বিদেশে তালাক বা ডিভোর্স বাংলাদেশে বৈধ কি? যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীদের তালাক নিবন্ধন গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-10-10 · ১৫ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিভোর্স ডিক্রি, কিংবা স্থানীয় ইমামের সামনে উচ্চারিত তালাক, বাংলাদেশের আইন, অফিস ও আদালতের চোখে সবসময় বিয়ে শেষ করে না। এই পিলার গাইডে প্রবাসীদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা, ১৯৭৪ সালের নিবন্ধন আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ এবং দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে। লিখেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>। নির্দিষ্ট মামলার সহায়তার জন্য চেম্বারে কল বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--accent);font-weight:600;">01712655546</a> নম্বরে।

📋 সূচিপত্র
  1. সংক্ষিপ্ত উত্তর: বিদেশের তালাক বা ডিভোর্স কি বাংলাদেশে বৈধ?
  2. আপনার বিয়ের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য?
  3. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাক
  4. বিদেশি আদালতের ডিক্রি বাংলাদেশ কীভাবে দেখে (দেওয়ানি কার্যবিধি ১৩ ধারা)
  5. স্বীকৃতির ছক: যুক্তরাজ্যের ডিক্রি, যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্রি, বিদেশে তালাক ও খোলা
  6. কেন শুধু যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্রিতে বাংলাদেশের রেকর্ড হালনাগাদ হয় না
  7. বিদেশ থেকে তালাক নোটিশ পাঠানো বা বিদেশি ডিভোর্স নিবন্ধনের পদ্ধতি
  8. প্রবাসীদের জন্য ধাপে ধাপে চেকলিস্ট
  9. কাগজপত্র, সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিল
  10. বিদেশি ডিভোর্সের পর দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত
  11. পুনরায় বিয়ের ঝুঁকি: ডিভোর্স নিবন্ধিত না হলে দ্বিবিবাহের আশঙ্কা
  12. খ্রিস্টান, হিন্দু ও অন্যান্য পক্ষ: উচ্চস্তরের টীকা
  13. এড়িয়ে চলার সাধারণ ভুলগুলো
  14. গুরুত্বপূর্ণ দাবিত্যাগ (ডিসক্লেইমার)

সংক্ষিপ্ত উত্তর: বিদেশের তালাক বা ডিভোর্স কি বাংলাদেশে বৈধ?

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অনেক বাংলাদেশি মনে করেন, বিদেশি আদালত ডিভোর্স দিলে বা স্থানীয় ইমামের সামনে স্বামী তালাক উচ্চারণ করলেই বিয়ে সবখানে শেষ হয়ে গেছে। বাস্তবে বিষয়টি আরও স্তরবিশিষ্ট। একটি ডিভোর্স যে দেশে হয়েছে সেখানে বৈধ হলেও বাংলাদেশে তা অনিশ্চিত, অসম্পূর্ণ বা নথিভুক্ত না-ও থাকতে পারে।

সৎ উত্তর হলো: বিদেশি আদালতের ডিক্রি আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনের নীতি এবং দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতে স্বীকৃত হতে পারে, কিন্তু এই স্বীকৃতি স্বয়ংক্রিয় নয়, তা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং শুধু বিদেশি ডিক্রি দিয়ে বাংলাদেশের কোনো সরকারি নথি বদলায় না। মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপদ পথ হলো বিদেশি ডিভোর্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা, যাতে দুই দেশেই বিয়ের সমাপ্তি পরিষ্কার থাকে।

প্রাথমিক ধারণার জন্য ইংরেজিতে আমাদের সংক্ষিপ্ত লেখাগুলো দেখতে পারেন: প্রবাসীদের বিদেশে ডিভোর্স এবং প্রবাসীদের ডিভোর্স পদ্ধতি। অন্যান্য সেবার জন্য দেখুন প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব।

আপনার বিয়ের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য?

বাংলাদেশে সবার জন্য একটিমাত্র অভিন্ন বিবাহবিচ্ছেদ আইন নেই। পারিবারিক বিষয় নির্ধারিত হয় ব্যক্তিগত আইন দিয়ে, যা পক্ষগুলোর ধর্মের ওপর নির্ভর করে:

  • মুসলিম: মুসলিম ব্যক্তিগত আইন, যা মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও এর বিধিমালা এবং মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ দ্বারা সংশোধিত ও পরিচালিত। বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও হেফাজতের বিরোধ পারিবারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়।
  • খ্রিস্টান: বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৮৬৯ এবং সংশ্লিষ্ট খ্রিস্টান বিবাহ আইন।
  • হিন্দু ও অন্যান্য: প্রধানত ধর্মীয় ও প্রথাগত আইন, সীমিত বিধিবদ্ধ বিধানসহ। এটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ প্রয়োজন।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ১ ধারায় বলা আছে, এটি মুসলিম নাগরিকদের ওপর প্রযোজ্য, এবং মূল পাঠে বলা হয়েছে নাগরিকরা যেখানেই থাকুন না কেন। এ কারণে লন্ডন বা নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক মুসলিম স্বামীর কাছ থেকে বিদেশি আদালত বা ইমাম পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও আদালত ৭ ধারার নোটিশ পদ্ধতি অনুসরণ আশা করতে পারে। নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে (যেমন যিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বা বিদেশে ডমিসাইলড) আদালত কীভাবে প্রয়োগ করবে তা ঘটনা ও আইনের প্রশ্ন, তাই আইনজীবীর সঙ্গে যাচাই করুন।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাক

বাংলাদেশের তালাক আইনের মূল হলো ৭ ধারা। সহজ ভাষায়, সাধারণ ব্যাখ্যায়:

  1. যে মুসলিম পুরুষ স্ত্রীকে তালাক দিতে চান, তাঁকে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে (গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান; শহর এলাকায় সংশ্লিষ্ট মেয়র বা সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার কর্তৃপক্ষ, অধ্যাদেশ ও পরবর্তী স্থানীয় সরকার আইনে যেভাবে সংজ্ঞায়িত)।
  2. নোটিশের একটি অনুলিপি স্ত্রীকেও পাঠাতে হবে।
  3. তালাক প্রত্যাহার না হলে চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না। ওই সময়ের শেষে স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে গর্ভাবস্থা শেষ হওয়ার পর তালাক কার্যকর হয় (যদি তা পরে হয়)।
  4. নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান দম্পতির মধ্যে মীমাংসার চেষ্টার জন্য একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন।
  5. তালাক দিয়ে যে পুরুষ নোটিশ দেন না, অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। শাস্তির সঠিক পরিমাণ জানতে ধারার বর্তমান পাঠ দেখুন।

প্রবাসীদের জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তালাকের মৌখিক উচ্চারণ (মুখে, টেক্সট মেসেজে, ইমেইলে বা বিদেশি ইমামের সামনে) নিজে নিজে ৭ ধারার শর্ত পূরণ করে না; নোটিশ ও অপেক্ষার সময়ই আইনি পদ্ধতি। দ্বিতীয়ত, ৯০ দিন গণনা শুরু হয় চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানো থেকে, স্বামী যেদিন কথা বলেছেন বা বিদেশি নথিতে সই করেছেন সেদিন থেকে নয়।

বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া কীভাবে চলে তা জানতে পড়ুন তালাক নোটিশ প্রক্রিয়া এবং তালাকনামা লেখার নিয়ম।

তালাকের নিবন্ধন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও এর বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) রেকর্ড রাখেন। বাস্তবে ধারণাটি হলো, যে এলাকায় বিয়ে নিবন্ধিত বা স্ত্রী বাস করেন, সেই এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাকের রেকর্ড থাকা উচিত। ফরম, প্রক্রিয়া ও ফি বর্তমান বিধি ও স্থানীয় অফিস অনুযায়ী নির্ধারিত, তাই সরাসরি যাচাই করুন।

বিদেশি আদালতের ডিক্রি বাংলাদেশ কীভাবে দেখে (দেওয়ানি কার্যবিধি ১৩ ধারা)

বিদেশি আদালত (যেমন ইংল্যান্ডের আদালত বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের আদালত) ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশের আদালত দেখে, সেই ডিক্রিকে বাধ্যকর ধরা হবে কি না। এর সাধারণ কাঠামো পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনের নীতি ও দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারায়।

১৩ ধারা অনুযায়ী একই পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি বিচারিত কোনো বিষয়ে বিদেশি রায় চূড়ান্ত (কনক্লুসিভ), তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে। সাধারণভাবে সংক্ষেপে বলা হয়, নিচের ক্ষেত্রে বিদেশি রায় চূড়ান্ত ধরা হয় না, যদি তা:

  • উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত না হয়;
  • মামলার মেরিটের ওপর প্রদত্ত না হয়;
  • প্রকাশ্যত আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে হয়, বা যেখানে বাংলাদেশের আইন প্রযোজ্য ছিল সেই আইন স্বীকার করতে অস্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে হয়;
  • স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী কার্যক্রমে প্রদত্ত হয় (যেমন অপর পক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি বা শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি);
  • প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়; বা
  • বাংলাদেশে প্রচলিত কোনো আইন লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করা দাবি সমর্থন করে।

১৪ ধারা অনুযায়ী, বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হলে আদালত অনুমান করে যে বিদেশি রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত দিয়েছে। তাই রায়ের যথাযথভাবে প্রত্যয়িত অনুলিপি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে কঠিন প্রশ্নগুলো সাধারণত এখতিয়ার ও স্বাভাবিক ন্যায়বিচার নিয়ে: বিদেশি আদালত কি এই দম্পতির জন্য উপযুক্ত ফোরাম ছিল? বাংলাদেশে থাকা স্বামী/স্ত্রীকে কি যথাযথভাবে সমন পাঠানো হয়েছিল ও জবাব দেওয়ার সত্যিকারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল? আদালত এমন কোনো আইন প্রয়োগ করেছে কি, যা বাংলাদেশের আইন বিয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মনে করবে? উত্তর ঘটনার ওপর নির্ভর করে, তাই বিদেশি ডিক্রি বাংলাদেশে "সবসময় বৈধ" বা "কখনোই বৈধ নয়" বলে দাবি করলে সতর্ক থাকুন। বিষয়টি বিতর্কিত হলে (যেমন দেনমোহর মামলা, ভরণপোষণ দাবি, উত্তরাধিকার বিরোধ বা দ্বিতীয় বিয়ের ফৌজদারি অভিযোগে) সাধারণত বাংলাদেশের আদালতই স্বীকৃতির প্রশ্ন নিষ্পত্তি করে।

স্বীকৃতির ছক: যুক্তরাজ্যের ডিক্রি, যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্রি, বিদেশে তালাক ও খোলা

নিচের ছকে প্রধান পথগুলোকে সাধারণত কীভাবে দেখা হয় তার ব্যবহারিক সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো। এটি কেবল সাধারণ নির্দেশিকা। প্রতিটি মামলা ঘটনার ওপর নির্ভর করে, এবং বিষয় বিতর্কিত হলে বাংলাদেশের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

পথযেখানে প্রদত্ত সেখানে বৈধ?বাংলাদেশে অবস্থানমুসলিম দম্পতির জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ
যুক্তরাজ্যের আদালতের ডিভোর্স (ফাইনাল অর্ডার / ডিক্রি অ্যাবসোলিউট)হ্যাঁ, ফাইনাল অর্ডার হলে।১৩ ধারা ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনে স্বীকৃত হতে পারে, তবে এখতিয়ার, নোটিশ বা প্রতারণার ভিত্তিতে চ্যালেঞ্জযোগ্য। নিজে নিজে বাংলাদেশের নথি হালনাগাদ করে না।(স্বামী তালাক দিলে) ৭ ধারার তালাক নোটিশ পাঠান এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করুন, অথবা ঘোষণামূলক প্রতিকারের জন্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের ডিভোর্স (ফাইনাল জাজমেন্ট অব ডিসলিউশন)হ্যাঁ, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইনে চূড়ান্ত হলে।উপরের মতোই বিশ্লেষণ। চূড়ান্ত রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি মূল নথি।উপরের মতো। অপর পক্ষকে যথাযথভাবে সমন পাঠানোর প্রমাণ রাখুন।
বিদেশে উচ্চারিত তালাক (মুখে, মেসেজে, বা মসজিদ/ইমামের সামনে, আদালত ছাড়া)যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্যে আদালতি প্রক্রিয়া না হলে অনেক ক্ষেত্রে আইনি ডিভোর্স হিসেবে স্বীকৃত নয়। স্থানীয় আইন যাচাই করুন।চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিয়ে ৯০ দিন (প্রত্যাহার ছাড়া) না গেলে ৭ ধারা অনুযায়ী কার্যকর নয়। নোটিশ না দিলে স্বামীর শাস্তির ঝুঁকি।যথাযথভাবে ৭ ধারার নোটিশ দিন, স্ত্রীকে অনুলিপি পাঠান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করুন।
খোলা (স্ত্রী মুক্তি চান, চুক্তিতে বা আদালতের মাধ্যমে)কীভাবে হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। বিদেশে আদালতি প্রক্রিয়া সাধারণত আদালতের ডিভোর্স হিসেবে গণ্য। শুধু ধর্মীয় খোলার বিদেশে আইনি প্রভাব না-ও থাকতে পারে।বাংলাদেশে বিচারিক বিচ্ছেদ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ ও পারিবারিক আদালতের পদ্ধতির মাধ্যমে। চুক্তিভিত্তিক খোলা লিখিত রাখা এবং দেনমোহরের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।চুক্তি লিখিত করুন, দেনমোহর ও ভরণপোষণের বিষয় উল্লেখ করুন, এবং পারিবারিক আদালতের ডিক্রি বা নিবন্ধনের কথা ভাবুন।

মূল কথা: বিদেশি পথ ও বাংলাদেশি পথ একে অপরের বিকল্প নয় যদি আপনি নিশ্চয়তা চান; দুটো একসঙ্গে চললে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কেন শুধু যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্রিতে বাংলাদেশের রেকর্ড হালনাগাদ হয় না

বিদেশি ডিভোর্স ডিক্রি একটি বিদেশি আদালতের নথি। বাংলাদেশের সরকারি দপ্তর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পায় না, এবং ঢাকায় তা পাঠানোর কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাও নেই। এ কারণেই অনেক দম্পতি বছর পরে আবিষ্কার করেন, বাংলাদেশের রেকর্ডে তাঁরা এখনও বিবাহিত।

  • নিকাহ রেজিস্টার: নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে থাকা বিয়ের এন্ট্রি অপরিবর্তিত থাকে, যতক্ষণ না সেখানে তালাক নথিভুক্ত হয়। পরে কোনো ক্রেতা, ব্যাংক, দূতাবাস বা আদালত রেজিস্টার দেখলে বিদ্যমান বিয়ে দেখতে পারে।
  • এনআইডি: জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারে কিছু ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা থাকে। পরিবর্তনে সাধারণত সহায়ক কাগজসহ আনুষ্ঠানিক সংশোধনের আবেদন লাগে, শুধু বিদেশি ডিক্রি যথেষ্ট নয়।
  • পাসপোর্ট: বাংলাদেশি পাসপোর্টে স্বামী/স্ত্রীর নাম থাকতে পারে। হালনাগাদ বা পুনঃইস্যুতে পাসপোর্ট অফিসের নিজস্ব কাগজপত্রের শর্ত লাগে, যা বদলাতে পারে।
  • আদালতের রেকর্ড: বাংলাদেশে থাকা স্বামী/স্ত্রী পরে দেনমোহর, ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা বা উত্তরাধিকার নিয়ে মামলা করলে আদালত পরীক্ষা করবে বিদেশি ডিক্রি বাধ্যকর ধরা হবে কি না।
  • ইমিগ্রেশন ও স্পনসরশিপ: বিদেশি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ডিক্রি গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু রেকর্ডে অমিল থাকলে বাংলাদেশি ভিসা, বিবাহ নিবন্ধন বা স্পনসরশিপে সমস্যা হতে পারে।

এর অর্থ এই নয় যে আপনার বিদেশি ডিভোর্স মূল্যহীন। এর অর্থ, বাংলাদেশের জন্য সাধারণত একটি অতিরিক্ত ধাপ লাগে, হয় নিবন্ধনসহ তালাক নোটিশ, নয়তো আদালতের ঘোষণা, যাতে কাগজপত্র বিদেশি ডিক্রির সঙ্গে মিলে যায়।

বিদেশ থেকে তালাক নোটিশ পাঠানো বা বিদেশি ডিভোর্স নিবন্ধনের পদ্ধতি

আপনি মুসলিম স্বামী হয়ে বিদেশে থাকলে, বিদেশি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের পদ্ধতি অনুসরণ করাই সাধারণত নিজেকে রক্ষার নিরাপদ উপায়।

  1. তালাকের লিখিত নোটিশ তৈরি করুন। এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নাম, বিয়ের তারিখ ও স্থান থাকবে, এবং স্বামীর স্বাক্ষর থাকবে। অনেকে স্বাক্ষর প্রমাণ সহজ করতে নোটারি করান বা বাংলাদেশ মিশনে সত্যায়িত করান।
  2. সঠিক চেয়ারম্যানকে ঠিকানা দিন। সাধারণত যে এলাকায় স্ত্রী বাস করেন (কিছু ক্ষেত্রে যেখানে বিয়ে নিবন্ধিত) সেই কর্তৃপক্ষ। এলাকা ও অফিসের নাম সময়ে সময়ে বদলেছে, তাই আইনজীবীর মাধ্যমে বা ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করে সঠিক অফিস নিশ্চিত করুন।
  3. স্ত্রীকে অনুলিপি পাঠান। নিবন্ধিত ডাক বা রসিদসহ কুরিয়ারের মতো প্রমাণযোগ্য পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
  4. চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর প্রমাণ রাখুন। ৯০ দিন চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানো থেকে গণনা হয়, তাই পৌঁছানোর তারিখ গুরুত্বপূর্ণ।
  5. সালিশি পরিষদে সাড়া দিন। চেয়ারম্যান পরিষদ গঠন করে পক্ষগুলোকে ডাকলে প্রতিনিধি বা লিখিতভাবে অংশ নিন। পরিষদ উপেক্ষা করলে পরে সমস্যা হতে পারে।
  6. অপেক্ষার সময় শেষে তালাক কার্যকর হয়েছে বলে সনদ বা রেকর্ড চান এবং ১৯৭৪ সালের নিবন্ধন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নথিভুক্ত করান।
  7. রেকর্ড হালনাগাদ করুন: নিবন্ধিত তালাকের কাগজ দিয়ে এনআইডি, পাসপোর্ট এবং সম্পত্তি বা ভিসা সংক্রান্ত রেকর্ড হালনাগাদ করুন।

স্বামী অ্যাটর্নি বা আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠাতে পারেন কি না, এবং বিদেশ থেকে ডাকে পাঠানো নোটিশ চেয়ারম্যান ঠিক কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নির্দিষ্ট অফিস ও বর্তমান চর্চার ওপর নির্ভর করে। অফিসের শর্ত লিখিতভাবে জেনে নিন, শোনা কথায় নির্ভর করবেন না। স্ত্রী তালাকের উদ্যোগ নিলে (যেমন কাবিননামায় লিপিবদ্ধ তালাকের অর্পিত ক্ষমতা, খোলা বা বিচারিক বিচ্ছেদের মাধ্যমে) ধাপগুলো ভিন্ন, তাই আইনি পরামর্শ জরুরি।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

প্রবাসীদের জন্য ধাপে ধাপে চেকলিস্ট

এটিকে কর্মপরিকল্পনা হিসেবে ব্যবহার করুন। বাংলাদেশের জন্য ডিভোর্স সম্পূর্ণ ধরার আগে প্রতিটি ধাপ টিক দিন।

  1. আপনার ব্যক্তিগত আইন চিহ্নিত করুন। মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু বা অন্য। নাগরিকত্ব ও ডমিসাইল লিখে রাখুন।
  2. বিয়ের কাগজ সংগ্রহ করুন। কাবিননামা, নিকাহ নিবন্ধনের রেকর্ড, বিদেশে প্রদত্ত বিয়ের সনদ (যদি থাকে) এবং উভয়ের পাসপোর্টের কপি।
  3. বিদেশি ডিভোর্সের কাগজ নিন। ফাইনাল অর্ডার বা রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি, অপর পক্ষকে সমন পাঠানোর প্রমাণ ও সম্ভব হলে পূর্ণ আদালত নথি।
  4. কে কাকে ডিভোর্স দিচ্ছেন ঠিক করুন। স্বামীর তালাক, স্ত্রীর খোলা বা বিচারিক বিচ্ছেদ, নাকি পারস্পরিক সম্মতি। বাংলাদেশি পথ এর ওপর নির্ভর করে।
  5. ৭ ধারার তালাক নোটিশ পাঠান (মুসলিম স্বামীর ক্ষেত্রে) চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে, এবং প্রমাণ রাখুন।
  6. নির্ধারিত সময় অপেক্ষা করুন এবং সালিশি পরিষদের নোটিশে অংশ নিন।
  7. তালাক নিবন্ধন করুন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে এবং এন্ট্রির অনুলিপি নিন।
  8. সত্যায়নের শর্ত যাচাই করুন। আপনার বিদেশি কাগজের বর্তমান অ্যাপোস্টিল বা লিগ্যালাইজেশন শর্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মিশন থেকে জেনে নিন।
  9. দেনমোহর ও ভরণপোষণ নিষ্পত্তি করুন। অপরিশোধিত দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ ও সন্তানের ভরণপোষণ পরিশোধ বা নথিভুক্ত করুন, রসিদ রাখুন।
  10. সন্তান সংক্রান্ত ব্যবস্থা নথিভুক্ত করুন। হেফাজত, বসবাস ও ভ্রমণের সম্মতি, আদর্শভাবে আদালতের আদেশ বা লিখিত চুক্তিতে।
  11. রেকর্ড হালনাগাদ করুন। এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যাংক ও সম্পত্তির কাগজ, এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানান।
  12. পুনরায় বিয়ে করবেন না বিদেশি ও বাংলাদেশি উভয় ধাপ সম্পূর্ণ হওয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশে বা বিদেশে।

কাগজপত্র, সত্যায়ন ও অ্যাপোস্টিল

বাংলাদেশে ব্যবহৃত বিদেশি কাগজ সাধারণত আসল প্রমাণ করতে হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে নোটারি, নথি প্রদানকারী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রমাণীকরণ, তারপর বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন, অথবা সংশ্লিষ্ট কনভেনশনের পক্ষভুক্ত দেশের ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল। বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের নিয়ম বদলাচ্ছে। শুরু করার আগে বর্তমান অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের শর্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আপনার দেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে যাচাই করুন, এবং শর্ত লিখিতভাবে চান।

সত্যায়ন লাগতে পারে এমন সাধারণ কাগজ:

  • তালাক/ডিভোর্সের চূড়ান্ত ডিক্রি বা রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি;
  • অপর পক্ষকে সমন পাঠানো বা তাঁর অংশগ্রহণের প্রমাণ;
  • বিদেশে ইস্যু করা বিয়ের সনদ;
  • বাংলাদেশে আপনার পক্ষে কাউকে কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (দেখুন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিবন্ধন);
  • পরিচয় ও পাসপোর্টের পাতা, প্রয়োজনে বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদসহ।

মূল কপি ও কয়েকটি প্রত্যয়িত কপি রাখুন। বাংলাদেশের আদালত ও অফিস অনুবাদ চাইতে পারে, এবং সত্যায়নের ধারাবাহিকতা অসম্পূর্ণ থাকা বিদেশি কাগজ প্রত্যাখ্যানের অন্যতম সাধারণ কারণ।

বিদেশি ডিভোর্সের পর দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত

বিদেশি ডিভোর্স বাংলাদেশি মুসলিম বিয়ে থেকে উদ্ভূত আর্থিক ও পিতামাতার দায়িত্ব মুছে দেয় না। এগুলো টিকে থাকে এবং আলাদাভাবে দাবি করা যায়।

  • দেনমোহর: অপরিশোধিত মুয়াজ্জাল বা মুওয়াজ্জাল দেনমোহর স্বামীর কাছে পাওনা ঋণ হিসেবে থাকে। বিদেশি ডিক্রিতে বিয়ে শেষ হলেও স্ত্রী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে তা দাবি করতে পারেন। দেখুন বিদেশ থেকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ দাবি।
  • ভরণপোষণ: বিয়ে চলাকালীন ভরণপোষণ, ইদ্দতকালের ভরণপোষণ এবং সন্তানদের ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী বলবৎযোগ্য থাকে। পরিমাণ ঘটনার ভিত্তিতে আদালত নির্ধারণ করে।
  • সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব: বিরোধ পারিবারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়, যেখানে প্রধান মাপকাঠি শিশুর কল্যাণ, এবং প্রয়োগ হয় অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ ও মুসলিম ব্যক্তিগত আইন। বিদেশি হেফাজত আদেশ বিবেচনায় আসতে পারে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের আদালতকে বাধ্য করে না। পড়ুন অভিভাবক বিদেশে থাকলে সন্তানের হেফাজত এবং সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব গাইড।
  • সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া: অপর অভিভাবকের সম্মতি বা আদালতের আদেশ ছাড়া সন্তানকে বাংলাদেশ থেকে বা অপর অভিভাবকের কাছ থেকে সরিয়ে নিলে গুরুতর আইনি পরিণতি হতে পারে। আগে সম্মতি বা আদেশ নিন।

বিদেশি স্বামী/স্ত্রী বা বিদেশি নাগরিকত্বের সন্তান থাকলে দেখুন বিদেশি স্বামী/স্ত্রীসহ প্রবাসীদের বিবাহ নিবন্ধন।

পুনরায় বিয়ের ঝুঁকি: ডিভোর্স নিবন্ধিত না হলে দ্বিবিবাহের আশঙ্কা

অনিবন্ধিত ডিভোর্সের সবচেয়ে গুরুতর বাস্তব ঝুঁকি পুনরায় বিয়ে। বাংলাদেশের আইনে প্রথম বিয়ে বহাল ধরা হলে দ্বিতীয় বিয়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি পরিণতি ডেকে আনতে পারে:

  • দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকাকালে পুনরায় বিয়ে নিয়ে। বাংলাদেশে থাকা প্রথম স্বামী/স্ত্রী অভিযোগ করতে পারেন, এবং প্রথম বিয়ে শেষ হয়েছিল কি না তা মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
  • মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারা প্রথম বিয়ে বহাল থাকাকালে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়েতে বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নিয়ম অমান্য করলে পরিণতির বিধান রাখে।
  • দেওয়ানি প্রভাব: উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ও বৈধতা সংক্রান্ত বিরোধ, এবং দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন বা নতুন স্বামী/স্ত্রীকে স্পনসর করতে অসুবিধা।

এ ধরনের মামলায় বিদেশি ডিক্রি শক্তিশালী আত্মপক্ষ সমর্থন হতে পারে, কিন্তু গ্রেপ্তার বা মামলা হওয়ার পরই স্বীকৃতির যুক্তি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করা উচিত নয়। পুনরায় বিয়ের আগে বাংলাদেশের ধাপগুলো সম্পন্ন করলে এই ঝুঁকি অনেক কমে। ফৌজদারি দিক নিয়ে পড়ুন তালাক ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে ও ৪৯৪ ধারা এবং স্বামী নিখোঁজ থাকলে তালাক ও পুনর্বিবাহ।

খ্রিস্টান, হিন্দু ও অন্যান্য পক্ষ: উচ্চস্তরের টীকা

উপরে ৭ ধারার তালাক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের এন্ট্রি সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা মুসলিম বিয়ের জন্য। আপনি মুসলিম না হলে:

  • খ্রিস্টান: বিবাহবিচ্ছেদ আইন ১৮৬৯ দ্বারা পরিচালিত, যেখানে কারণ ও আদালতি পদ্ধতি নির্ধারিত। বিদেশি ডিক্রি একইভাবে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩ ধারায় বিবেচিত হতে পারে, এবং সংশ্লিষ্ট চার্চ বা রেজিস্ট্রারের রেকর্ডও হালনাগাদ করতে হতে পারে।
  • হিন্দু: অবস্থান প্রধানত ধর্মীয় ও প্রথাগত আইন দ্বারা পরিচালিত, এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে বিধিবদ্ধ বিধান সীমিত। বাংলাদেশি হিন্দুদের মধ্যে বিদেশি ডিভোর্সের স্বীকৃতি জটিল হতে পারে এবং যোগ্য আইনজীবীর কাছে যাচাই করা উচিত।
  • ভিন্ন ধর্ম বা বিদেশি স্বামী/স্ত্রীর বিয়ে: বিয়ে এবং তার সমাপ্তির ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য তা বিয়ে কোথায় ও কীভাবে হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। পেশাদার পরামর্শ জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয়।

সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারিক নিয়ম একই: বিদেশি ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি নিন, বাংলাদেশের কোন রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে তা দেখুন, এবং ধরে নেবেন না যে শুধু বিদেশি ডিক্রিই যথেষ্ট।

এড়িয়ে চলার সাধারণ ভুলগুলো

  • মৌখিক তালাক বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজকে পূর্ণ ডিভোর্স ধরা। ৭ ধারায় চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ ও অপেক্ষার সময় লাগে।
  • ৯০ দিন বিদেশি ডিক্রির তারিখ থেকে গোনা, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে না গুনে।
  • স্ত্রীকে অনুলিপি না পাঠানো। যে নোটিশ তাঁর কাছে পৌঁছায়নি তা পরে সহজেই আক্রমণযোগ্য।
  • ধরে নেওয়া যে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্রি বাংলাদেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হয়। হয় না। আবেদন করে রেকর্ড হালনাগাদ করতে হয়।
  • বাংলাদেশি ধাপ শেষ হওয়ার আগে পুনরায় বিয়ে করা, এবং পরে দ্বিবিবাহের মামলার মুখে পড়া।
  • সালিশি পরিষদের নোটিশ উপেক্ষা করা, যা প্রতিকূল সিদ্ধান্ত বা বিলম্ব ডেকে আনতে পারে।
  • দেনমোহর ও ভরণপোষণ ভুলে যাওয়া। ডিভোর্স অপরিশোধিত দেনমোহর মুছে দেয় না।
  • দুর্বল অনুবাদ বা সত্যায়নহীন কাগজ ব্যবহার, যা অফিস ও আদালত প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
  • নোটিশ পৌঁছানোর বা বিদেশি সমন জারির প্রমাণ না রাখা।
  • লাইসেন্সবিহীন দালালকে টাকা দেওয়া, যে প্রকৃত রেকর্ড ছাড়াই দ্রুত নিবন্ধনের প্রতিশ্রুতি দেয়। সবসময় আসল নিকাহ রেজিস্টারে এন্ট্রি যাচাই করুন।

গুরুত্বপূর্ণ দাবিত্যাগ (ডিসক্লেইমার)

এই লেখাটি সাধারণ আইনি তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। আইন, ফরম, ফি ও অফিসের চর্চা বদলায়, এবং যেকোনো ডিভোর্স প্রশ্নের ফল নির্ভর করে আপনার ধর্ম, নাগরিকত্ব, ডমিসাইল, ডিক্রি প্রদানকারী আদালত এবং আপনার হাতে থাকা কাগজপত্রের ওপর। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস বা যোগ্য আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করুন।

এটি বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য একটি সাধারণ নির্দেশিকা, আপনার নিজস্ব কাগজের ওপর পরামর্শের বিকল্প নয়। বিদেশি বা বাংলাদেশি আদালতে মামলা চলমান থাকলে বা ফৌজদারি অভিযোগ হলে দ্রুত ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নিন। সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য দেখুন প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের ডিভোর্স কি বাংলাদেশে বৈধ?

আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইন ও দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালত তা স্বীকার করতে পারে, তবে এটি স্বয়ংক্রিয় নয়। এখতিয়ার, যথাযথ নোটিশের অভাব বা প্রতারণার মতো কারণে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়, এবং এটি নিজে নিজে বাংলাদেশের রেকর্ড হালনাগাদ করে না।

যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চারিত তালাক কি বাংলাদেশে বৈধ?

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও স্ত্রীকে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং প্রত্যাহার ছাড়া ৯০ দিন পার হওয়ার পরই তালাক কার্যকর হয়। শুধু মৌখিক বা মেসেজে তালাক তা পূরণ করে না। যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে এর আইনি অবস্থান স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করে, তাই উভয় দেশের আইন যাচাই করুন।

তালাক কার্যকর হতে কত সময় লাগে?

৭ ধারা অনুযায়ী সাধারণত চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন, এবং স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে গর্ভাবস্থা শেষ হওয়ার পর যদি তা পরে হয়। ৯০ দিন বিদেশি ডিক্রির তারিখ থেকে গণনা হয় না।

বিদেশ থেকে কি তালাকের নোটিশ পাঠানো যায়?

সাধারণত হ্যাঁ, নোটিশ লিখিতভাবে তৈরি করে বিদেশ থেকে পাঠানো যায়, চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর প্রমাণসহ। বিদেশ থেকে আসা নোটিশ স্থানীয় অফিস কীভাবে গ্রহণ করে তা ভিন্ন হতে পারে, তাই শর্ত নিশ্চিত করুন এবং আইনজীবী নেওয়ার কথা ভাবুন।

আমার ডিভোর্সের কাগজের জন্য কি অ্যাপোস্টিল বা সত্যায়ন লাগবে?

বিদেশি কাগজে প্রায়ই নোটারি, প্রমাণীকরণ ও সত্যায়ন, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল লাগে। নিয়ম বদলাচ্ছে, তাই বর্তমান অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের শর্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মিশন থেকে জেনে নিন।

বিদেশি ডিভোর্সের পরও কি স্ত্রী দেনমোহর ও ভরণপোষণ পাবেন?

হ্যাঁ। অপরিশোধিত দেনমোহর ঋণ হিসেবে থাকে, এবং ইদ্দত ও সন্তানের ভরণপোষণসহ ভরণপোষণের অধিকার বিদেশি ডিক্রিতে মুছে যায় না। স্ত্রী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে দাবি করতে পারেন।

শুধু বিদেশি ডিভোর্স ডিক্রি থাকলে কি আমি আবার বিয়ে করতে পারি?

এটি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের আইন বা অপর পক্ষ প্রথম বিয়ে বহাল ধরলে দ্বিতীয় বিয়েতে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অভিযোগ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার সমস্যা হতে পারে। আগে বাংলাদেশের ধাপগুলো সম্পন্ন করুন।

বিদেশি হেফাজত আদেশ কি বাংলাদেশে কার্যকর হবে?

বাংলাদেশের পারিবারিক আদালত শিশুর কল্যাণের ভিত্তিতে হেফাজত নির্ধারণ করে। বিদেশি আদেশ বিবেচনা করতে পারে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দ্বারা আবদ্ধ নয়।

স্ত্রী ডিভোর্সের উদ্যোগ নিলে কী হবে?

স্ত্রী কাবিননামায় লিপিবদ্ধ তালাকের অর্পিত ক্ষমতা, খোলা, বা মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর অধীনে বিচারিক বিচ্ছেদের মাধ্যমে বিয়ে শেষ করতে পারেন। ধাপ ও রেকর্ড ভিন্ন, তাই আইনি পরামর্শ নিন।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০