বাংলাদেশে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ কীভাবে পাবেন: উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-04-05
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশ আদালতের স্থগিতাদেশ অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার — এটি বিতর্কিত জমিতে নির্মাণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে পারে, সম্পদ বিক্রি থামাতে পারে, চুক্তি প্রয়োগ স্থগিত করতে পারে, বা উচ্ছেদ রোধ করতে পারে। কখন ও কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং আদালত কোন শর্তে সিদ্ধান্ত নেয় তা জানা জরুরি সম্পত্তি বা চুক্তি বিরোধে।
বাংলাদেশে স্থগিতাদেশ কী?
স্থগিতাদেশ (অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞাও বলা হয়) হল আদালতের সেই আদেশ যা মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এক পক্ষকে নির্দিষ্ট কার্য থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখে। বাংলাদেশে এটি পরিচালিত হয়:
- দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯: দেওয়ানি মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।
- ধারা ১৫১, CPC: অপব্যবহার রোধে আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা।
স্থগিতাদেশ যা বন্ধ করতে পারে: বিতর্কিত জমিতে নির্মাণ, সম্পত্তি হস্তান্তর, আদালতের ডিক্রি প্রয়োগ, উচ্ছেদ, মানহানিমূলক উপকরণ প্রকাশ, বা কোম্পানির সিদ্ধান্ত।
ঢাকার দেওয়ানি আইনজীবী মূল মামলা দায়েরের কয়েক দিনের মধ্যে জরুরি স্থগিতাদেশ আবেদন করতে পারবেন।
আদালত যে শর্তে সিদ্ধান্ত নেয়
বাংলাদেশ আদালত স্থগিতাদেশ দিতে তিনটি পরীক্ষা প্রয়োগ করে:
- প্রথমদৃষ্টিতে মামলা (Prima facie case): আবেদনকারীর মূল মামলায় কি যুক্তিসঙ্গত আইনি যুক্তি আছে?
- সুবিধার ভারসাম্য (Balance of convenience): স্থগিতাদেশ না দিলে আবেদনকারীর ক্ষতি কি প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি?
- অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable injury): স্থগিতাদেশ না দিলে ক্ষতি কি পরে অর্থের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া অসম্ভব বা কঠিন?
সাধারণত তিনটিই সন্তুষ্ট করতে হয়। জরুরি ক্ষেত্রে — যেমন বিতর্কিত জমি বিক্রির আসন্ন ঝুঁকি — সেদিনই একতরফা স্থগিতাদেশ পাওয়া সম্ভব।
স্থগিতাদেশ পাওয়ার প্রক্রিয়া
ধাপ:
- মূল মামলা দায়ের করুন (স্বত্ব মামলা, নিষেধাজ্ঞার মামলা, দেওয়ানি মামলা)।
- একই সাথে স্থগিতাদেশের আবেদন (আন্তঃলোকিউটরি আবেদন) দাখিল করুন।
- জরুরিতা, সম্ভাব্য ক্ষতি ও মামলার ভিত্তি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে হলফনামা জমা দিন।
- প্রমাণিত জরুরিতা থাকলে আদালত একতরফাভাবে (ex parte) শুনতে পারে।
- মঞ্জুর হলে অন্য পক্ষকে নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে (যেমন সাব-রেজিস্ট্রি) জানানো হয়।
স্থগিতাদেশে গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরায় অ্যাডভোকেট শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করুন।