নাফাকা আদায়ের আইন বাংলাদেশ — স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12 · ৭ মিনিট পড়া
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশে নাফাকা বা ভরণপোষণ স্ত্রী ও সন্তানের মৌলিক আইনি অধিকার। স্বামী ভরণপোষণ না দিলে পারিবারিক আদালতে মামলা করে আদায় করা যায়। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
⚡ দ্রুত উত্তর: নাফাকা আদায়
স্ত্রী বিবাহকালীন ভরণপোষণ পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন
তালাকের পরে ইদ্দত কাল পর্যন্ত নাফাকা পাবেন
পারিবারিক আদালতে মামলা করে বকেয়া আদায় সম্ভব
সন্তান ১৮ বছর পর্যন্ত বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবে
আদালত স্বামীর আয় অনুযায়ী ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে
নাফাকা কী ও কে পাওয়ার অধিকারী
নাফাকা বা ভরণপোষণ হলো স্বামীর দেওয়া খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সুবিধা। বাংলাদেশে মুসলিম আইন ও পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন:
স্ত্রী: বিবাহকালীন সম্পূর্ণ সময় এবং তালাকের পরে ইদ্দত কাল পর্যন্ত
নাবালক সন্তান: ছেলে ১৮ বছর এবং মেয়ে বিবাহ পর্যন্ত
বৃদ্ধ পিতামাতা: সন্তান সক্ষম হলে পিতামাতার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য
স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যান বিনা কারণে, তাহলে ভরণপোষণের অধিকার হারাতে পারেন — তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে অধিকার বজায় থাকে।
কত টাকা ভরণপোষণ পাওয়া যাবে
ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় স্বামীর আয় ও সামর্থ্য এবং স্ত্রীর জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী। বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত সাধারণত:
স্বামীর মাসিক আয়ের ২০-৩০% স্ত্রীর জন্য নির্ধারণ করে
প্রতিটি সন্তানের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারণ করে
শহর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে
বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করে
ন্যূনতম পরিমাণের কোনো আইনগত সীমা নেই — আদালত পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
পারিবারিক আদালতে মামলা করার নিয়ম
স্বামী ভরণপোষণ না দিলে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন। প্রক্রিয়া:
আইনজীবীর মাধ্যমে পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করুন
বিবাহের কাবিননামা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিন
আদালত উভয় পক্ষকে শুনবে
আদালত অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ দিতে পারে মামলা চলাকালে
চূড়ান্ত রায়ে মাসিক ভরণপোষণ ও বকেয়া আদেশ হয়
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: কাবিননামা, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহের প্রমাণ, সন্তানদের জন্ম সনদ (যদি থাকে)।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
যদি স্বামী দীর্ঘদিন ভরণপোষণ না দিয়ে থাকেন, তাহলে বকেয়া ভরণপোষণও আদায় করা যায়। পারিবারিক আদালত:
গত ৩ বছরের বকেয়া ভরণপোষণ আদেশ দিতে পারে
স্বামীর সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারে
না মানলে কারাদণ্ডের আদেশও দিতে পারে
বকেয়া আদায়ে দেরি করবেন না — দ্রুত পারিবারিক আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।
সন্তানের ভরণপোষণ
বাবা তালাক দিলেও সন্তানের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। মুসলিম আইনে:
ছেলে সন্তান ১৮ বছর পর্যন্ত বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবে
মেয়ে সন্তান বিবাহ পর্যন্ত ভরণপোষণ পাবে
প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন ভরণপোষণ পেতে পারেন
শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচও ভরণপোষণের অন্তর্গত
বাবা ভরণপোষণ না দিলে মা সন্তানের হয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ
পারিবারিক আইনের জটিল বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ অপরিহার্য। অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে পারিবারিক আইনে ১০+ বছরের অভিজ্ঞতা (২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বার কাউন্সিল তালিকাভুক্ত আইনজীবী) রাখেন।
নাফাকা মামলা দায়ের ও পরিচালনা
তালাক ও মোহরানা মামলা
সন্তানের হেফাজত ও ভরণপোষণ
উত্তরা, ঢাকায় চেম্বার — একই দিনে পরামর্শ পাওয়া যায়
প্রথমে স্বামীকে লিখিত নোটিশ দিন। তারপরও না দিলে স্থানীয় পারিবারিক আদালতে মামলা করুন। আদালত অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ দিতে পারে মামলা চলাকালেও।
তালাকের পরে কতদিন ভরণপোষণ পাবো?
তালাকের পরে ইদ্দত কাল পর্যন্ত (সাধারণত ৩ মাস বা ৯০ দিন) স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত।
ভরণপোষণের মামলায় কত সময় লাগে?
পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ মামলা সাধারণত ৬ মাস থেকে ১.৫ বছর সময় নেয়। তবে অন্তর্বর্তী আদেশ অনেক দ্রুত পাওয়া যায়।
বিদেশে থাকা স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে?
হ্যাঁ। স্বামী বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে মামলা করা যায়। আইনজীবী মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়।
কত টাকা পাওয়া যাবে ভরণপোষণে?
ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে আদালত স্বামীর আয় ও সামর্থ্য দেখে। সাধারণত স্বামীর মাসিক আয়ের ২০-৩০% বা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ হয়।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০