লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
সহজ শর্তে মাত্র ৫ মিনিটে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণের ফাঁদে ফেলে ফেসবুক ও মোবাইলের ভুয়া ঋণ অ্যাপগুলো সাধারণ মানুষের পুরো কন্টাক্ট লিস্ট ও গ্যালারির ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর কিস্তির দিনেই শুরু হয় বর্বর ব্ল্যাকমেইল—ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের ইনবক্সে পাঠিয়ে টাকা আদায়ের হুমকি। এই আন্তর্জাতিক সাইবার ফাঁদ থেকে নিজেকে আইনিভাবে রক্ষা করার কৌশল তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
এই অ্যাপগুলো ইন্সটল করার সময় গ্রাহকের ক্যামেরা, গ্যালারি এবং ফোনবুকের (Contacts) পূর্ণ পারমিশন নিয়ে নেয়। ২ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে তারা ৩ দিন পর দাবি করে ১০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে সার্ভারে সংরক্ষিত কন্টাক্ট নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে গালিগালাজ এবং ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—একবার ভয় পেয়ে টাকা দিলে ব্ল্যাকমেইলাররা বারবার আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকবে। তাদের লক্ষ্য ঋণ আদায় নয়, বরং ব্ল্যাকমেইল করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া। তাই ভয় না পেয়ে অবিলম্বে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং আইনি সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিন।
ভিকটিমের সম্মানহানি করাই প্রতারক চক্রের মূল অস্ত্র। তাই নিজের ফেসবুক প্রোফাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট দিন—"আমার ফোন সম্প্রতি হ্যাক হয়েছে এবং একটি সাইবার চক্র আমার কন্টাক্ট লিস্টের বন্ধুদের ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কোনো মেসেজে কান দেবেন না বা টাকা পাঠাবেন না। বিষয়টি নিয়ে আমি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করেছি।" এতে প্রতারকদের ব্ল্যাকমেইল শক্তি শূন্য হয়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে যোগাযোগ করুন:
২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে প্রচার বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করার শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট বিকাশ/নগদ এজেন্ট নম্বর ও কল ট্র্যাকিং করে চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম।