বাংলাদেশে আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ: রিভিশন, রিভিউ ও আপিল

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-04-12

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বিরূপ আদালতের আদেশ পাওয়া মানেই আইনি পথ শেষ নয়। বাংলাদেশ আইনে আদেশ চ্যালেঞ্জের তিনটি পথ রয়েছে — রিভিশন, রিভিউ ও আপিল — প্রতিটির নিজস্ব মানদণ্ড, সময়সীমা ও আদালত আছে। সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া আইনি অধিকার সুরক্ষায় অপরিহার্য।

আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জের তিনটি পথ

বাংলাদেশে তিনটি প্রধান পদ্ধতিতে আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করা যায়:

  • আপিল: উচ্চতর আদালত মামলাটি মেরিটে পুনরায় পরীক্ষা করে — তথ্য ও আইন উভয়ই।
  • রিভিশন: উচ্চতর আদালত শুধু নিম্ন আদালতের এখতিয়ার ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ হয়েছে কিনা তা দেখে — তথ্য পুনর্মূল্যায়ন নয়।
  • রিভিউ: যে আদালত আদেশ দিয়েছে সেই আদালতকেই নির্দিষ্ট ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ।

সঠিক পথ নির্ভর করে আদেশের ধরন, যে আদালত দিয়েছে এবং চ্যালেঞ্জের ভিত্তির উপর। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের কার্যক্রমে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী অপরিহার্য।

রিভিশন পিটিশন কী?

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯-এর অধীনে রিভিশন পিটিশনে হাইকোর্ট পরীক্ষা করে:

  • অধস্তন আদালত এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে কিনা।
  • ব্যায়ের এখতিয়ার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে কিনা।
  • এখতিয়ার প্রয়োগে বস্তুগত অনিয়ম বা বেআইনি কাজ হয়েছে কিনা।

গুরুত্বপূর্ণ: রিভিশন দ্বিতীয় আপিল নয়। শুধু তথ্যের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকলে রিভিশন করা যায় না।

দাখিলের সময়সীমা

তামাদি আইন ১৯০৮-এর সময়সীমা কঠোর — সময়সীমা মিস হলে সাধারণত অধিকার শেষ হয়:

  • জেলা আদালতে দেওয়ানি আপিল: ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে।
  • হাইকোর্টে দেওয়ানি আপিল: ৯০ দিন।
  • ফৌজদারি আপিল: দণ্ড বা সাজার ৬০ দিনের মধ্যে।
  • রিভিশন (দেওয়ানি): আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে।
  • রিভিউ: ডিক্রি/আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে।

বিলম্ব হলে পর্যাপ্ত কারণ দেখাতে হয় — আদালত কঠোর। বিরূপ আদেশ পাওয়ার পরপরই পদক্ষেপ নিন।

উত্তরায় অ্যাডভোকেট শাহ আলমের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করুন — বিলম্ব আইনি অধিকার নষ্ট করে।