লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-31 · ১৫ মিনিট
পরিবারে প্রতারণা বা জালিয়াতি করে কোনো শারীরিক অসুস্থ বা বৃদ্ধ ব্যক্তির নিকট থেকে জমি লিখে নেওয়া কিংবা মৃত্যুর পর ভুয়া হেবা বা অসিয়তনামা দলিল বানিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা দেওয়ানী অপরাধ। জাল বা বেআইনিভাবে সম্পাদিত হেবা বা অসিয়তনামা বাতিল করতে আদালতে কীভাবে মামলা করবেন—তার আইনি সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো। সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পরামর্শ পেতে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্ক | রেজিস্ট্রেশন ফি ১% + স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫% (দলিলে প্রদর্শিত মূল্যের ওপর) |
| স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাট | স্থানীয় সরকার কর ২%–৩% + ভ্যাট ১.৫%–৪.৫% (অবস্থানভেদে) |
| উৎসে কর (Gain Tax / TDS) | এলাকা ও মৌজা রেট অনুযায়ী ১% থেকে ৮% (আয়কর আইন ২০২৩) |
| হেবা দলিলের সরকারি খরচ | রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে নামমাত্র ফি (প্রায় ১,৫০০–২,৫০০ টাকা) |
| অফিসিয়াল ভূমি ও দলিল পোর্টাল | land.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd |
মুসলিম আইন অনুযায়ী রক্তসম্পর্কিত ১২টি ক্যাটাগরির নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কোনো বিনিময় মূল্য ছাড়া জমি দান করাকে **হেবা (Heba)** বলা হয়। একটি বৈধ হেবার ৩টি আবশ্যক উপাদান থাকতে হবে: (১) দাতার পক্ষ থেকে প্রস্তাব (Offer), (২) গ্রহীতার পক্ষ থেকে সম্মতি (Acceptance), এবং (৩) জমিতে প্রকৃত দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession)।
কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় অসিয়তনামা লিখে যেতে পারেন। কিন্তু আইনের বিধান হলো—মৃতের মৃত্যুর পর তার মোট সম্পত্তি থেকে দাফন-কাফন ও ঋণ শোধের পর যে সম্পত্তি থাকবে, তার **সর্বোচ্চ ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ)** অংশ পর্যন্ত অসিয়ত কার্যকর হবে। ওয়ারিশদের সম্মতিক্রমে না হলে ১/৩ অংশের বেশি উইল বাতিলযোগ্য।
• দাতা মানসিক ভারসাম্যহীন বা মৃত্যুর মুখোপোত (Death-bed/Marz-ul-Maut) অবস্থায় থাকলে।
• ভয়ভীতি দেখিয়ে, প্রবঞ্চনা (Fraud) করে বা জালিয়াতির মাধ্যমে টিপসই নেওয়া হলে।
• হেবাকৃত জমিতে গ্রহীতার কোনো দিন প্রকৃত দখল প্রতিষ্ঠিত না হয়ে থাকলে।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
জাল হেবা বা অন্যায্য অসিয়তনামা রদ ও বাতিল করতে সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে **সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা (Section 39)** অনুযায়ী দলিল বাতিল করার দেওয়ানী মামলা (Suit for Cancellation of Deed) দায়ের করতে হয়। আদালত দলিলটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিলে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের রদবার্তা পাঠানো হয়।
দলিল বাতিলের মামলা, হেবা বিবাদ বা বাটোয়ারা বিবাদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সরাসরি সেবা পেতে কল করুন:
জাল বা অবৈধ দলিলের কথা জানতে পারার তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করতে হয়।