লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১১ মিনিট পড়ুন
প্রতারণা, অর্থ লেনদেন, পারিবারিক কলহ কিংবা পরকীয়ার অভিযোগে আজকাল প্রায় প্রতিটি মামলাতেই বাদীপক্ষ হাজির করেন হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট বা মোবাইলের অডিও কল রেকর্ড। কিন্তু নিছক একটি প্রিন্টআউট স্ক্রিনশট জমা দিলেই কি আদালত তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবেন? ডিজিটাল প্রমাণ প্রমাণের আইনি প্রক্রিয়া বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
ঐতিহ্যগতভাবে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনে (Evidence Act) শুধু কাগজ-কলমের কাগুজে দলিলকে প্রাথমিক (Primary) বা মাধ্যমিক (Secondary) সাক্ষ্য গণ্য করা হতো। তবে ২০২২ সালের যুগান্তকারী সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল রেকর্ড, ইমেইল, এসএমএস, সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বার্তা আইনিভাবে ‘দলিল’ বা সাক্ষ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
আজকাল ফটোশপ বা বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে হুবহু নকল চ্যাট তৈরি করা সম্ভব। তাই আদালতে শুধু এ-ফোর (A4) কাগজে প্রিন্ট করা হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট দিলে আদালত তা সহজেই নাকচ করতে পারেন যদি না মূল মোবাইল হ্যান্ডসেট, সিম কার্ড এবং প্রেরক-গ্রাহকের ফোন নম্বর সম্পর্কিত বিটিআরসি (BTRC) বা মেটা-র সার্ভার লগ ও ফরেনসিক সত্যায়ন দাখিল করা হয়।
ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে নিম্নলিখিত আইনি শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
সাইবার মামলায় প্রমাণের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো ‘চেইন অব কাস্টডি’। পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিভাইসটি জব্দ করার পর থেকে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো এবং আদালতে উপস্থাপনের আগ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি যেন মেমোরিতে হস্তক্ষেপ না করে, তা সিলগালা (Sealed) অবস্থায় লিপিবদ্ধ থাকতে হয়। এই চেইনে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো ডিজিটাল সাক্ষ্যই বাতিল গণ্য হতে পারে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যোগাযোগ ও চিঠিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার মৌলিক অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনগত অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ফোন ট্যাপ করা বা গোপন কল রেকর্ড ফাঁস করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে অপরাধ তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে বা সরাসরি ভিকটিম নিজের সুরক্ষায় রেকর্ড করলে আদালত তা ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিবেচনা করতে পারেন।