লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-10-10 · ১৫ মিনিট পড়ুন
যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের ডিভোর্স ডিক্রি, কিংবা স্থানীয় ইমামের সামনে উচ্চারিত তালাক, বাংলাদেশের আইন, অফিস ও আদালতের চোখে সবসময় বিয়ে শেষ করে না। এই পিলার গাইডে প্রবাসীদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা, ১৯৭৪ সালের নিবন্ধন আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ এবং দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে। লিখেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>। নির্দিষ্ট মামলার সহায়তার জন্য চেম্বারে কল বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--accent);font-weight:600;">01712655546</a> নম্বরে।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অনেক বাংলাদেশি মনে করেন, বিদেশি আদালত ডিভোর্স দিলে বা স্থানীয় ইমামের সামনে স্বামী তালাক উচ্চারণ করলেই বিয়ে সবখানে শেষ হয়ে গেছে। বাস্তবে বিষয়টি আরও স্তরবিশিষ্ট। একটি ডিভোর্স যে দেশে হয়েছে সেখানে বৈধ হলেও বাংলাদেশে তা অনিশ্চিত, অসম্পূর্ণ বা নথিভুক্ত না-ও থাকতে পারে।
সৎ উত্তর হলো: বিদেশি আদালতের ডিক্রি আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনের নীতি এবং দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতে স্বীকৃত হতে পারে, কিন্তু এই স্বীকৃতি স্বয়ংক্রিয় নয়, তা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং শুধু বিদেশি ডিক্রি দিয়ে বাংলাদেশের কোনো সরকারি নথি বদলায় না। মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপদ পথ হলো বিদেশি ডিভোর্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা, যাতে দুই দেশেই বিয়ের সমাপ্তি পরিষ্কার থাকে।
প্রাথমিক ধারণার জন্য ইংরেজিতে আমাদের সংক্ষিপ্ত লেখাগুলো দেখতে পারেন: প্রবাসীদের বিদেশে ডিভোর্স এবং প্রবাসীদের ডিভোর্স পদ্ধতি। অন্যান্য সেবার জন্য দেখুন প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব।
বাংলাদেশে সবার জন্য একটিমাত্র অভিন্ন বিবাহবিচ্ছেদ আইন নেই। পারিবারিক বিষয় নির্ধারিত হয় ব্যক্তিগত আইন দিয়ে, যা পক্ষগুলোর ধর্মের ওপর নির্ভর করে:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ১ ধারায় বলা আছে, এটি মুসলিম নাগরিকদের ওপর প্রযোজ্য, এবং মূল পাঠে বলা হয়েছে নাগরিকরা যেখানেই থাকুন না কেন। এ কারণে লন্ডন বা নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক মুসলিম স্বামীর কাছ থেকে বিদেশি আদালত বা ইমাম পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও আদালত ৭ ধারার নোটিশ পদ্ধতি অনুসরণ আশা করতে পারে। নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে (যেমন যিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বা বিদেশে ডমিসাইলড) আদালত কীভাবে প্রয়োগ করবে তা ঘটনা ও আইনের প্রশ্ন, তাই আইনজীবীর সঙ্গে যাচাই করুন।
বাংলাদেশের তালাক আইনের মূল হলো ৭ ধারা। সহজ ভাষায়, সাধারণ ব্যাখ্যায়:
প্রবাসীদের জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তালাকের মৌখিক উচ্চারণ (মুখে, টেক্সট মেসেজে, ইমেইলে বা বিদেশি ইমামের সামনে) নিজে নিজে ৭ ধারার শর্ত পূরণ করে না; নোটিশ ও অপেক্ষার সময়ই আইনি পদ্ধতি। দ্বিতীয়ত, ৯০ দিন গণনা শুরু হয় চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানো থেকে, স্বামী যেদিন কথা বলেছেন বা বিদেশি নথিতে সই করেছেন সেদিন থেকে নয়।
বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া কীভাবে চলে তা জানতে পড়ুন তালাক নোটিশ প্রক্রিয়া এবং তালাকনামা লেখার নিয়ম।
তালাকের নিবন্ধন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ ও এর বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) রেকর্ড রাখেন। বাস্তবে ধারণাটি হলো, যে এলাকায় বিয়ে নিবন্ধিত বা স্ত্রী বাস করেন, সেই এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাকের রেকর্ড থাকা উচিত। ফরম, প্রক্রিয়া ও ফি বর্তমান বিধি ও স্থানীয় অফিস অনুযায়ী নির্ধারিত, তাই সরাসরি যাচাই করুন।
বিদেশি আদালত (যেমন ইংল্যান্ডের আদালত বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের আদালত) ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশের আদালত দেখে, সেই ডিক্রিকে বাধ্যকর ধরা হবে কি না। এর সাধারণ কাঠামো পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনের নীতি ও দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারায়।
১৩ ধারা অনুযায়ী একই পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি বিচারিত কোনো বিষয়ে বিদেশি রায় চূড়ান্ত (কনক্লুসিভ), তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে। সাধারণভাবে সংক্ষেপে বলা হয়, নিচের ক্ষেত্রে বিদেশি রায় চূড়ান্ত ধরা হয় না, যদি তা:
১৪ ধারা অনুযায়ী, বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হলে আদালত অনুমান করে যে বিদেশি রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত দিয়েছে। তাই রায়ের যথাযথভাবে প্রত্যয়িত অনুলিপি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতির ক্ষেত্রে কঠিন প্রশ্নগুলো সাধারণত এখতিয়ার ও স্বাভাবিক ন্যায়বিচার নিয়ে: বিদেশি আদালত কি এই দম্পতির জন্য উপযুক্ত ফোরাম ছিল? বাংলাদেশে থাকা স্বামী/স্ত্রীকে কি যথাযথভাবে সমন পাঠানো হয়েছিল ও জবাব দেওয়ার সত্যিকারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল? আদালত এমন কোনো আইন প্রয়োগ করেছে কি, যা বাংলাদেশের আইন বিয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মনে করবে? উত্তর ঘটনার ওপর নির্ভর করে, তাই বিদেশি ডিক্রি বাংলাদেশে "সবসময় বৈধ" বা "কখনোই বৈধ নয়" বলে দাবি করলে সতর্ক থাকুন। বিষয়টি বিতর্কিত হলে (যেমন দেনমোহর মামলা, ভরণপোষণ দাবি, উত্তরাধিকার বিরোধ বা দ্বিতীয় বিয়ের ফৌজদারি অভিযোগে) সাধারণত বাংলাদেশের আদালতই স্বীকৃতির প্রশ্ন নিষ্পত্তি করে।
নিচের ছকে প্রধান পথগুলোকে সাধারণত কীভাবে দেখা হয় তার ব্যবহারিক সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো। এটি কেবল সাধারণ নির্দেশিকা। প্রতিটি মামলা ঘটনার ওপর নির্ভর করে, এবং বিষয় বিতর্কিত হলে বাংলাদেশের আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
| পথ | যেখানে প্রদত্ত সেখানে বৈধ? | বাংলাদেশে অবস্থান | মুসলিম দম্পতির জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাজ্যের আদালতের ডিভোর্স (ফাইনাল অর্ডার / ডিক্রি অ্যাবসোলিউট) | হ্যাঁ, ফাইনাল অর্ডার হলে। | ১৩ ধারা ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইনে স্বীকৃত হতে পারে, তবে এখতিয়ার, নোটিশ বা প্রতারণার ভিত্তিতে চ্যালেঞ্জযোগ্য। নিজে নিজে বাংলাদেশের নথি হালনাগাদ করে না। | (স্বামী তালাক দিলে) ৭ ধারার তালাক নোটিশ পাঠান এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করুন, অথবা ঘোষণামূলক প্রতিকারের জন্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন। |
| যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের ডিভোর্স (ফাইনাল জাজমেন্ট অব ডিসলিউশন) | হ্যাঁ, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইনে চূড়ান্ত হলে। | উপরের মতোই বিশ্লেষণ। চূড়ান্ত রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি মূল নথি। | উপরের মতো। অপর পক্ষকে যথাযথভাবে সমন পাঠানোর প্রমাণ রাখুন। |
| বিদেশে উচ্চারিত তালাক (মুখে, মেসেজে, বা মসজিদ/ইমামের সামনে, আদালত ছাড়া) | যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্যে আদালতি প্রক্রিয়া না হলে অনেক ক্ষেত্রে আইনি ডিভোর্স হিসেবে স্বীকৃত নয়। স্থানীয় আইন যাচাই করুন। | চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিয়ে ৯০ দিন (প্রত্যাহার ছাড়া) না গেলে ৭ ধারা অনুযায়ী কার্যকর নয়। নোটিশ না দিলে স্বামীর শাস্তির ঝুঁকি। | যথাযথভাবে ৭ ধারার নোটিশ দিন, স্ত্রীকে অনুলিপি পাঠান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করুন। |
| খোলা (স্ত্রী মুক্তি চান, চুক্তিতে বা আদালতের মাধ্যমে) | কীভাবে হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। বিদেশে আদালতি প্রক্রিয়া সাধারণত আদালতের ডিভোর্স হিসেবে গণ্য। শুধু ধর্মীয় খোলার বিদেশে আইনি প্রভাব না-ও থাকতে পারে। | বাংলাদেশে বিচারিক বিচ্ছেদ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ ও পারিবারিক আদালতের পদ্ধতির মাধ্যমে। চুক্তিভিত্তিক খোলা লিখিত রাখা এবং দেনমোহরের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। | চুক্তি লিখিত করুন, দেনমোহর ও ভরণপোষণের বিষয় উল্লেখ করুন, এবং পারিবারিক আদালতের ডিক্রি বা নিবন্ধনের কথা ভাবুন। |
মূল কথা: বিদেশি পথ ও বাংলাদেশি পথ একে অপরের বিকল্প নয় যদি আপনি নিশ্চয়তা চান; দুটো একসঙ্গে চললে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বিদেশি ডিভোর্স ডিক্রি একটি বিদেশি আদালতের নথি। বাংলাদেশের সরকারি দপ্তর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পায় না, এবং ঢাকায় তা পাঠানোর কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাও নেই। এ কারণেই অনেক দম্পতি বছর পরে আবিষ্কার করেন, বাংলাদেশের রেকর্ডে তাঁরা এখনও বিবাহিত।
এর অর্থ এই নয় যে আপনার বিদেশি ডিভোর্স মূল্যহীন। এর অর্থ, বাংলাদেশের জন্য সাধারণত একটি অতিরিক্ত ধাপ লাগে, হয় নিবন্ধনসহ তালাক নোটিশ, নয়তো আদালতের ঘোষণা, যাতে কাগজপত্র বিদেশি ডিক্রির সঙ্গে মিলে যায়।
আপনি মুসলিম স্বামী হয়ে বিদেশে থাকলে, বিদেশি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের পদ্ধতি অনুসরণ করাই সাধারণত নিজেকে রক্ষার নিরাপদ উপায়।
স্বামী অ্যাটর্নি বা আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠাতে পারেন কি না, এবং বিদেশ থেকে ডাকে পাঠানো নোটিশ চেয়ারম্যান ঠিক কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নির্দিষ্ট অফিস ও বর্তমান চর্চার ওপর নির্ভর করে। অফিসের শর্ত লিখিতভাবে জেনে নিন, শোনা কথায় নির্ভর করবেন না। স্ত্রী তালাকের উদ্যোগ নিলে (যেমন কাবিননামায় লিপিবদ্ধ তালাকের অর্পিত ক্ষমতা, খোলা বা বিচারিক বিচ্ছেদের মাধ্যমে) ধাপগুলো ভিন্ন, তাই আইনি পরামর্শ জরুরি।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
এটিকে কর্মপরিকল্পনা হিসেবে ব্যবহার করুন। বাংলাদেশের জন্য ডিভোর্স সম্পূর্ণ ধরার আগে প্রতিটি ধাপ টিক দিন।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত বিদেশি কাগজ সাধারণত আসল প্রমাণ করতে হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে নোটারি, নথি প্রদানকারী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রমাণীকরণ, তারপর বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন, অথবা সংশ্লিষ্ট কনভেনশনের পক্ষভুক্ত দেশের ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল। বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের নিয়ম বদলাচ্ছে। শুরু করার আগে বর্তমান অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের শর্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আপনার দেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে যাচাই করুন, এবং শর্ত লিখিতভাবে চান।
সত্যায়ন লাগতে পারে এমন সাধারণ কাগজ:
মূল কপি ও কয়েকটি প্রত্যয়িত কপি রাখুন। বাংলাদেশের আদালত ও অফিস অনুবাদ চাইতে পারে, এবং সত্যায়নের ধারাবাহিকতা অসম্পূর্ণ থাকা বিদেশি কাগজ প্রত্যাখ্যানের অন্যতম সাধারণ কারণ।
বিদেশি ডিভোর্স বাংলাদেশি মুসলিম বিয়ে থেকে উদ্ভূত আর্থিক ও পিতামাতার দায়িত্ব মুছে দেয় না। এগুলো টিকে থাকে এবং আলাদাভাবে দাবি করা যায়।
বিদেশি স্বামী/স্ত্রী বা বিদেশি নাগরিকত্বের সন্তান থাকলে দেখুন বিদেশি স্বামী/স্ত্রীসহ প্রবাসীদের বিবাহ নিবন্ধন।
অনিবন্ধিত ডিভোর্সের সবচেয়ে গুরুতর বাস্তব ঝুঁকি পুনরায় বিয়ে। বাংলাদেশের আইনে প্রথম বিয়ে বহাল ধরা হলে দ্বিতীয় বিয়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি পরিণতি ডেকে আনতে পারে:
এ ধরনের মামলায় বিদেশি ডিক্রি শক্তিশালী আত্মপক্ষ সমর্থন হতে পারে, কিন্তু গ্রেপ্তার বা মামলা হওয়ার পরই স্বীকৃতির যুক্তি দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করা উচিত নয়। পুনরায় বিয়ের আগে বাংলাদেশের ধাপগুলো সম্পন্ন করলে এই ঝুঁকি অনেক কমে। ফৌজদারি দিক নিয়ে পড়ুন তালাক ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে ও ৪৯৪ ধারা এবং স্বামী নিখোঁজ থাকলে তালাক ও পুনর্বিবাহ।
উপরে ৭ ধারার তালাক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের এন্ট্রি সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা মুসলিম বিয়ের জন্য। আপনি মুসলিম না হলে:
সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারিক নিয়ম একই: বিদেশি ডিক্রির প্রত্যয়িত অনুলিপি নিন, বাংলাদেশের কোন রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে তা দেখুন, এবং ধরে নেবেন না যে শুধু বিদেশি ডিক্রিই যথেষ্ট।
এই লেখাটি সাধারণ আইনি তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। আইন, ফরম, ফি ও অফিসের চর্চা বদলায়, এবং যেকোনো ডিভোর্স প্রশ্নের ফল নির্ভর করে আপনার ধর্ম, নাগরিকত্ব, ডমিসাইল, ডিক্রি প্রদানকারী আদালত এবং আপনার হাতে থাকা কাগজপত্রের ওপর। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস বা যোগ্য আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করুন।
এটি বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য একটি সাধারণ নির্দেশিকা, আপনার নিজস্ব কাগজের ওপর পরামর্শের বিকল্প নয়। বিদেশি বা বাংলাদেশি আদালতে মামলা চলমান থাকলে বা ফৌজদারি অভিযোগ হলে দ্রুত ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নিন। সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য দেখুন প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব।
আন্তর্জাতিক বেসরকারি আইন ও দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালত তা স্বীকার করতে পারে, তবে এটি স্বয়ংক্রিয় নয়। এখতিয়ার, যথাযথ নোটিশের অভাব বা প্রতারণার মতো কারণে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়, এবং এটি নিজে নিজে বাংলাদেশের রেকর্ড হালনাগাদ করে না।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও স্ত্রীকে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং প্রত্যাহার ছাড়া ৯০ দিন পার হওয়ার পরই তালাক কার্যকর হয়। শুধু মৌখিক বা মেসেজে তালাক তা পূরণ করে না। যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে এর আইনি অবস্থান স্থানীয় আইনের ওপর নির্ভর করে, তাই উভয় দেশের আইন যাচাই করুন।
৭ ধারা অনুযায়ী সাধারণত চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন, এবং স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে গর্ভাবস্থা শেষ হওয়ার পর যদি তা পরে হয়। ৯০ দিন বিদেশি ডিক্রির তারিখ থেকে গণনা হয় না।
সাধারণত হ্যাঁ, নোটিশ লিখিতভাবে তৈরি করে বিদেশ থেকে পাঠানো যায়, চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর প্রমাণসহ। বিদেশ থেকে আসা নোটিশ স্থানীয় অফিস কীভাবে গ্রহণ করে তা ভিন্ন হতে পারে, তাই শর্ত নিশ্চিত করুন এবং আইনজীবী নেওয়ার কথা ভাবুন।
বিদেশি কাগজে প্রায়ই নোটারি, প্রমাণীকরণ ও সত্যায়ন, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল লাগে। নিয়ম বদলাচ্ছে, তাই বর্তমান অ্যাপোস্টিল ও লিগ্যালাইজেশনের শর্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মিশন থেকে জেনে নিন।
হ্যাঁ। অপরিশোধিত দেনমোহর ঋণ হিসেবে থাকে, এবং ইদ্দত ও সন্তানের ভরণপোষণসহ ভরণপোষণের অধিকার বিদেশি ডিক্রিতে মুছে যায় না। স্ত্রী বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে দাবি করতে পারেন।
এটি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের আইন বা অপর পক্ষ প্রথম বিয়ে বহাল ধরলে দ্বিতীয় বিয়েতে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অভিযোগ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার সমস্যা হতে পারে। আগে বাংলাদেশের ধাপগুলো সম্পন্ন করুন।
বাংলাদেশের পারিবারিক আদালত শিশুর কল্যাণের ভিত্তিতে হেফাজত নির্ধারণ করে। বিদেশি আদেশ বিবেচনা করতে পারে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দ্বারা আবদ্ধ নয়।
স্ত্রী কাবিননামায় লিপিবদ্ধ তালাকের অর্পিত ক্ষমতা, খোলা, বা মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯-এর অধীনে বিচারিক বিচ্ছেদের মাধ্যমে বিয়ে শেষ করতে পারেন। ধাপ ও রেকর্ড ভিন্ন, তাই আইনি পরামর্শ নিন।