জমি খারিজ বা ই-নামজারি করতে কত টাকা লাগে ২০২৬? সরকারি ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সম্পূর্ণ নিয়ম
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-26 · ১৫ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
জমি ক্রয়, হেবা বা পৈতৃক সূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর সরকারের রেকর্ডবুকে সাবেক মালিকের নাম বাদ দিয়ে নিজের নামে নতুন খতিয়ান তৈরি করাকে <strong>নামজারি বা জমি খারিজ (Mutation)</strong> বলা হয়। অনেকেই না জানার কারণে নামজারি করাতে গিয়ে দালালদের ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হন, অথচ ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত <strong>প্রকৃত সরকারি ফি মাত্র ১,১৭০ টাকা</strong>। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র ভূমি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর এই পূর্ণাঙ্গ গাইডে ২০২৬ সালের ই-নামজারির সঠিক নিয়ম ও ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো। চেম্বার হটলাইন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a>।
⚡ একনজরে জমি খারিজ (ই-নামজারি) ২০২৬
নির্দিষ্ট সরকারি ফি: সর্বমোট ১,১৭০ টাকা (আবেদন ফি ৭০ টাকা + নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা + রেকর্ড সংশোধন ফি ১,০০০ টাকা + খতিয়ান ফি ৫০ টাকা)।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল দলিলের কপি, পূর্বের সকল বায়া দলিল, আরএস/বিএস খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রসিদ।
নিষ্পত্তির সময়সীমা: সাধারণ ক্ষেত্রে ২৮ কার্যদিবস এবং মহানগরী এলাকায় দ্রুত নিষ্পত্তির সরকারি বিধান রয়েছে।
১. জমি খারিজ বা নামজারি আসলে কি এবং এটি কেন বাধ্যতামূলক?
স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০ (SAT Act 1950)-এর ১৪৩ ও ১৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি জমি ক্রয়, হেবা, উত্তরাধিকার বা আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে জমির মালিকানা অর্জন করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে তার নিজ নামে পৃথক খতিয়ান সৃজন করা আইনত বাধ্যতামূলক। নামজারি না করা থাকলে জমি সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, অন্য কারো নামে খাজনা চলে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে ওই জমি বিক্রি বা ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২. ২০২৬ সালে নামজারির সরকারি ফির পূর্ণাঙ্গ চার্ট (Breakdown)
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি নিম্নরূপ:
ফির খাত
টাকার পরিমাণ
পরিশোধের মাধ্যম
অনলাইন কোর্ট ফি (আবেদন ফি)
২০ টাকা
অনলাইন পেমেন্ট (বিকাশ/নগদ/রকেট)
নোটিশ জারি ও প্রসেস ফি
৫০ টাকা
আবেদনের সাথে এককালীন
রেকর্ড সংশোধন ফি (DCR Fee)
১,০০০ টাকা
আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর অনলাইনে প্রদেয়
খতিয়ান সরবরাহ ফি (পর্চা ফি)
১০০ টাকা
অনলাইন চালান
সর্বমোট সরকারি খরচ
১,১৭০ টাকা
অনলাইন রসিদ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক
৩. নামজারি আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে?
ই-নামজারি আবেদনের পূর্বে নিচের কাগজপত্র স্ক্যান করে PDF বা JPG ফরম্যাটে প্রস্তুত রাখুন:
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও সচল মোবাইল নাম্বার।
মূল দলিলের ফটোকপি: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাফ-কবলা, দানপত্র, হেবা বা বাটোয়ারা দলিল।
বায়া দলিল: বিক্রেতার পূর্ববর্তী মালিকানার ২৫ থেকে ৩০ বছরের ধারাবাহিক দলিলের কপি।
খতিয়ানসমূহ: সিএস, এসএ, আরএস এবং সর্বশেষ বিএস বা সিটি জরিপ খতিয়ান।
৫. শুনানির দিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে কি কি সাথে নিতে হবে?
আবেদন যাচাই শেষে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে শুনানির তারিখ জানানো হবে। শুনানির দিন মূল দলিল, আরএস/বিএস পর্চা ও বায়া দলিলের অরিজিনাল কপি নিয়ে সশরীরে এসি ল্যান্ড অফিসে উপস্থিত হতে হবে। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর হলে অনলাইনে ১,১০০ টাকা ডিসিআর ফি জমা দিয়ে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর কপি ডাউনলোড করা যাবে।
৬. নামজারি আবেদন বাতিল বা নামঞ্জুর হলে আপিল ও মিস কেস করার উপায়
যদি কোনো অসঙ্গতি বা শরিকের মিথ্যে আপত্তির কারণে এসি ল্যান্ড নামজারি নামঞ্জুর করেন, তবে আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) / এডিসি রেভিনিউ আদালতে আপিল দায়ের করতে হয়। সেখানে প্রতিকার না পেলে বিভাগীয় কমিশনার ও পরবর্তীতে ভূমি সংস্কার বোর্ডে আপিল করা যায়।
জমি ক্রয় বা জটিল নামজারি মামলায় আইনি সহায়তা পেতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর চেম্বার পরামর্শ নিন। উত্তরা চেম্বার ও হাইকোর্ট চেম্বার হটলাইন: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০