লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
পৈতৃক সম্পত্তি সঠিকভাবে বাটোয়ারা বা বণ্টন হওয়ার আগেই অনেক সময় দেখা যায় কোনো এক শরিক অন্যান্য ভাই-বোন বা অংশীদারদের না জানিয়ে গোপনে বাইরের কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে সেরা দাগের জমি বা ভিটেবাড়ি লিখে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। একবার জমি বিক্রি হয়ে গেলে তা উদ্ধারে বহু বছর কোর্টে ঘুরতে হয়। তাই জমি হস্তান্তরের আগেই আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এনে বিক্রি ঠেকানোর আইনি কৌশল তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শরিক প্রতিটি ধূলিকণার ওপর সমান হিস্যার মালিক। কোনো নির্দিষ্ট সীমানা চিহ্নিত না করে একতরফাভাবে রাস্তার পাশের বা ভালো অংশের জমি এককভাবে বিক্রি করার কোনো আইনি অধিকার কোনো শরিকের নেই। সহ-শরিকদের সম্মতি ব্যতিরেকে এমন বিক্রি ভবিষ্যতে অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।
শরিক জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো উপযুক্ত সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit) দায়ের করা। এই মামলার মাধ্যমেই আদালত সহ-শরিকদের বৈধ হিস্যা নির্ধারণ করেন এবং সরকারি কমিশনারের মাধ্যমে সীমানা ভাগ করে দেন।
বাটোয়ারা মামলা দায়েরের দিনই দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে জরুরি দরখাস্ত দাখিল করতে হয়—যেন বিবাদী পক্ষ উক্ত জমি তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয়, দান, বন্ধক বা কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানির আগ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা (Ad-interim Injunction) বা স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন।
আদালত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় তিনটি আইনি উপাদান পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করেন:
আদালত নিষেধাজ্ঞা আদেশ মঞ্জুর করার সাথে সাথে আদেশের সার্টিফায়েড কপি তুলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত দরখাস্ত জমা দিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তালিকাভুক্ত হয়ে গেলে ওই দাগের জমির কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
নতুন ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে অন্যান্য শরিকের অংশ গোপন করে বা প্রতারণামূলকভাবে অতিরিক্ত জমি বিক্রি করাকে অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।