বজনরা বড় বিপাকে পড়েন। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি স্বজনদের হাতে টাকা তুলে দেয় না; এর জন্য ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার 'ওয়ারিশান সনদ' এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের <strong>'সাকসেশন সার্টিফিকেট' (Succession Certificate)</strong> জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের আইনি নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশান সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, খরচ ও দ্রুত টাকা তোলার উপায় এই গাইডে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
অনেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেওয়া ওয়ারিশ সনদ এবং আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটকে একই মনে করেন। কিন্তু এদের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে:
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী:
প্রথমে মৃত ব্যক্তির এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ডিজিটাল মৃত্যু সনদ ও ছবি জমা দিয়ে ওয়ারিশান সনদ নিতে হবে। এতে সকল ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী ও জীবিত পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে থাকতে হবে।
অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (যুগ্ম জেলা জজ) সাকসেশন পিটিশন ফাইল করতে হয়। পিটিশনে মৃত ব্যক্তির ব্যাংকের বিবরণ, হিসাব নম্বর এবং জমা টাকার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করতে হবে।
আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটের সরকারি ফি উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের ওপর শতাংশ হারে হিসাব করা হয় (Court Fees Act):
| ব্যাংক জমা টাকার পরিমাণ | সরকারি সাকসেশন কোর্ট ফি (Court Fee) |
|---|---|
| ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত | সম্পূর্ণ ফি মুক্ত (No Fee) |
| ২০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ১% (এক শতাংশ) |
| ১,০০,০০০ টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে | ২% (দুই শতাংশ) |
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী: নমিনি (Nominee) ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের কেবল ট্রাস্টি বা মাধ্যম মাত্র, তিনি টাকার একাচ্ছত্র মালিক নন।
নমিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুললেও মৃত ব্যক্তির ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সমস্ত বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে সেই টাকা ভাগ করে দিতে আইনিভাবে বাধ্য। নমিনি নিজে সব টাকা আত্মসাৎ করলে অন্য ওয়ারিশরা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারবেন।
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।