বাংলাদেশে ফেসবুকে মানহানি মামলা: আইনি বিকল্প ও প্রতিকার

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-04-01

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট, সম্পাদিত ছবি বা বিদ্বেষমূলক কন্টেন্ট সুনাম নষ্ট করে, ক্যারিয়ার ধ্বংস করে এবং মানসিক ক্ষতি করে। বাংলাদেশ আইনে কার্যকর প্রতিকার রয়েছে — ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফৌজদারি মামলা, দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ দাবি এবং ফেসবুককে কন্টেন্ট সরাতে বাধ্য করার আদালতের আদেশ।

বাংলাদেশ আইনে অনলাইন মানহানি কী?

মানহানি হল মিথ্যা বক্তব্য প্রকাশ যা অন্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। ফেসবুক বা অন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এটি হলে অনলাইন মানহানি — ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও দণ্ডবিধি ১৮৬০ উভয়ই প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে অনলাইন মানহানির উদাহরণ:

  • আপনি অপরাধ করেছেন বা অনৈতিক কাজ করেছেন এমন মিথ্যা পোস্ট।
  • সুনাম নষ্ট করতে সম্পাদিত বা নকল ছবি শেয়ার।
  • নকল কথোপকথন বা বার্তার স্ক্রিনশট।
  • ফেসবুক গ্রুপ বা হোয়াটসঅ্যাপে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার।
  • ব্যবসায়িক পেজে ক্ষতিকর মিথ্যা রিভিউ বা মন্তব্য।

মতামত, ব্যঙ্গ ও সত্য তথ্য সাধারণত মানহানি নয়। আপনার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে উত্তরা বা ঢাকার সাইবার আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।

ফেসবুক মানহানি: DSA ধারা ২৯ ব্যাখ্যা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ধারা ২৯ অনলাইন মানহানিকে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শাস্তি:

  • সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড এবং/অথবা
  • সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা।

পুনরাবৃত্তি অপরাধে শাস্তি দ্বিগুণ। DSA মামলা ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় — বিচার চলাকালীন অন্তর্বর্তী আদেশে কন্টেন্ট সরানোর নির্দেশও দেওয়া যায়।

ফৌজদারি বনাম দেওয়ানি মানহানি

বাংলাদেশে মানহানির ভুক্তভোগী দুটি পথে একসাথে এগোতে পারেন:

  • ফৌজদারি পথ (DSA ধারা ২৯ / দণ্ডবিধি ৪৯৯-৫০০): লক্ষ্য — অপরাধীর বিচার ও শাস্তি। FIR বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে সরাসরি অভিযোগ।
  • দেওয়ানি পথ (টর্ট অব ডিফেমেশন): লক্ষ্য — আর্থিক ক্ষতিপূরণ — সুনামের ক্ষতি, ব্যবসায়িক ক্ষতি ও মানসিক যন্ত্রণার প্রতিকার।

অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রথমে দ্রুত কন্টেন্ট সরানোর জন্য ফৌজদারি এবং পরে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের মামলা করেন। অভিজ্ঞ ঢাকার আইনজীবী দুটি ট্র্যাক একসাথে পরিচালনা করতে পারবেন।

মামলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ

মানহানির মামলা দায়েরের আগে সংগ্রহ করুন:

  • URL বার, পোস্টকারীর প্রোফাইল নাম ও ছবি, পোস্টের তারিখ ও সময়সহ পূর্ণ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট।
  • আপত্তিজনক পোস্টের সরাসরি URL।
  • শেয়ার, মন্তব্য ও রিঅ্যাকশনের স্ক্রিনশট — ছড়িয়ে পড়া ও ক্ষতির প্রমাণ।
  • পোস্টকারীর পরিচয়ের প্রমাণ।
  • ক্ষতির প্রমাণ: প্রভাবিত পক্ষের বার্তা, ব্যবসায়িক ক্ষতির রেকর্ড, মানসিক ক্ষতির চিকিৎসা প্রতিবেদন।

ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্টে আড়াল হওয়া আক্রমণকারীর পরিচয় প্রকাশে আদালতের আদেশে ফেসবুককে অ্যাকাউন্ট ডেটা দিতে বাধ্য করা যায়। অ্যাডভোকেট শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করুন।