বাবার সম্পত্তি বন্টন আইন বাংলাদেশ – ছেলে মেয়ের অংশ ও অধিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-07

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি কীভাবে বন্টন হবে তা নিয়ে প্রতিটি পরিবারে প্রশ্ন থাকে। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ের অংশ নির্ধারিত, তবে অনেকেই এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে জানেন না। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা বাবার সম্পত্তি বন্টনের সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া, অংশের হিসাব এবং আপনার অধিকার রক্ষার উপায় আলোচনা করব।

বাবার সম্পত্তি বন্টন আইনের ভিত্তি

বাংলাদেশে মুসলিম নাগরিকদের সম্পত্তি বন্টন মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইসলামিক উত্তরাধিকার বিধি (ফারায়েজ) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এবং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাবার সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত মূলনীতিগুলো প্রযোজ্য:

  • কোরআনিক বিধান: সূরা নিসার ১১-১২ নম্বর আয়াতে উত্তরাধিকারের অংশ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
  • ফারায়েজ বিধান: মৃত ব্যক্তির ঋণ ও ওসিয়ত পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি বন্টন হয়।
  • আসাবা নীতি: নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি নির্দিষ্ট ওয়ারিশরা পান।
  • হিজব (বঞ্চনা): কিছু ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন ওয়ারিশের উপস্থিতিতে নিম্নতর ওয়ারিশ বঞ্চিত হন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় সম্পত্তিই এই আইনের আওতায় পড়ে। জমি, বাড়ি, ব্যাংক আমানত, শেয়ার, ব্যবসায়িক সম্পদ — সবকিছুই উত্তরাধিকারসূত্রে বন্টনযোগ্য।

২০২৬ সালে বাংলাদেশের আদালতে সম্পত্তি বন্টন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সঠিক আইনি জ্ঞান অর্জন করা এখন আরও বেশি জরুরি।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ওয়ারিশদের শ্রেণিবিভাগ

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ওয়ারিশদের তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

১. জাওয়িল ফুরুদ (নির্দিষ্ট অংশীদার)

এই ওয়ারিশরা কোরআনে নির্ধারিত নির্দিষ্ট অংশ পান। এদের মধ্যে রয়েছেন: স্বামী বা স্ত্রী, কন্যা, পুত্রের কন্যা, পিতা, মাতা, দাদা, দাদি, নানি, সহোদর বোন প্রমুখ।

২. আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী)

নির্দিষ্ট অংশীদারদের অংশ দেওয়ার পর যা বাকি থাকে তা পান। পুত্র, পৌত্র, পিতা, দাদা এবং পুরুষ আত্মীয়রা এই শ্রেণিতে পড়েন।

৩. জাওয়িল আরহাম (দূরবর্তী আত্মীয়)

প্রথম দুই শ্রেণির কোনো ওয়ারিশ না থাকলে এরা সম্পত্তি পান। নানা, মামা, খালা, ভাগনে ইত্যাদি এই শ্রেণিতে আসেন।

ওয়ারিশশ্রেণিঅংশ
পুত্রআসাবাকন্যার দ্বিগুণ
কন্যাজাওয়িল ফুরুদপুত্রের অর্ধেক
স্ত্রী (সন্তান থাকলে)জাওয়িল ফুরুদ১/৮
স্ত্রী (সন্তান না থাকলে)জাওয়িল ফুরুদ১/৪
মাতা (সন্তান থাকলে)জাওয়িল ফুরুদ১/৬
পিতা (সন্তান থাকলে)জাওয়িল ফুরুদ১/৬

মনে রাখবেন, বাবার সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে প্রথমে বাবার ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তারপর ওসিয়ত পূরণ করতে হবে (মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩), তারপরই বাকি সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হবে।

ছেলে ও মেয়ের অংশের হিসাব (২:১ নিয়ম)

ইসলামিক উত্তরাধিকার আইনের সবচেয়ে পরিচিত নিয়ম হলো ছেলে পাবে মেয়ের দ্বিগুণ — যা ২:১ অনুপাত নামে পরিচিত। এই নিয়মটি পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১ নম্বর আয়াতে সরাসরি উল্লেখ আছে।

ব্যবহারিক উদাহরণ:

উদাহরণ ১: বাবার মোট সম্পত্তি ৬০ লক্ষ টাকা। ওয়ারিশ: ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। (স্ত্রী ও অন্যান্য ওয়ারিশ নেই ধরে নিই)

ওয়ারিশঅংশপরিমাণ
প্রতিটি ছেলে২ ভাগ২০ লক্ষ টাকা
প্রতিটি মেয়ে১ ভাগ১০ লক্ষ টাকা
মোট৬ ভাগ৬০ লক্ষ টাকা

উদাহরণ ২: বাবার মোট সম্পত্তি ৪৮ লক্ষ টাকা। ওয়ারিশ: স্ত্রী (১ জন), ১ ছেলে, ২ মেয়ে।

ওয়ারিশঅংশপরিমাণ
স্ত্রী (সন্তান থাকায়)১/৮ = ৬ লক্ষ৬ লক্ষ টাকা
ছেলে (বাকির ২/৪)২ ভাগ২১ লক্ষ টাকা
প্রতিটি মেয়ে (বাকির ১/৪)১ ভাগ১০.৫ লক্ষ টাকা

শুধু মেয়ে থাকলে: যদি বাবার শুধু মেয়ে থাকে (কোনো ছেলে না থাকে), তাহলে:

  • এক মেয়ে হলে: মোট সম্পত্তির ১/২ পাবে
  • দুই বা তার বেশি মেয়ে হলে: মোট সম্পত্তির ২/৩ তারা সমানভাবে ভাগ করবে
  • বাকি অংশ অন্যান্য ওয়ারিশরা (যেমন বাবার ভাই, পিতা ইত্যাদি) পাবেন

এই হিসাবগুলো সঠিকভাবে করতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া উচিত, কারণ ওয়ারিশের সংখ্যা ও ধরন পরিবর্তিত হলে হিসাব জটিল হয়ে যায়।

বাবা জীবিত থাকলে সম্পত্তির অধিকার

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে — বাবা বেঁচে থাকলে কি সন্তানরা সম্পত্তির দাবি করতে পারবে? এর সরল উত্তর হলো: না। বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানরা বাবার সম্পত্তির উপর কোনো আইনি উত্তরাধিকারী অধিকার রাখে না।

তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানরা সম্পত্তির অধিকার দাবি করতে পারে:

  • হেবা (উপহার): বাবা স্বেচ্ছায় জীবদ্দশায় সন্তানদের সম্পত্তি দিতে পারেন। হেবা করতে হলে 'ইজাব' (প্রস্তাব), 'কবুল' (গ্রহণ) এবং 'কবজ' (দখল হস্তান্তর) — তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়।
  • ভরণপোষণ: নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়া বাবার আইনি দায়িত্ব। এটি সম্পত্তি নয়, কিন্তু আর্থিক দাবি।
  • উইল বা ওসিয়ত: বাবা তার মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ ওসিয়ত করতে পারেন।

বাবার সম্পত্তি বিক্রির বিরুদ্ধে সন্তানরা কি বাধা দিতে পারবে?

সাধারণভাবে না। বাবা তার নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি যেকোনো সময় বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন। তবে যদি প্রমাণ করা যায় যে:

  • বাবা মানসিকভাবে সুস্থ নন বা চাপের মুখে সম্পত্তি বিক্রি করছেন
  • বিক্রয় সম্পত্তি আসলে পারিবারিক যৌথ সম্পত্তি
  • বিক্রয় প্রতারণামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে

— তাহলে আদালতে নিষেধাজ্ঞা আবেদন করা সম্ভব। পারিবারিক আইন বিষয়ক আরও তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

পৈতৃক সম্পত্তি ও অর্জিত সম্পত্তির পার্থক্য

বাংলাদেশের আইনে বাবার পৈতৃক সম্পত্তি (যা তিনি তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন) এবং অর্জিত সম্পত্তি (যা তিনি নিজে উপার্জন করেছেন) — দুটিই মৃত্যুর পর একইভাবে বন্টিত হয়। হিন্দু আইনের মতো মুসলিম আইনে জন্মের সাথে সাথে পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না।

বাবার মৃত্যুর পর বন্টন প্রক্রিয়া

বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি বন্টনের জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: মৃত্যু সনদ সংগ্রহ

ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করুন। এটি সব আইনি কাজের ভিত্তি।

ধাপ ২: ওয়ারিশান সনদ

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভা থেকে ওয়ারিশান সনদ (Succession Certificate) নিন। এতে সকল ওয়ারিশের নাম থাকবে।

ধাপ ৩: সম্পত্তির তালিকা তৈরি

বাবার সমস্ত সম্পত্তির তালিকা তৈরি করুন — জমি (দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর সহ), বাড়ি, ব্যাংক একাউন্ট, গাড়ি ইত্যাদি।

ধাপ ৪: ঋণ পরিশোধ

বাবার যেকোনো ঋণ (ব্যাংক লোন, ব্যক্তিগত ঋণ) পরিশোধ করতে হবে। ঋণ না মিটিয়ে সম্পত্তি বন্টন করা আইনসম্মত নয়।

ধাপ ৫: ওসিয়ত পূরণ

বাবা যদি কোনো ওসিয়ত রেখে যান, তা মোট সম্পত্তির ১/৩ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পালন করতে হবে।

ধাপ ৬: বন্টন ও নামজারি

সকল ওয়ারিশ সম্মত হলে পারস্পরিক সমঝোতায় বন্টন করুন এবং ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করুন। নামজারি আবেদন ট্র্যাক করার নির্দেশিকা দেখুন।

ধাপকাজসময়কালকোথায়
১মৃত্যু সনদ১-৩ দিনইউপি/পৌরসভা
২ওয়ারিশান সনদ৭-১৫ দিনইউপি/পৌরসভা
৩সম্পত্তির তালিকাপরিবর্তনশীলভূমি অফিস, ব্যাংক
৪নামজারি আবেদন৩০-৯০ দিনভূমি অফিস/AC Land
৫বায়না দলিল/বন্টন দলিল১-৭ দিনসাব-রেজিস্ট্রি অফিস

স্ত্রী, মা ও অন্যান্য ওয়ারিশদের অংশ

বাবার সম্পত্তি বন্টনে শুধু ছেলেমেয়ে নয়, স্ত্রী, মা এবং অন্যান্য ওয়ারিশরাও অংশ পান। এই বিষয়টি অনেকেই ঠিকমতো জানেন না বলে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

স্ত্রীর অংশ (বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে = আমাদের মা)

পরিস্থিতিঅংশ
সন্তান থাকলেমোট সম্পত্তির ১/৮
সন্তান না থাকলেমোট সম্পত্তির ১/৪
একাধিক স্ত্রী থাকলেসবাই মিলে ১/৮ বা ১/৪ সমানভাবে ভাগ করবেন

দাদা-দাদির (মৃত বাবার পিতামাতার) অংশ

  • বাবার পিতা (দাদা) থাকলে: মৃত বাবার পুত্র সন্তান থাকলে দাদা ১/৬ পাবেন। পুত্র সন্তান না থাকলে দাদা আসাবা হিসেবে আরও বেশি পাবেন।
  • বাবার মাতা (দাদি) থাকলে: ১/৬ পাবেন, তবে মা (নানি) জীবিত থাকলে দাদি পাবেন না।

পুত্রবধূ ও জামাইয়ের অধিকার

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: পুত্রবধূ বা জামাই সরাসরি বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ নন। তারা শুধুমাত্র তাদের নিজ স্বামী বা স্ত্রীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সুবিধা পান।

মৃত ছেলের সন্তানরা (নাতি-নাতনি)

যদি বাবার মৃত্যুর আগেই একটি ছেলে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে সেই মৃত ছেলের সন্তানরা কীভাবে অংশ পাবে? হানাফি মতে সাধারণভাবে তারা বঞ্চিত হন। তবে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত ছেলের সন্তানরা প্রতিনিধিত্ব মূলক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে অংশ পাওয়ার অধিকারী। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার যা বাংলাদেশে প্রযোজ্য।

হেবা ও দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর

বাবা জীবদ্দশায় সন্তানদের সম্পত্তি দিতে চাইলে হেবা (Heba) বা উপহার দলিলের মাধ্যমে তা করতে পারেন। এটি উত্তরাধিকারের বিকল্প পদ্ধতি।

হেবার বৈধতার শর্তাবলি

  • দাতা: বাবাকে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং সম্পত্তির মালিক হতে হবে।
  • গ্রহীতা: যেকেউ হতে পারেন, এমনকি নাবালকও (তবে তখন অভিভাবক গ্রহণ করবেন)।
  • সম্পত্তি: সম্পত্তি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
  • কবজ (দখল হস্তান্তর): হেবার পর সম্পত্তির দখল গ্রহীতাকে দিতে হবে — শুধু কথায় বা লিখিতভাবে নয়।

হেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • বাবা যদি এক সন্তানকে বেশি সম্পত্তি দেন এবং অন্যরা বঞ্চিত হন, তা আইনত বৈধ হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
  • অসুস্থ অবস্থায় বা মৃত্যুশয্যায় করা হেবা 'মারাজুল মাউত' হিসেবে গণ্য হয় এবং তা ওসিয়তের নিয়মে পড়ে।
  • হেবা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক না হলেও ভবিষ্যতের বিরোধ এড়াতে রেজিস্ট্রি করে রাখা উচিত।

হেবা বনাম ওসিয়ত

বিষয়হেবাওসিয়ত
কখন কার্যকরজীবদ্দশায়মৃত্যুর পর
সীমাকোনো সীমা নেইমোট সম্পত্তির ১/৩
ওয়ারিশকে দেওয়া যাবে?হ্যাঁনা (অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি ছাড়া)
বাতিল করা যাবে?সীমিত ক্ষেত্রেমৃত্যুর আগে যেকোনো সময়

সম্পত্তি বন্টন মামলা ও আইনি প্রতিকার

যখন পারিবারিক সমঝোতায় সম্পত্তি বন্টন সম্ভব হয় না, তখন আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। বাংলাদেশে সম্পত্তি বন্টন সংক্রান্ত মামলা সাধারণত নিম্নলিখিত আদালতে দায়ের করা হয়:

মামলার ধরন ও আদালত

  • দেওয়ানি আদালত (Civil Court): সম্পত্তি বন্টনের সাধারণ মামলা এখানে হয়। জেলা জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালতে দায়ের করুন।
  • পারিবারিক আদালত: উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করা যায়।
  • উচ্চ আদালত: নিম্ন আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।

মামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদ
  • সম্পত্তির দলিল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর
  • জমির নকশা (মৌজা ম্যাপ)
  • সম্পত্তির বর্তমান মূল্যায়নের প্রমাণ
  • পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র

মধ্যস্থতার (Mediation) সুযোগ

বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী মামলা দায়ের করার আগে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা বাধ্যতামূলক। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্থতায় দ্রুত ও কম খরচে সমাধান হয়।

আইনি খরচের আনুমানিক হিসাব

সেবাআনুমানিক খরচ
আইনজীবীর পরামর্শ ফি৫০০ - ২,০০০ টাকা
মামলা দায়ের কোর্ট ফিসম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভরশীল
উকিলের ফি (ঢাকা)১৫,০০০ - ১,০০,০০০+ টাকা
বন্টন দলিল রেজিস্ট্রেশনসম্পত্তির মূল্যের ১-২%

প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: বাবার অনুমতি ছাড়া কি সম্পত্তির ভাগ চাওয়া যায়?

উত্তর: বাবা বেঁচে থাকলে না। বাবার মৃত্যুর পরই কেবল উত্তরাধিকারের দাবি করা যায়। তবে বাবার ঋণের জামানত হিসেবে দেওয়া পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়ে আদালতের সাহায্য নেওয়া যায়।

প্রশ্ন ২: বাবা যদি উইল করে সব সম্পত্তি এক ছেলেকে দেন?

উত্তর: মুসলিম আইনে কোনো ওয়ারিশকে (যেমন ছেলে) ওসিয়তের মাধ্যমে অতিরিক্ত সম্পত্তি দেওয়া যায় না যদি না অন্য ওয়ারিশরা সম্মতি দেন। ওসিয়ত শুধু তৃতীয় পক্ষকে (অ-ওয়ারিশ) করা যায় এবং তা সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি পর্যন্ত।

প্রশ্ন ৩: মৃত ছেলের সন্তানরা কি দাদার সম্পত্তি পাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৪ ধারা অনুযায়ী মৃত পুত্রের সন্তানরা 'প্রতিনিধিত্বমূলক উত্তরাধিকার' নীতিতে দাদার সম্পত্তিতে অংশ পাবে।

প্রশ্ন ৪: মেয়ে কি তার অংশ অস্বীকার করতে পারে?

উত্তর: আইনত মেয়ে তার উত্তরাধিকারের অংশ ছেড়ে দিতে পারে (যা অনেক পরিবারে প্রথাগতভাবে হয়), তবে এটি তার ইচ্ছাধীন এবং কোনো চাপ বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া সম্মতি আদালতে বাতিলযোগ্য।

প্রশ্ন ৫: সম্পত্তি বন্টনের জন্য আদালতে কতদিন লাগতে পারে?

উত্তর: বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা সাধারণত ৩-৭ বছর সময় নেয়। তবে মধ্যস্থতায় বা পারস্পরিক সমঝোতায় মাত্র কয়েক মাসেই সমাধান সম্ভব।

প্রশ্ন ৬: অন্য দেশে থাকলে কি সম্পত্তির অংশ পাবে?

উত্তর: হ্যাঁ। বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের অধিকার থাকে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে দেশে কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা যায়।

কীভাবে আমরা সাহায্য করতে পারি

সম্পত্তি বন্টন সংক্রান্ত বিরোধ পারিবারিক সম্পর্কে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞ আইনজীবীরা আপনাকে সঠিক আইনি পরামর্শ দিয়ে এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারেন।

আমাদের সেবাসমূহ

  • ✅ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তির সঠিক অংশ হিসাব
  • ✅ ওয়ারিশান সনদ ও মৃত্যু সনদ সংগ্রহে সহায়তা
  • ✅ হেবা ও বন্টন দলিল প্রস্তুত ও রেজিস্ট্রেশন
  • ✅ পারিবারিক আদালতে মামলা পরিচালনা
  • ✅ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি
  • ✅ নামজারি ও জমি রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা

আমাদের চেম্বার উত্তরা, ঢাকাতে অবস্থিত এবং আমরা প্রথম পরামর্শ বিনামূল্যে প্রদান করি। আজই যোগাযোগ করুন এবং আপনার পরিবারের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করুন।

বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য এখানে ক্লিক করুন →

📍 চেম্বারের ঠিকানা: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ
📞 যোগাযোগ: আমাদের ওয়েবসাইটের যোগাযোগ পাতায় ফোন নম্বর পাবেন
🕐 সময়: শনি-বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা - বিকাল ৫টা