এসএসসি, এইচএসসি ও আলিম সনদ হারিয়ে গেলে ডুপ্লিকেট তোলার নিয়ম: থানা জিডি ও কোর্ট এফিডেভিট ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-10-19 · 11 min read

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া, চুরি হওয়া কিংবা স্থানান্তরকালে মূল এসএসসি, এইচএসসি বা আলিম সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে চরম বিপদে পড়তে হয়। অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খোয়ান। অথচ শিক্ষা বোর্ডের সুনির্দিষ্ট ৩টি আইনি ধাপ সম্পন্ন করে খুব স্বল্প খরচে মূল সনদের সমান আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন 'ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট' (Duplicate Certificate) উত্তোলন করা যায়।

: · ফৌজদারি ও থানা-পুলিশ বিষয়ক আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
অফিসিয়াল আবেদন পোর্টালpcc.police.gov.bd (বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল)
সরকারি চালান ফি৫০০ টাকা (সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি চালান কোড: ১-২২০১-০০০১-২৬৮১ বা অনলাইন পেমেন্ট)
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রপাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি (মেয়াদ ন্যূনতম ৩ মাস) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
ভেরিফিকেশন ও ডেলিভারি সময়সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস (থানা ভেরিফিকেশন ও SP/DC কাউন্টার সাইনসহ)
অনলাইন স্ট্যাটাস চেকpcc.police.gov.bd পোর্টালে পাসপোর্ট বা রেফারেন্স নম্বর দিয়ে চেক
⚡ এক নজরে
📋 সূচিপত্র
  1. ১. আইনি ভিত্তি ও প্রাসঙ্গিক আইনগত ধারা
  2. ২. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এফিডেভিটের প্রয়োজনীয়তা
  3. ৩. ধাপে ধাপে বাস্তব আবেদন ও সম্পাদন প্রক্রিয়া
  4. ৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি তালিকা ২০২৬
  5. ৫. চেম্বার ড্রাফটিং ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর পরামর্শ

১. আইনি ভিত্তি ও প্রাসঙ্গিক আইনগত ধারা

আগুনে পুড়ে যাওয়া, চুরি হওয়া কিংবা স্থানান্তরকালে মূল এসএসসি, এইচএসসি বা আলিম সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে চরম বিপদে পড়তে হয়। অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খোয়ান। অথচ শিক্ষা বোর্ডের সুনির্দিষ্ট ৩টি আইনি ধাপ সম্পন্ন করে খুব স্বল্প খরচে মূল সনদের সমান আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন 'ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট' (Duplicate Certificate) উত্তোলন করা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের সুনির্দিষ্ট বিধিমালার আলোকে যেকোনো সনদের ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য।

২. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এফিডেভিটের প্রয়োজনীয়তা

প্রশাসনিক যেকোনো কাজে বা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের চেয়ে ১ম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (First Class Judicial Magistrate) কর্তৃক সম্পাদিত এফিডেভিটের আইনি গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রার্থীর উপস্থিতিতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সিল ও স্বাক্ষরে এটি সম্পন্ন হয়।

৩. ধাপে ধাপে বাস্তব আবেদন ও সম্পাদন প্রক্রিয়া

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ৩টি কাজ করতে হবে: ১. সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা, ২. একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা, এবং ৩. বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামাসহ শিক্ষা বোর্ডের ই-সেবা পোর্টালে ডুপ্লিকেট সনদের আবেদন দাখিল করে সরকারি ফি জমা দেওয়া।

  1. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীর চেম্বারে এফিডেভিট ড্রাফট করা।
  2. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে হলফনামা সম্পাদন ও সিলমোহর গ্রহণ।
  3. সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা পোর্টালে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আবেদন জমা দেওয়া।
  4. অনুমোদন শেষে কাঙ্ক্ষিত সেবা বা সনদ উত্তোলন।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি তালিকা ২০২৬

আবেদনের জন্য মূল সনদ, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্ট (যদি থাকে) প্রয়োজন হয়। স্ট্যাম্প ডিউটি ৩০০ টাকা এবং সরকারি বোর্ড ফি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গেজেট অনুযায়ী প্রযোজ্য হয়।

৫. চেম্বার ড্রাফটিং ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর পরামর্শ

অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর। সনদপত্র সংশোধন, হলফনামা সম্পাদন, নোটারি এবং শিক্ষা বিষয়ক যেকোনো আইনি সহায়তায় আমাদের উত্তরা বা ঢাকা কোর্ট চেম্বারে সরাসরি সাক্ষাত করতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

এই বিষয়ে আইনজীবীর সাথে সরাসরি সাক্ষাত কীভাবে করা যাবে?

আমাদের উত্তরা চেম্বারে (হাউস ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২) প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:০০টা থেকে রাত ১০:০০টা এবং ঢাকা কোর্ট চেম্বারে সকাল ১০:০০টা থেকে বিকাল ৪:০০টার মধ্যে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখা করতে পারেন।

এফিডেভিট সম্পন্ন করতে কতদিন সময় লাগে?

আমাদের চেম্বার থেকে সাধারণত ১ কার্যদিবসের মধ্যেই ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এফিডেভিটের যাবতীয় ড্রাফটিং ও কোর্ট সিল-স্বাক্ষর সম্পন্ন করিয়ে দেওয়া হয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০