চেক ডিজঅনার মামলা বাংলাদেশ — ধারা ১৩৮ NI Act অনুযায়ী মামলার নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-12 · ৭ মিনিট পড়া

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স চেকের মামলা দেওয়ানি আইনজীবী নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ এর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী করা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে নোটিশ ও মামলা না করলে মামলা টেকে না। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

⚡ দ্রুত উত্তর: চেক মামলার মূল ধাপ
  • চেক ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠান
  • নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পেমেন্ট না হলে মামলা করুন
  • চেক ফেরতের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে
  • শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা চেকের তিনগুণ জরিমানা
  • দেওয়ানি মামলাও একসাথে করা যায় টাকা আদায়ের জন্য
📋 সূচিপত্র
  1. চেক ডিজঅনার কী ও কেন হয়
  2. ধারা ১৩৮ NI Act কী বলে
  3. নোটিশ পাঠানোর সঠিক নিয়ম
  4. মামলা দায়েরের ধাপ
  5. শাস্তি ও প্রতিকার
  6. আসামির পক্ষে প্রতিকার

চেক ডিজঅনার কী ও কেন হয়

চেক ডিজঅনার হয় যখন ব্যাংক কোনো চেক ফেরত দেয়। সাধারণ কারণগুলো:

  • অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা
  • অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা
  • স্বাক্ষরে অমিল
  • অর্থের পরিমাণে কাটাকাটি
  • অর্থ প্রদান বন্ধের আদেশ

চেক ডিজঅনার হলে ব্যাংক একটি Dishonour Notice বা Return Memo দেয় — এটি মামলার মূল প্রমাণ।

ধারা ১৩৮ NI Act কী বলে

নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ এর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী চেক ডিজঅনার একটি ফৌজদারি অপরাধ। শর্তগুলো হলো:

  • চেকটি আইনত প্রদেয় দেনার বিপরীতে দেওয়া হয়েছে
  • চেক মেয়াদের মধ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন করা হয়েছে
  • ব্যাংক ফেরত দিয়েছে
  • চেক প্রদানকারীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে
  • নোটিশ পাওয়ার পরেও পেমেন্ট করেনি

নোটিশ পাঠানোর সঠিক নিয়ম

ধারা ১৩৮ মামলায় নোটিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • চেক ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠাতে হবে
  • নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠান
  • নোটিশে চেকের বিবরণ, পরিমাণ ও ৩০ দিনের মধ্যে পেমেন্টের দাবি উল্লেখ করুন
  • প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করুন

সঠিক নোটিশ না পাঠালে মামলা টিকবে না।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

মামলা দায়েরের ধাপ

নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে পেমেন্ট না হলে:

  1. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করুন
  2. চেকের মূল কপি, ব্যাংক রিটার্ন মেমো ও নোটিশের প্রমাণ জমা দিন
  3. আদালত বিবাদীকে সমন জারি করবে
  4. সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারের পর রায় হবে

গুরুত্বপূর্ণ: মামলা দায়েরের সময়সীমা চেক ফেরত থেকে ১ বছর।

শাস্তি ও প্রতিকার

ধারা ১৩৮ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে:

  • সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  • চেকের পরিমাণের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা
  • ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ

একই সাথে দেওয়ানি আদালতে অর্থ আদায়ের মামলাও করা যায়।

আসামির পক্ষে প্রতিকার

যদি আপনি চেক মামলায় আসামি হন:

  • নোটিশ ত্রুটিপূর্ণ হলে মামলা খারিজের আবেদন করুন
  • চেক জাল বা সীমার বাইরে প্রমাণ করুন
  • দেনা নেই প্রমাণ করুন
  • জামিনের আবেদন করুন

উভয় পক্ষের জন্যই অভিজ্ঞ আইনজীবী প্রয়োজন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

চেক বাউন্স হলে কতদিনে মামলা করতে হবে?

চেক ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পেমেন্ট না হলে ১ বছরের মধ্যে মামলা করুন।

চেক মামলায় কত টাকা পাওয়া যাবে?

ফৌজদারি মামলায় চেকের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দেওয়ানি মামলায় মূল পরিমাণ সুদসহ আদায় করা যায়।

চেক মামলায় কত সময় লাগে?

সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বছর লাগে। আদালতের চাপ ও মামলার জটিলতার উপর নির্ভর করে।

নোটিশ না পাঠালে মামলা টিকবে কি?

না। ধারা ১৩৮ মামলায় নোটিশ বাধ্যতামূলক। নোটিশ না থাকলে বা ত্রুটিপূর্ণ হলে মামলা খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চেক মামলায় আপোষ করা যাবে?

হ্যাঁ। মামলা চলাকালে উভয় পক্ষ আপোষ করতে পারে। আপোষ হলে মামলা প্রত্যাহার করা যায়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০