লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-10-10 · ১৫ মিনিট পড়ুন
আপনি যদি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হন, তাহলে আপনার দুটি পরিচয় ও দুই দেশের নিয়ম একসঙ্গে চলে। এই পিলার গাইডে ব্যাখ্যা করা হয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ কীভাবে বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, NVR স্ট্যাম্প ও দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্টের পার্থক্য কী, ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে কীভাবে আবেদন করবেন, এবং সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, উত্তরাধিকার, নামজারি, এনআইডি, ই-পাসপোর্ট ও মার্কিন কর রিপোর্টিংয়ে এর প্রভাব। লিখেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>। নিজের কাগজপত্রের বিষয়ে সহায়তার জন্য দেখুন <a href="/nrb-legal-help" style="color:var(--accent);font-weight:600;">প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব</a>।
বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ইন্টারনেটের বেশিরভাগ লেখা সাধারণ প্রবাসীদের জন্য লেখা। কিন্তু আপনি যদি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হন, আপনার অবস্থানের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। আপনি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নিয়েছেন (ন্যাচারালাইজেশন), অথবা সেখানেই জন্মেছেন, অথবা পিতামাতার সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি পথে বাংলাদেশের অফিসে একটু ভিন্ন প্রশ্ন ওঠে: আপনি কি এখনও বাংলাদেশের নাগরিক, নাকি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক, নাকি দুটোই?
এই প্রশ্ন শুধু তাত্ত্বিক নয়। এর উত্তরের ওপর নির্ভর করে আপনি ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন কি না, সম্পত্তি কেনা বা উত্তরাধিকারে পাওয়ার সময় সাব-রেজিস্ট্রার বা ভূমি অফিস আপনাকে নাগরিক হিসেবে গণ্য করবে কি না, কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন, এবং ভোট, এনআইডি বা ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কী করণীয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা সাধারণত মুখের কথা নয়, স্ট্যাম্প, এনডোর্সমেন্ট বা পুরোনো পাসপোর্টের মতো কাগজ দেখতে চান।
এই লেখায় আইনি কাঠামো সহজ ভাষায় বুঝিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ধাপগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সাধারণ ধারণার জন্য দেখুন প্রবাসীদের জমি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা। আপনার নিজের কাগজপত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিন, কারণ তারিখ ও নথির ছোট পার্থক্যেও উত্তর বদলে যেতে পারে।
আপনার ক্ষেত্রে দুটি আলাদা আইনি ব্যবস্থা প্রযোজ্য, এবং একটি অন্যটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের দিক। মার্কিন আইনে একাধিক দেশের নাগরিকত্ব রাখা নিষিদ্ধ নয়। নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় আপনাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ছাড়তে হয় না, যদিও শপথবাক্যে বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগের কথা থাকে। বাস্তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ একে অন্য নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়ার বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখে না বলেই সাধারণভাবে বোঝা যায়। মার্কিন নাগরিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ও বের হতে আপনাকে মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে, এবং বিদেশে থাকলেও মার্কিন আইন, বিশেষ করে কর আইন, আপনার ওপর প্রযোজ্য থাকবে। শপথ বা মার্কিন মর্যাদা নিয়ে নির্দিষ্ট দুশ্চিন্তা থাকলে মার্কিন অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশের দিক। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের ভিত্তি নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১, যা স্বাধীনতার পর অভিযোজিত হয়েছে, এবং পরবর্তী আদেশ, সংশোধনী ও সরকারি নীতি। কেউ জন্মসূত্রে নাকি পরে নাগরিক হয়েছেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রচলিত আইনের ওপর। পুরোনো ব্যবস্থায় স্বেচ্ছায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিলে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব শেষ হয়ে যেতে পারত। পরে সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকত্ব নিলেও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল রাখার নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির কারণেই অনেক বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিকত্ব নেওয়ার পরও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত থাকেন।
ব্যবহারিক ফল হলো, বাংলাদেশ ঠিক করে কে তার নাগরিক, আর যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করে কে তার নাগরিক। প্রতিটি দেশ সাধারণত নিজের কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রমাণই গ্রহণ করে। মার্কিন পাসপোর্ট মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ, কিন্তু এটি নিজে থেকে বাংলাদেশের ভূমি অফিসকে প্রমাণ করে না যে আপনি এখনও বাংলাদেশি নাগরিক। সেই প্রমাণ আসে নিচে বর্ণিত বাংলাদেশি এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া থেকে।
সাধারণ অবস্থান হলো, বাংলাদেশ তার নাগরিকদের নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকত্ব রাখার অনুমতি দেয়, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব না হারিয়ে, এবং যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে সেই দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে বোঝা যায়। দেশের তালিকা, শর্ত ও আনুষ্ঠানিকতা সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নীতিতে নির্ধারিত হয় এবং তা পরিবর্তন হতে পারে। পুরোনো ব্লগ, দালাল বা আত্মীয়ের কথার ওপর নির্ভর করবেন না। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস বা আপনার এলাকার কনস্যুলেটের কাছ থেকে বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করুন।
সাধারণ নীতি থেকে কয়েকটি বিষয় দাঁড়ায়:
আপনার পরিবারের ক্ষেত্রে কোনো বিষয় অস্পষ্ট হলে আবেদনের আগে সংক্ষিপ্ত লিখিত পরামর্শ নেওয়া সাধারণত ভুল আবেদন পরে শোধরানোর চেয়ে সাশ্রয়ী।
অনেকে NVR ও দ্বৈত নাগরিকত্বকে একই জিনিস ভাবেন। দুটি সম্পর্কিত, কিন্তু এক নয়, এবং বাংলাদেশের কোনো অফিস কাগজ চাইলে এই পার্থক্য কাজে লাগে।
NVR (No Visa Required)। এটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিদেশি পাসপোর্টে দেওয়া এনডোর্সমেন্ট। এটি ভিসা ছাড়া প্রবেশের অনুমতি হিসেবে কাজ করে এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে দেখায় যে বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার স্বীকৃত সম্পর্ক আছে। এটি যে বিদেশি পাসপোর্টে বসানো হয়েছে, তার সঙ্গেই যুক্ত। সেই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে বা বদলালে এনডোর্সমেন্ট নিজে থেকে নতুন পাসপোর্টে যায় না।
দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্ট। এটি হলো স্বীকৃতি যে আপনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব রেখেও বাংলাদেশের নাগরিক আছেন। বর্তমান চর্চা অনুযায়ী এটি বাংলাদেশি পাসপোর্টে বা বিদেশি পাসপোর্টে লিপিবদ্ধ হতে পারে। এটি আপনার নাগরিক মর্যাদার কথা বলে, শুধু প্রবেশের অনুমতির নয়।
সম্পত্তি ও কাগজপত্রের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব: NVR স্ট্যাম্প উত্তর দেয় "এই ব্যক্তি কি ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন?" আর দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্ট উত্তর দেয় "এই ব্যক্তি কি এখনও বাংলাদেশের নাগরিক?" লেনদেনের ধরন অনুযায়ী ব্যাংক, ভূমি অফিস বা নিবন্ধন অফিস একটি, অন্যটি, বা দুটোই চাইতে পারে। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসকে জিজ্ঞাসা করুন তারা ঠিক কোন কাগজ গ্রহণ করবে, এবং আপনার পুরোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি (থাকলে) সঙ্গে রাখুন।
NVR আছে মানেই দ্বৈত নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত, বা উল্টোটা ধরে নেবেন না। পাসপোর্টে আসলে কী লেখা আছে তা পড়ুন এবং সেই পাতার পরিষ্কার স্ক্যান রাখুন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন সাধারণত ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস অথবা আপনার বসবাসের এলাকা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলার অফিসের মাধ্যমে করা হয়। বর্তমান ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ডাকযোগে আবেদনের পদ্ধতি, প্রক্রিয়ার ধরন ও ফি দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকে। এখানে আমরা কোনো ফি বা সময় উল্লেখ করছি না, কারণ এগুলো বদলায়; পুরোনো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
প্রক্রিয়ায় সাধারণত যা থাকে:
শুধু দূতাবাসের সরকারি মাধ্যম ও সেখানে প্রকাশিত ফি-র নির্দেশনা ব্যবহার করুন। দূতাবাসের বাইরে ব্যক্তিগত অর্থের বিনিময়ে এনডোর্সমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাবে সতর্ক থাকুন, কারণ জাল স্ট্যাম্পের ঝুঁকি বাস্তব এবং জাল এনডোর্সমেন্ট আপনাকে ফৌজদারি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এটিকে কাজের চেকলিস্ট হিসেবে ব্যবহার করুন। কিছু জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি ধাপ মিলিয়ে নিন।
নিচের ছকে বাংলাদেশি আমেরিকান বাংলাদেশে ঢুকতে ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লেনদেন করতে যে তিনটি সাধারণ পথ ব্যবহার করেন, তার তুলনা দেওয়া হলো। এটি সাধারণ তুলনা; নির্ভর করার আগে বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন।
| বিষয় | মার্কিন পাসপোর্ট + NVR | বাংলাদেশি পাসপোর্ট (স্বীকৃত দ্বৈত নাগরিকদের জন্য) | মার্কিন পাসপোর্ট + বাংলাদেশি ভিসা |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশে মর্যাদা | স্বীকৃত সম্পর্কযুক্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি পাসপোর্টধারী | জাতীয় পাসপোর্টে ভ্রমণকারী নাগরিক | বিদেশি নাগরিক |
| প্রবেশ | এনডোর্সমেন্ট অনুযায়ী ভিসামুক্ত প্রবেশ | নাগরিক হিসেবে প্রবেশ | প্রতিটি উদ্দেশ্য ও মেয়াদের জন্য বৈধ ভিসা লাগে |
| ভূমি ও ব্যাংক অফিসে প্রমাণ | প্রায়ই বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গৃহীত; কিছু অফিস দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্টও চায় | নাগরিকত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, যদি আপনার জন্য প্রযোজ্য হয় | সবচেয়ে দুর্বল; বিদেশি মর্যাদা কিছু সম্পত্তি লেনদেন সীমিত করতে পারে |
| মার্কিন সীমান্তে ব্যবহার | যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ও বের হতে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে | যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে বা বের হতে ব্যবহৃত হয় না | মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে |
| পাসপোর্টের মেয়াদের ওপর নির্ভরতা | এনডোর্সমেন্ট যে পাসপোর্টে বসানো, তার সঙ্গে যুক্ত | বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও তার মেয়াদের সঙ্গে যুক্ত | ভিসার মেয়াদ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত |
| সাধারণ ঝুঁকি | মেয়াদোত্তীর্ণ বা বদলানো পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট না আনা | জাতীয় পাসপোর্ট এমনভাবে ব্যবহার করা যা মার্কিন নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক | মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা এবং ভূমি আইনে বিদেশি হিসেবে গণ্য হওয়া |
ছকের উদ্দেশ্য এই নয় যে একটি পথ সবসময় সেরা। এটি দেখায় যে কাউন্টারে কোন কাগজ রাখা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে একই ব্যক্তির সঙ্গে ভিন্ন অফিস ভিন্ন আচরণ করতে পারে।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
সম্পত্তি। স্বীকৃত বাংলাদেশি নাগরিক সাধারণত বিদেশি নাগরিকের চেয়ে জমি ধারণ ও হস্তান্তরে শক্ত অবস্থানে থাকেন, কারণ একাধিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত নিয়ম নাগরিক ও অনাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করে। বাংলাদেশি মর্যাদা স্বীকৃত না হলে মার্কিন নাগরিক কিছু ধরনের জমি ও হস্তান্তরে বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন। ধরে নেবেন না; টাকা দেওয়ার আগে জমির শ্রেণি ও আপনার মর্যাদা যাচাই করুন।
ব্যাংক হিসাব। বাংলাদেশের ব্যাংক সাধারণত পাসপোর্ট, বিদেশে বসবাসের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য হলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ দেখে প্রবাসী ধরনের হিসাব খোলে। আপনি কোন ধরনের হিসাব (প্রবাসী হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা আবাসিক হিসাব) খুলতে পারবেন তা নির্ভর করে আপনার নথিভুক্ত মর্যাদা, ব্যাংকের নীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মের ওপর। ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন কোন কাগজ লাগবে, এবং সেই উত্তর সংরক্ষণ করুন।
উত্তরাধিকার। বাংলাদেশে উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয় মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত আইনে: মুসলমানদের জন্য মুসলিম আইন, অন্যদের জন্য প্রযোজ্য হিন্দু বা খ্রিস্টান নিয়ম। মার্কিন নাগরিক হলে সেই আইনে আপনার পারিবারিক অংশ বদলায় না। যা বদলাতে পারে তা হলো কাগজপত্র, কারণ আপনাকে প্রায়ই পরিচয় ও সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে, উপস্থিত থাকতে না পারলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে হবে, এবং সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার অফিসকে সন্তুষ্ট করতে হবে। পূর্ণ চিত্রের জন্য পড়ুন বিদেশে থাকা সদস্যের সম্পত্তি উত্তরাধিকার ও ফরায়েজ বণ্টন।
লেনদেন যাই হোক, বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার সংযোগ দেখায় এমন সব নথি এক ফোল্ডারে রাখুন: পুরোনো পাসপোর্ট, এনডোর্সমেন্টের পাতা, জন্মনিবন্ধন এবং পারিবারিক সনদ।
বাংলাদেশে জমির লেনদেনের ধাপ হলো: মালিকানার যাচাই, দলিল, নিবন্ধন, এবং তারপর ভূমি অফিসে আপনার নামে নামজারি। নাগরিক বা বিদেশি হিসেবে আপনার মর্যাদা এর কয়েকটি ধাপে প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে নিরাপদ চর্চা হলো দলিলে সই করার আগে, পরে নয়, আপনার কাগজের মর্যাদা নিষ্পত্তি করা।
ভোট ও সরকারি পদ। বাংলাদেশে ভোটাধিকার নির্ভর করে নাগরিক হওয়া, ভোটার হওয়ার বয়স এবং ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত থাকার ওপর। প্রবাসী বা ডাকযোগে ভোটের নিয়ম, থাকলে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে এবং তা সময়ের সঙ্গে বদলায়। নির্বাচিত পদের ক্ষেত্রে সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেওয়া বা আনুগত্য প্রকাশ-সংক্রান্ত অযোগ্যতা আছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম বা সরকারি নিয়োগের কথা ভাবলে কাজ করার আগে নির্দিষ্ট পরামর্শ নিন; দ্বৈত মর্যাদায় সেই পথ খোলা থাকে ধরে নেবেন না।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। এনআইডি নাগরিকদের জন্য ইস্যু হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস বা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেন, কিন্তু দ্বৈত নাগরিকের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজ সরাসরি নিশ্চিত করতে হবে। এনআইডির তথ্য পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন, কারণ অমিল ব্যাংক, ভূমি অফিস ও নামজারিতে সমস্যা তৈরি করে।
ই-পাসপোর্ট। বাংলাদেশ বিদেশের দূতাবাসসহ মেশিন-রিডেবল ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট রাখতে চাইলে দ্বৈত নাগরিককে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল ও স্বীকৃত আছে। আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্ট লাগবে কি না এবং কোন কাগজ লাগবে তা দূতাবাসকে জিজ্ঞাসা করুন।
মনে রাখুন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাংলাদেশে যাওয়া-আসার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ও বের হতে আপনাকে এখনও মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকরা সাধারণত বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর করযোগ্য, যেখানেই বাস করুন। বাংলাদেশে জমি, ব্যাংক হিসাব বা ভাড়ার আয় থাকলে মার্কিন রিটার্ন দাখিলের দায় শেষ হয় না। এটি সাধারণ তথ্য, মার্কিন কর পরামর্শ নয়; বিদেশি সম্পদ বোঝেন এমন মার্কিন কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের দিকে আয়কর, ভূমি উন্নয়ন কর ও মূলধনী লাভ-সংক্রান্ত নিয়মও প্রযোজ্য এবং তা উপরের মার্কিন দায় থেকে আলাদা। দুই ব্যবস্থার জন্যই রসিদ, রেমিট্যান্সের রেকর্ড ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট রাখুন।
বাংলাদেশি আমেরিকানদের বেশিরভাগ সমস্যাই আইনি নয়, কাগজপত্রের সমস্যা। কয়েকটি অভ্যাস তা এড়াতে সাহায্য করে:
বাংলাদেশে থাকাকালীন কোনো সমস্যা, যেমন কাগজ হারানো বা ইমিগ্রেশনের প্রশ্ন, হলে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাসের সেবা নিন, আর ঘটনাস্থলে সমাধানের জন্য কোনো অনানুষ্ঠানিক অর্থ দেবেন না।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও নথি-সংক্রান্ত গাইড পাবেন আমাদের প্রবাসী আইনি সহায়তা হাব-এ।
এই লেখা সাধারণ আইনি তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। নাগরিকত্ব, অভিবাসন, সম্পত্তি ও কর-সংক্রান্ত নিয়ম বদলায় এবং আপনার তথ্য উপরের উদাহরণ থেকে ভিন্ন হতে পারে। ফি, ফরম, যোগ্য দেশের তালিকা, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে এবং আগাম নোটিস ছাড়াই পরিবর্তিত হতে পারে। এই গাইডের কোনো অংশ অনুযায়ী কাজ করার আগে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিস থেকে বর্তমান শর্ত যাচাই করুন এবং যোগ্য বাংলাদেশি আইনজীবী, মার্কিন অভিবাসন আইনজীবী ও মার্কিন কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এখানে কিছুই আইনজীবী ও মক্কেলের সম্পর্ক তৈরি করে না।
দুটি দেশই নিজ নিজ আইনে নিজেদের নাগরিক চিহ্নিত করে। মার্কিন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ নয়, এবং বাংলাদেশের নীতিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি আছে, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে ধরা হয়। আপনার অবস্থান নির্ভর করে কীভাবে ও কখন প্রতিটি নাগরিকত্ব পেয়েছেন এবং কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না তার ওপর। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বর্তমান তালিকা ও শর্ত নিশ্চিত করুন।
NVR (No Visa Required) হলো এমন এনডোর্সমেন্ট, যা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে বিদেশি পাসপোর্টে ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব এনডোর্সমেন্ট লিপিবদ্ধ করে যে আপনি অন্য নাগরিকত্ব রেখেও বাংলাদেশি নাগরিক আছেন। ব্যাংক বা ভূমি অফিস একটি বা অন্যটি চাইতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট অফিসকে জিজ্ঞাসা করুন তারা কোনটি গ্রহণ করে।
আবেদন সাধারণত ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস বা আপনার মার্কিন অঙ্গরাজ্য যে বাংলাদেশি কনস্যুলার অফিসের আওতায় পড়ে সেখানে করা হয়। দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরম ও নির্দেশনা ব্যবহার করুন এবং বর্তমান ফি ও পরিশোধের পদ্ধতি সেখান থেকেই নিশ্চিত করুন, কারণ তা বদলায়।
স্বীকৃত বাংলাদেশি নাগরিক সাধারণত বিদেশি নাগরিকের চেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকেন, কারণ সম্পত্তির নিয়মে নাগরিক ও অনাগরিকের পার্থক্য আছে। আপনার অধিকার নির্ভর করে নথিভুক্ত মর্যাদা ও জমির শ্রেণির ওপর, তাই টাকা দেওয়ার আগে কাগজ নিষ্পত্তি করুন ও মালিকানা যাচাই করুন। প্রবাসীদের জমি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের গাইডটি দেখুন।
মার্কিন নাগরিকরা সাধারণত বিশ্বব্যাপী আয়ে করযোগ্য এবং সীমার ওপর নির্ভর করে বিদেশি হিসাব ও নির্দিষ্ট বিদেশি সম্পদ (FBAR ও FATCA) জানাতে হতে পারে। ভাড়ার আয়, বিক্রির অর্থ এবং কিছু উপহার বা উত্তরাধিকারও মার্কিন রিপোর্টিং ঘটাতে পারে। অর্থ পাওয়া বা স্থানান্তরের আগে বিদেশি সম্পদ বোঝেন এমন মার্কিন কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
এনডোর্সমেন্ট যে পাসপোর্টে বসানো, তার সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন পাসপোর্ট নবায়নের সময় এনডোর্সমেন্ট কীভাবে এগিয়ে নেবেন তা বাংলাদেশ দূতাবাসকে জিজ্ঞাসা করুন এবং বাংলাদেশে যাওয়ার সময় পুরোনো পাসপোর্টও সঙ্গে রাখুন।
ভোটের জন্য নাগরিকত্ব, ভোটার হওয়ার বয়স ও ভোটার তালিকায় নিবন্ধন লাগে, এবং প্রবাসী ভোটের নিয়ম নির্বাচন কমিশন ঠিক করে। সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে বিদেশি নাগরিকত্ব বা আনুগত্য-সংক্রান্ত সরকারি পদের অযোগ্যতা আছে। নির্বাচনে দাঁড়ানো বা সরকারি নিয়োগ নেওয়া যাবে ধরে নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট পরামর্শ নিন।
এটি সন্তানের জন্মের সময় বাবা-মায়ের মর্যাদা ও তখনকার নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। আবেদন তৈরির আগে দূতাবাসের কাছ থেকে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজ নিশ্চিত করুন।